ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটির নির্মাণ তৎপরতা


স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটির নির্মাণ তৎপরতা

ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় চলতি বছরে নির্মাণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান সম্ভবত এই স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি সুরক্ষিত রাখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় নির্মাণ তৎপরতার একটি স্পষ্ট উল্লম্ফন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা ছয় বছরের স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে একচেটিয়াভাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে দেওয়া হয়। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন, যা তেহরানের প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি সুরক্ষিত রাখার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।

সেন্ট্রিফিউজ সরানোর আশঙ্কা

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরান ভবিষ্যতে এই স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা করতে পারি।” তিনি আরও দাবি করেন, স্থাপনাটিতে কারা চলাচল করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, গ্রানাইট পাথরের বিশাল পাহাড়ের নিচে নির্মিত এই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন লক্ষ্যবস্তু। এমনকি পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমাগুলোও পাহাড়ের এত গভীরে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সিএসআইএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনই একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা নয়, যা বর্তমান প্রজন্মের প্রচলিত অস্ত্রের নাগালের বাইরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

গভীর ভূগর্ভে হামলার নতুন উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার নতুন সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত মূলত অন্যান্য ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি বা ডিটিআরএ নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জে একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাকেন্দ্র মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১২ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করে।

চুক্তির নথিতে বলা হয়, দ্রুত উদ্ভূত হুমকির বিরুদ্ধে গোপন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সেখানে একটি ‘লাইভ-ফায়ার টেস্ট’ পরিচালনা করা হবে। নথিটি ফেডারেল ডেটাবেজে ২৭ ফেব্রুয়ারি আপলোড করা হয়—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর এক দিন আগে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি সময়-সংবেদনশীল নির্দেশনার কারণে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পরীক্ষার পরিকল্পনার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সবচেয়ে গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলার কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা এবং সম্ভবত নির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পরিস্থিতি অনুকরণ করা।

আগের হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি কিছু স্থাপনা। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।

সেই হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও অত্যন্ত গভীরে অবস্থিত কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের জানান, ইসফাহানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুধু প্রবেশপথ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। কারণ পেন্টাগনের ধারণা ছিল, তাদের বর্তমান বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা ওই স্থাপনাটির মূল ভূগর্ভস্থ অংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বাঙ্কার-বিধ্বংসী অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বা এমওপি। তবে আরও গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম নতুন প্রজন্মের একটি পেনিট্রেটর বোমা তৈরির কাজ চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন অস্ত্রটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরির প্রাথমিক চুক্তি দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুনেও নতুন এই অস্ত্র তৈরিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করে মার্কিন বিমান বাহিনী।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

হোয়াইট স্যান্ডসে রহস্যজনক পরীক্ষা

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস এলাকায় একটি দূরবর্তী পরীক্ষাস্থলে খননকাজ শুরু হয়। স্থানটি ডিটিআরএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড পরিচালনা করে। সেখানে গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর ওপর অস্ত্রের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।

চুক্তির সময়সূচির সঙ্গে স্যাটেলাইটে দেখা নির্মাণকাজের সময়ের মিল পাওয়া গেছে। ফেডারেল চুক্তির নথি অনুযায়ী, পেট কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারি কাজের প্রাথমিক ব্যয়ের হিসাব দেয় এবং পরদিন চুক্তিটি পায়। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই এলাকায় খননকাজ চলতে দেখা যায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খননকৃত মাটির স্তূপ ধীরে ধীরে বড় হতে দেখা গেলেও পরে তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো হোয়াইট স্যান্ডসের পরীক্ষাস্থলটিও গ্রানাইট শিলার মধ্যে নির্মিত। তবে সেখানে পরিকল্পিত অস্ত্র পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, কিংবা স্যাটেলাইটে দেখা কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সিএনএন। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্যও করেনি।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আগে থেকেই কার্যকর পরিকল্পনা রয়েছে। গত গ্রীষ্মে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন বিবেচনাধীন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় প্রচলিত বোমাগুলোর কয়েকটি ব্যবহার করার কথা ছিল। তবে এসব বোমা পাহাড়ের যথেষ্ট গভীরে প্রবেশ করে ভেতরে থাকা সম্ভাব্য পারমাণবিক সরঞ্জাম বা অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

এদিকে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের বিভিন্ন বিভাগ সম্প্রতি দ্রুতগতির বিশেষ পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

পিকঅ্যাক্সে কী তৈরি করছে ইরান?

সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি উদ্দেশ্যের যেকোনও একটির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কেন্দ্র, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র অথবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনও কার্যক্রমের নিরাপদ স্থাপনা।

এর মধ্যে ইউরেনিয়াম ধাতুতে রূপান্তরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল পারমাণবিক কার্যক্রমও থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নির্মাণকাজের ধরন বদলেছে। প্রথম দিকে ব্যাপক খননকাজ চললেও বর্তমানে কার্যক্রম সম্ভবত স্থাপনাটির অভ্যন্তরীণ নির্মাণ এবং বাইরের অংশ আরও শক্তিশালী করার দিকে চলে গেছে।

চলতি বছর পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। এছাড়া সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ উঁচু ও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ সড়ক পাকা করা, প্রবেশপথের আশপাশে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং সুড়ঙ্গ খননের সময় বের হওয়া মাটি সমতল করে সরিয়ে নেওয়ার কাজও হয়েছে।

এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপযোগী নয়? তবে সিএসআইএসের বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থাপনাটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজ থেকে ধারণা করা যায়, এটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে যদি এর উদ্দেশ্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হয়, তাহলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এখনও সেই ধরনের কার্যক্রম শুরু করার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে ইরান যদি ভবিষ্যতে তার পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাহাড়ের গভীরে সরিয়ে নেয়, তাহলে সেটি ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এমন স্থাপনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বোমারও সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। সূত্র:

সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসে পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসে পরিবর্তন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সিলেবাসে পরিবর্তন এনেছে।

 

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ‘ডি’ ইউনিট। ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগভেদে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. রুমানা হক এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও গণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে, বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয় থাকবে।

 

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের অধীন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আদলে বিভাগভিত্তিক নতুন সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন বা নম্বর বণ্টন পরবর্তীতে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


‘ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংকটের সময় শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে তিনি বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সংসদ নেতা আরও জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের সুফল আরও বেশি দেখা যাবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।

এদিকে, সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতায় নানা দুর্বলতা চিহ্নিত হওয়ার পর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে উন্নয়নকাজের ১ কোটি টাকার চেক বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


রূপগঞ্জে উন্নয়নকাজের ১ কোটি টাকার চেক বিতরণ

রূপগঞ্জে উন্নয়নকাজের জন্য ১ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, পূজা মণ্ডপ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের জন্য ১ কোটি টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোলাকান্দাইল এলাকার বাসভবনে, তারাবো পৌরবাসীর মধ্যে চেক হস্তান্তর করেন নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

 

চেক বিতরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু, সহসভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপনসহ অনেকে।

মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, ‘রূপগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করতেই ১৭ বছর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং রূপগঞ্জকে একটি স্বপ্নের, উন্নত রূপগঞ্জ হিসেবে গড়ে তোলা। তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আর আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, তার দিক নির্দেশনায় রূপগঞ্জকে দেশের অন্যতম উন্নত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদের তত্ত্বাবধানে জেলা পরিষদ থেকে তারাবো পৌরবাসীর জন্য এক কোটি টাকা অনুদান আনা হয়েছে। 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে কোনো প্রযুক্তিই আইআরজিসির ‘চোখ ফাঁকি’ দিতে পারবে না: মুখপাত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


হরমুজে কোনো প্রযুক্তিই আইআরজিসির ‘চোখ ফাঁকি’ দিতে পারবে না: মুখপাত্র

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন আটক হওয়ার পর, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের নজরদারি বলয় বা ‘চোখ ফাঁকি’ দেওয়ার জন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি সক্ষম নয়।

বুধবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক সাবমেরিন আটকের ঘটনাটিকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অভিযান পারস্য উপসাগরে ইরানের নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি প্রমাণ।

মোহেব্বি বলেন, ‘২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীতে যোগ হওয়া সবচেয়ে আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিনটি আটক হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, হরমুজ প্রণালীতে আমাদের নজরদারি বলয় ভেদ করে কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পার হতে পারবে না।’

তিনি আরও জানান, ‘পারস্য উপসাগরের ওপর আধিপত্য আমাদের প্রযুক্তি-দক্ষ তরুণদেরই।’ এদিকে, তিনি মার্কিন বাহিনীকে ‘গালফ অব পিগস’-এ ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান (সাবমেরিন) আটক করে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ২০২৫ সালে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আনম্যানড আন্ডারসি ভেহিকেল গ্রুপ ১’-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এবং ২ দশমিক ৭ টন ওজনের ডাইভ-এলডি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং মাইন বা সমুদ্রতলস্থ বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রকাশিত কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি পানির নিচে একটানা ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%