ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোমস্তাপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ


গোমস্তাপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়ার প্রেক্ষিতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১) থানায় মামলা করেছেন, যেখানে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও, টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কিনেছিলেন। এ জন্য তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি টাকা চাইলে আল আমিন নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন এবং মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রুবেল দাবি করেছেন, হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং এ সময় পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রুবেলকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও দেখা গেছে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে আল আমিন উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।

আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’

এদিকে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এমএইচ

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

প্রায় ২০০ যাত্রী বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন, বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে। সমুদ্রের জীবনযাপনের আশায় কেউ ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছেন, আবার কেউ বিক্রি করেছেন নিজেদের সব সম্পদ। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের স্বপ্নে হঠাৎ ছেদ পড়েছে। বর্তমানে কম্বোডিয়ায় আটকা পড়েছেন এসব যাত্রী।

ভিলা ভি রেসিডেন্সেস, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রমোদতরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, হঠাৎ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যাত্রীদেরকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে, নিজেদের দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভিলা ভি রেসিডেন্সেস কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের কার্যক্রম কম্বোডিয়ায় স্থগিত করা হয়েছে।

কোম্পানির তথ্যমতে, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আর্থিকভাবে টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কম্বোডিয়ার প্রিয়াহ সিহানুক প্রদেশের উপগভর্নর লং দিমাঞ্চে জানিয়েছেন, যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার জন্য মাত্র সাত ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাহামার পতাকাবাহী জাহাজটি ২৩ অক্টোবর থাইল্যান্ড থেকে ২০৩ জন যাত্রী ও ১৫৬ জন ক্রু নিয়ে কম্বোডিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ভিয়েতনামের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল জাহাজটির।

লং দিমাঞ্চে বলেন, ‘হঠাৎ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশের কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও দূর থেকে কাজ করা মানুষ নিজ দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আবাসনহীন হয়ে পড়েছেন।’

কিছু যাত্রী কম্বোডিয়া ছেড়ে বিমানে অন্যত্র চলে গেছেন। অন্যরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সিহানুকভিলের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন।

২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটির ৩১ অক্টোবর জ্বালানি নিয়ে বন্দর ছাড়ার কথা ছিল। তবে যাত্রীদের নিয়ে এর পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

‘আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে’

জাহাজটির দুই যাত্রী ল্যানেট ক্যানেন ও জোহান বোদিন স্বামী-স্ত্রী। তারা বিবিসিকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাদের বলা হয়, দুপুর ২টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে।

এই দম্পতি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট সম্পর্কে যাত্রীরা আগে থেকেই কিছুটা জানতেন। তবে কোনো বিনিয়োগকারী এসে শেষ পর্যন্ত তাদের সমুদ্রযাত্রা বাঁচাবেন, সেই আশা তারা ছাড়েননি।

তারা বলেন, ‘যদিও এমন কিছু ঘটতে পারে, তার ইঙ্গিত ছিল, তবু বাস্তবে যখন তা ঘটল, আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’

তারা আরও বলেন, ‘একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে যাত্রীরা অনেককে জড়িয়ে ধরেছেন, কেঁদেছেন এবং কী ঘটেছে, তা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ তবে আকস্মিকভাবে যাত্রা থেমে গেলেও জাহাজে কাটানো সময়কে সার্থক বলে মনে করেন তারা।

বিবিসিকে এই দম্পতি বলেন, ‘ওডিসিতে কাটানো আমাদের দুই বছর দারুণ ছিল। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং পথে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বগুলো আমরা উপভোগ করেছি।’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য কোনো দেশে যাওয়ার আগে তারা কিছুদিন কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনা করেছেন।

আরেক যাত্রী হলি হেনেসি জানিয়েছেন, জাহাজটি আবারও যাত্রা শুরু করবে, এমন আশায় তিনি কম্বোডিতে থেকে যেতে চান। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘তারা যতক্ষণ না বলছে যে সব শেষ, একেবারেই শেষ, ততক্ষণ আমি হাল ছাড়ছি না।’

কেবিনের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

ভিলা ভি ওডিসি ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে বিশ্বভ্রমণে যাত্রা শুরু করে। সাড়ে তিন বছর ধরে চলার পরিকল্পনা করা এই ভ্রমণে প্রায় ১৫০টি দেশ ঘোরার কথা ছিল। যাত্রীরা জাহাজের কেবিন কিনে অথবা ভাড়া নিয়ে সেটিকে নিজেদের স্থায়ী আবাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারতেন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কেবিনের দাম ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর ভাড়ার কেবিনের মাসিক খরচ শুরু হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ ডলার থেকে। জাহাজটিতে ছিল রেস্তোরাঁ, বার, সুইমিং পুল, বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং পিকলবল খেলার কোর্ট।

তবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। মেরামতের কাজের কারণে বেলফাস্ট থেকে যাত্রা শুরু করতে চার মাস দেরি হয়েছিল। এ ছাড়া জাহাজটির সর্বোচ্চ ৬৫০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকলেও কখনোই সেই সংখ্যক যাত্রী ওঠেননি।

ক্রুজবিষয়ক ব্লগার ও যাত্রী র‌্যান্ডি ক্যাসিংহাম জানিয়েছেন, জাহাজটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দা ছিলেন। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলার পর তাদের যথাযথ সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়।

ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের ভ্রমণ কার্যক্রম আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আগেই ভ্রমণসূচির গতি কমিয়েছিল এবং বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানের সময় বাড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রয়োজনীয় ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এত বড় অঙ্কের ব্যয়বৃদ্ধি সরাসরি বাসিন্দাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ঘাটতি বর্তমান পরিচালনব্যবস্থাকে অসহনীয় আর্থিক চাপে ফেলেছে।’

আগামী ৬০ দিন আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেনি তারা। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার প্রক্রিয়া সমন্বয় এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা খুঁজে পেতেও সহায়তা করার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।

সমুদ্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্নে নিজেদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করা যাত্রীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত আবাসন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারপরও কেউ কেউ আশা করছেন, একদিন আবারও যাত্রা শুরু করবে ওডিসি।

হলি হেনেসির ভাষায়, সমুদ্রে স্বাধীনভাবে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতার পর সাধারণ জীবনে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। তবে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় সময় কাটানোও খুব খারাপ কিছু নয়।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মণিরামপুরে ইনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের ৪ সদস্যকে দাফন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


মণিরামপুরে ইনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের ৪ সদস্যকে দাফন

যশোর, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চার সদস্যকে যশোরের মণিরামপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি চারটি কবরে সমাহিত করা হয়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

গত ১৯ অক্টোবর সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার ফলে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু ঘটে। আজ সকাল সাতটার দিকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। বিকেল তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার আয়োজন করা হয়।

তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরির কারণে তিনি পরিবারসহ মিরপুরে বসবাস করতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে তিনি ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

তুহিনের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, আগুনে মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ডিএনএ নমুনা দেন তুহিনের বাবা মতিয়ার রহমান। আট দিন পর সোমবার ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে ছোট ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে মতিয়ার রহমান বর্তমানে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। দশ বছর আগে তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন।

তুহিনের মামা খায়রুল আলম বলেন, এই আকস্মিক মৃত্যুতে মতিয়ার রহমান মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম। জমিটি বৈধ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন এবং আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে নিজের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমি থেকে ফসল লুট, হুমকি-ধামকি ও অপপ্রচারের অভিযোগও তুলেছেন।
 
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
 
শফিকুল ইসলামের দাবি, বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৫৯২ নম্বর দাগের জমি তিনি সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে বৈধ দলিলমূলে ক্রয় করেছেন। পরে পিরোজপুরের বিজ্ঞ আদালত থেকে ডিক্রি লাভ করে আইন অনুযায়ী নিজের নামে জমি রেকর্ডভুক্ত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
 
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার ভোগদখলীয় জমি থেকে জোরপূর্বক ফসল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পিরোজপুরের আদালতে এমপি ৩৩৯/২৫ ও সি আর ৩৮/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ টুটুল আইচের নেতৃত্বে জমিতে শীতলা মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
 
অন্যদিকে, সমুদয়কাঠী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দির কমিটির দাবি, মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য ১৯৬২ সালে ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের দাবি, সরকারি সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 
মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০১৬ সালে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার আরজিতে সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলেও ওই দলিলের সীমানা ও দাগে মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ ছিল না বলে দাবি করেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত না করেই একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে।
 
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শফিকুল ইসলাম জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদ শুরু করেন। তার নামজারি রেকর্ডে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও তিনি পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করছেন বলে দাবি করেন টুটুল আইচ। চলতি বছর জমিতে পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং জমিটি শীতলা মায়ের মন্দিরের বলে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। প্রকৃত রেকর্ড ও কাগজপত্র দেখাতে পারলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
 
এদিকে, জমি নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্দির কমিটি।
 
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সমুদয়কাঠী বাজারে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও জমির শরিকদের পক্ষে মনোজ বিশ্বাস। এ সময় জমি উদ্ধারে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
 
জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই জমির দলিল, খতিয়ান, আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চাওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় নিরাপদ সড়ক দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


বরগুনায় নিরাপদ সড়ক দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

বরগুনা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে, যেখানে প্রতিপাদ্য ছিল "নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।"

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আ. রহমান এবং বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক সৌরভ কুমার সাহা।

এতে বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের পরিবারকে ৪০ লাখ টাকা, পঙ্গু দুইজনকে ৩ লাখ করে এবং আহত ৫ জনকে এক লাখ করে মোট ৫১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%