শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন যে, গত তিন বছরে মার্কিন করদাতাদের ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে নিজেদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তা ইসরায়েলকে দেওয়া হচ্ছে, যা দুই দেশের স্বার্থের অংশীদারির পরিবর্তে অসম সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে। তিনি এই সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সহযোগিতার নয়, বরং পরজীবী সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষক স্টিফেন সেমলারের প্রকাশিত একটি ইনফোগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র আনুমানিক ৬০৯টি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার।
ইনফোগ্রাফিকটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুনে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে এসএম-২, এসএম-৩, এসএম-৬, থাড ও প্যাট্রিয়ট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন সাহেদ। ঘরে ফেরার অপেক্ষা, স্বপ্ন এবং ভালোবাসার কথার মাঝে কে জানত, সেই কথোপকথনের কিছু সময় পরেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আছড়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ৩৫ বছরের সাহেদ আহমেদ আশিকের জীবন কেড়ে নেবে। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে যাওয়া সাহেদ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন, কিন্তু জীবিত নয়—নিথর মরদেহ হয়ে। তার ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী কাকলী বেগম এবং দুই সন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুরের মাদলা গ্রামের আকাশ-বাতাস।
মরদেহের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছেন সাহেদের স্ত্রী কাকলী বেগম এবং তাদের দুই সন্তান। স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাহেদের দাফন স্থানীয় গোরস্থানে সম্পন্ন হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাহেদ। বিমানবন্দরে নেমে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি। সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই ওই টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ঘটনায় সাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। মুহূর্তের সেই ভয়াবহ ঘটনায় থেমে যায় সাহেদের জীবনযাত্রা, এবং দেশে অপেক্ষমাণ পরিবারের জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।
সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, বিমানবন্দরে নেমে সাহেদ ভাবির সঙ্গে কথা বলেছিল। তার কিছুক্ষণ পরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সব শেষ হয়ে যায়।
সাহেদের মৃত্যুর শোক যেন আরও গভীর হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরে থাকার কারণে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় সাহেদের মা শাহেরা বেগম পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি চার দিন আগে দেশে ফিরে আসেন। যে মায়ের কাছে ছেলের ফিরে আসার আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, সেই মাকেই এখন সন্তানের চিরবিদায়ের শোক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন সাহেদ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাঁর নিজের ঘরেই নেমে এসেছে শোকের মাতম। বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, এবং স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা কাকলী বেগম।
সাহেদের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখের পানি এবং পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা কান্নার মধ্য দিয়ে এখন পুরো গ্রাম শেষ বিদায়ের অপেক্ষায়। যে সাহেদ একদিন পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে দূর দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফেরা হলো না বাসায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাদারীপুর জেলা শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের প্রথম মজলিসে শুরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টায় মাদারীপুর জেলা মডেল মসজিদের অডিটোরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সভাপতি মাওলানা এস এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা জামিল হোসাইন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।
বৈঠকে নতুন সেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে শুরার সদস্যরা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন এবং নির্ধারিত এজেন্ডার বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন।
এ সময় জেলা শাখার সহসভাপতি মুফতি আল আমীন বিএ ওহাব, মুফতী মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশিদ হাওলাদার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলাম শাহীনসহ মজলিসে শুরার অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির জন্য অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফরম পূরণ করার পর যারা দীর্ঘ সময় ধরে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেননি, তাদের ঝুলন্ত আবেদনগুলি নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদনগুলি সিস্টেমে আর বহাল থাকবে না।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাগরিকরা নতুন এনআইডি কার্ড বা তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করার পর যদি দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়, তবে সার্ভার ও ডেটাবেজ থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার জন্য একটি প্রযুক্তিগত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনকারীদের যেসব কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে সেগুলি হলো-
১. বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান না করা: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের পর নির্ধারিত বুথ বা মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসে গিয়ে সময়মতো ছবি না তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ যাচাই না করা।
২. অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ: আবেদন করে দীর্ঘ সময় ধরে ফেলে রাখার ফলে সার্ভারে জট তৈরি হওয়ায় কমিশন নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলে তা স্থায়ীভাবে বাতিল বা ডিলিট করে দেবে।
৩. সংশোধন আবেদন ঝুলে থাকা: নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় দলিলাদি বা বায়োমেট্রিক বায়ো-ডেটা মাঠপর্যায়ে জমা না দেওয়া।
পুরোনো নথি ও ফরম নিষ্পত্তিতে ইসির কঠোর পদক্ষেপ
সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে জমা থাকা পুরোনো কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০১২ পরবর্তী ফরম অপসারণ: ২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত যেসব ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) ইতিমধ্যে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে, সেই কাগজগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ: নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত মাঠপর্যায়ের কার্যালয়কে অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র সরিয়ে ফেলার কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
২০১১ সাল পর্যন্ত নথি সংরক্ষণ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত মূল ভোটার নিবন্ধন ফরমসমূহ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে আগের মতোই অফিসে সংরক্ষিত থাকবে।
তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা: বাতিলের জন্য নির্ধারিত পুরোনো কাগজপত্র কোনোভাবেই খোলা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশগত সুরক্ষা রক্ষায় এসব কাগজ দিয়ে সরাসরি মণ্ড তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ের জন্য ৬,৬০৮.১৪ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবটি পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
এই বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।
পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতি এবং কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে ১,২৩৭টি যানবাহন রয়েছে, যা প্রায় ১,৪৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন রয়েছে এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো। এর ফলে পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মী মোতায়েন করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারবে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে। আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে, ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত সম্মিলিত ব্যয় ২,০৮০.৯৪ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,৮৬৭.৫৫ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১,৬৬০.৫৮ কোটি টাকা। উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। এর প্রতিটি অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১.০৫ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ব্যবহৃত অনুমান অনুযায়ী প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা আনুমানিক ব্যয়কে সামান্যভাবে ছাড়িয়ে যায়।
কার্যকরী যানবাহন প্রকল্পের জন্য আনুমানিক নীট বর্তমান মূল্য ১৯.২২ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের জন্য ১৭৬.০৯৬ কোটি টাকা, যেখানে দ্বিতীয়টি ১২ শতাংশ বাট্টার হার ব্যবহার করে গণনা করা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেওয়া হয় এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়। এটি নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ বিনিয়োগের ফলে জননিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে, তা নির্ভর করবে কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজনভিত্তিক যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাড়তি চলাচল সক্ষমতাকে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও আরও কার্যকর পুলিশি কার্যক্রমে রূপান্তরের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ