০৪:৪৭ পি.এম
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিক আদর্শ এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রশিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা ও নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে কর্মরত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রশিক্ষকদের নিজেদের সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন আদর্শ প্রশিক্ষকের সফলতা হলো নিজের চেয়ে দক্ষ ও আদর্শবান জনবল তৈরি করা।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি জানান, পিটি, ড্রিল ও অস্ত্রচালনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সময়োপযোগী কারিগরি, কর্মমুখী ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বিবেচনায় একাডেমিতে 6G ওয়েল্ডিং, মেসন, শাটারিং, মোটর ড্রাইভিং, জাপানি ভাষা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, দেশের বিশাল যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনকেন্দ্রিক বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সামাজিক উন্নয়ন, গ্রামীণ অগ্রগতি ও আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। ১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাশ্রম ও নিঃস্বার্থ জনসেবার মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন।
বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা এক হাতে অস্ত্র ধারণ করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্য হাতে অংশ নেবে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে।’
আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে
তিনি তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে সদস্যদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আধুনিক ও বহুমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তি দেশের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন