বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলি উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় এবং এতে অন্তত ৬ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় শহর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ফলে এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ। শহরের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেঙ্কো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি আবাসিক ভবনের নিকট এসে পড়ে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ৫৯৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনেও রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কিপার জানিয়েছেন, মলদোভা সীমান্তের স্টারোকোজাচে আন্তর্জাতিক সড়ক চেকপয়েন্টে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হন। এই হামলার পর ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী চেকপয়েন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
যুদ্ধের অবসানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিন ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, ওয়াশিংটন এখন ভূমির বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করে নিচ্ছে এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা করছে। লাভরভের মতে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নরওয়ে সফর করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৃক্ষ রোপন করি, সবুজ দেশ গড়ি, উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ার প্রত্য্যয় নিয়ে লালুয়া ইউনিয়নে লালুয়া জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৭২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), নদী- খাল রক্ষা অধিকার আন্দোলন সংগঠন ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আয়োজনে এ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে বিদ্যালয় অঙ্গনে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এ গাছের চারা বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় প্রধন শিক্ষক অবনী কুমার রায়, লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা এর কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, ওয়াটার কিপার্স কুয়াকাটা প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি, আমরা কলাপাড়াবাসীর সংগঠক নজরুল ইসলাম, লালুয়া জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্লাটেনিয়ার্স ক্লাব সদস্যবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আম, কাঠাল, জাম, আমলকি ও পেয়ারা গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এসময় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ জানায়, একটা কাঠাল গাছের চারা পেয়েছে। বাড়িতে যথাযথভাবে রোপণ করব। পরিচর্য্যা করব। গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখবো। ফল খেতে পারব। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপনের বিকল্প নেই বলেও এ শিক্ষার্থীর মতামত। গাছের চারা বিতরণকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় আজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবুল বশার মিনা (৫৫) নামের একব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পিংগলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
মৃত আবুল বশার মিনা জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় পিংগলিয়া গ্রামের বাবু মিনার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বশার মিনা মাঠে কৃষি কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পর শুকানোর জন্য কাপড় নাড়তে উঠানে টানানো জিআই তারে হাত দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ওই জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিবারের লোকজন আবুল বশর মিনাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিম ও মধ্য অঞ্চলে অবস্থিত মহারাষ্ট্র রাজ্যের অমরাবতী ও বর্ধা জেলায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা মানুষখেকো এক বাঘিনির মৃত্যু ঘটেছে। চারজনকে হত্যা করার পর বন দফতরের একটি বিশেষ দল বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করে ধরে ফেলে। তবে, পরে তার জ্ঞান আর ফিরে আসেনি। বাঘিনিটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখন রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে বাঘিনিটির হামলায় চারজনের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৭৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ১৭ আগস্ট, ৫৫ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি ২৭ আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের ৬ ও ৭ তারিখে এক তরুণী ও এক কৃষক মারা যান।
এরপর বাঘিনিটিকে ধরতে বন দফতর ও মহারাষ্ট্র পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। একটি বিশেষ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করা হয়। ড্রোনের সাহায্যে বাঘিনিটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে সোমবার সিরাজগাঁও কসবায় বাঘিনিটির সন্ধান পাওয়া যায়। বন দফতরের বিশেষ দল সেটিকে ঘুমপাড়ানি ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করে। পরিকল্পনা ছিল বাঘিনিটিকে নাগপুরের একটি বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার। তবে, সিরাজগাঁও থেকে নাগপুর যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগায়, মাঝপথে বাঘিনিটির জ্ঞান ফেরানোর প্রয়োজন ছিল। এ কারণে প্রথমে কাছাকাছি একটি বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নেয়ার পরও বাঘিনিটির জ্ঞান ফেরেনি। পরে তার মৃত্যু ঘটে।
বাঘিনির মৃত্যুর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, কী কারণে সেটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, বাঘিনিটিকে অচেতন অবস্থায় জঙ্গল থেকে উদ্ধারের একটি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকা বাঘিনির মাথায় সাদা রঙের প্লাস্টিকজাতীয় কিছু রয়েছে। পরে বনকর্মীরা সেটিকে তুলে খাঁচায় নিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় চলতি বছরে নির্মাণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান সম্ভবত এই স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি সুরক্ষিত রাখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় নির্মাণ তৎপরতার একটি স্পষ্ট উল্লম্ফন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা ছয় বছরের স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে একচেটিয়াভাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে দেওয়া হয়। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন, যা তেহরানের প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি সুরক্ষিত রাখার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
সেন্ট্রিফিউজ সরানোর আশঙ্কা
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরান ভবিষ্যতে এই স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা করতে পারি।” তিনি আরও দাবি করেন, স্থাপনাটিতে কারা চলাচল করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, গ্রানাইট পাথরের বিশাল পাহাড়ের নিচে নির্মিত এই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন লক্ষ্যবস্তু। এমনকি পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমাগুলোও পাহাড়ের এত গভীরে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
সিএসআইএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনই একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা নয়, যা বর্তমান প্রজন্মের প্রচলিত অস্ত্রের নাগালের বাইরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গভীর ভূগর্ভে হামলার নতুন উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার নতুন সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত মূলত অন্যান্য ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি বা ডিটিআরএ নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জে একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাকেন্দ্র মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১২ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করে।
চুক্তির নথিতে বলা হয়, দ্রুত উদ্ভূত হুমকির বিরুদ্ধে গোপন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সেখানে একটি ‘লাইভ-ফায়ার টেস্ট’ পরিচালনা করা হবে। নথিটি ফেডারেল ডেটাবেজে ২৭ ফেব্রুয়ারি আপলোড করা হয়—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর এক দিন আগে।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি সময়-সংবেদনশীল নির্দেশনার কারণে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পরীক্ষার পরিকল্পনার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সবচেয়ে গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলার কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা এবং সম্ভবত নির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পরিস্থিতি অনুকরণ করা।
আগের হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি কিছু স্থাপনা। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।
সেই হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও অত্যন্ত গভীরে অবস্থিত কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের জানান, ইসফাহানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুধু প্রবেশপথ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। কারণ পেন্টাগনের ধারণা ছিল, তাদের বর্তমান বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা ওই স্থাপনাটির মূল ভূগর্ভস্থ অংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বাঙ্কার-বিধ্বংসী অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বা এমওপি। তবে আরও গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম নতুন প্রজন্মের একটি পেনিট্রেটর বোমা তৈরির কাজ চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন অস্ত্রটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরির প্রাথমিক চুক্তি দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুনেও নতুন এই অস্ত্র তৈরিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করে মার্কিন বিমান বাহিনী।
হোয়াইট স্যান্ডসে রহস্যজনক পরীক্ষা
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস এলাকায় একটি দূরবর্তী পরীক্ষাস্থলে খননকাজ শুরু হয়। স্থানটি ডিটিআরএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড পরিচালনা করে। সেখানে গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর ওপর অস্ত্রের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।
চুক্তির সময়সূচির সঙ্গে স্যাটেলাইটে দেখা নির্মাণকাজের সময়ের মিল পাওয়া গেছে। ফেডারেল চুক্তির নথি অনুযায়ী, পেট কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারি কাজের প্রাথমিক ব্যয়ের হিসাব দেয় এবং পরদিন চুক্তিটি পায়। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই এলাকায় খননকাজ চলতে দেখা যায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খননকৃত মাটির স্তূপ ধীরে ধীরে বড় হতে দেখা গেলেও পরে তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো হোয়াইট স্যান্ডসের পরীক্ষাস্থলটিও গ্রানাইট শিলার মধ্যে নির্মিত। তবে সেখানে পরিকল্পিত অস্ত্র পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, কিংবা স্যাটেলাইটে দেখা কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সিএনএন। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্যও করেনি।
হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আগে থেকেই কার্যকর পরিকল্পনা রয়েছে। গত গ্রীষ্মে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন বিবেচনাধীন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় প্রচলিত বোমাগুলোর কয়েকটি ব্যবহার করার কথা ছিল। তবে এসব বোমা পাহাড়ের যথেষ্ট গভীরে প্রবেশ করে ভেতরে থাকা সম্ভাব্য পারমাণবিক সরঞ্জাম বা অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এদিকে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের বিভিন্ন বিভাগ সম্প্রতি দ্রুতগতির বিশেষ পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।
পিকঅ্যাক্সে কী তৈরি করছে ইরান?
সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি উদ্দেশ্যের যেকোনও একটির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কেন্দ্র, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র অথবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনও কার্যক্রমের নিরাপদ স্থাপনা।
এর মধ্যে ইউরেনিয়াম ধাতুতে রূপান্তরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল পারমাণবিক কার্যক্রমও থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নির্মাণকাজের ধরন বদলেছে। প্রথম দিকে ব্যাপক খননকাজ চললেও বর্তমানে কার্যক্রম সম্ভবত স্থাপনাটির অভ্যন্তরীণ নির্মাণ এবং বাইরের অংশ আরও শক্তিশালী করার দিকে চলে গেছে।
চলতি বছর পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। এছাড়া সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ উঁচু ও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ সড়ক পাকা করা, প্রবেশপথের আশপাশে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং সুড়ঙ্গ খননের সময় বের হওয়া মাটি সমতল করে সরিয়ে নেওয়ার কাজও হয়েছে।
এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপযোগী নয়? তবে সিএসআইএসের বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থাপনাটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজ থেকে ধারণা করা যায়, এটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে যদি এর উদ্দেশ্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হয়, তাহলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এখনও সেই ধরনের কার্যক্রম শুরু করার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে ইরান যদি ভবিষ্যতে তার পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাহাড়ের গভীরে সরিয়ে নেয়, তাহলে সেটি ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এমন স্থাপনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বোমারও সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ