মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ এম
বরিশাল সদর উপজেলায় অবৈধ বালু ব্যবসা প্রতিরোধ ও মা ইলিশ সংরক্ষণে পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচে অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগে বেলাল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কীর্তনখোলা, কালাবদর ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মাছ আহরণের দায়ে আটজনকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল রাতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচে অবৈধ বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনের ১৫(২) ধারায় বেলাল হাওলাদারকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি রোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অন্যদিকে, মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে কীর্তনখোলা, কালাবদর ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণের দায়ে আটজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনা হয়। পরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় তাঁদের মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ নদী ও জলজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ