ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে মার্কিন সাম্রাজ্য ও ইয়েমেন হামলায় কি শেষ হবে আরব রাজতন্ত্র?


ইরানে মার্কিন সাম্রাজ্য ও ইয়েমেন হামলায় কি শেষ হবে আরব রাজতন্ত্র?
তেহরান থেকে সানা, হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দেব—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কি ওয়াশিংটনের আধিপত্য এবং উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের পতনের নতুন অধ্যায়?
 
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ যে আগুন জ্বলছে, তা নিছক কয়েকটি দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের আগুন নয়। এটি বিশ্বব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্য, মার্কিন সামরিক আধিপত্য, ইসরায়েলের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকৌশল এবং আরব রাজতন্ত্রগুলোর অস্তিত্বসংকটের আগুন। ওয়াশিংটন ভেবেছিল, ইরানের সামরিক শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র নিজেদের অনুকূলে সাজানো যাবে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দান কোনো সাম্রাজ্যের ইচ্ছাপত্র মেনে চলে না। প্রতিপক্ষের হাতে যদি থাকে পাল্টা আঘাতের সামর্থ্য, ভূগোলের সুবিধা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিকেও চড়া মূল্য দিতে হয়।
 
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত এখন সেই মূল্য আদায়ের বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন এবং সৌদি-সমর্থিত শক্তিগুলোর নতুন সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দিয়েছে। ২৬ অক্টোবরের রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পরিবহনব্যবস্থা ও রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। হুথিদের দাবিগুলোর সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে সংঘাতের বিস্তার যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে, তাতে সন্দেহ নেই।
 
প্রশ্নটি তাই আর শুধু ইরান টিকবে কি না, কিংবা হুথিদের পরাজিত করা যাবে কি না—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন হলো, অন্যের ভূখণ্ডে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন নিজের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে পারবে? আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলো কত দিন যুদ্ধের আগুন থেকে নিজেদের অর্থনীতি, তেলসম্পদ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারবে?
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: কার স্বার্থে, কার নির্দেশে?
ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাতের শিকড় বহু পুরোনো। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক বৈরিতাপূর্ণ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উপসাগরীয় অঞ্চলে তার প্রভাব এবং সশস্ত্র মিত্রগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আপত্তি দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি সেই বিরোধ মীমাংসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সংঘাত ও ব্যর্থ কূটনীতি পরিস্থিতিকে ক্রমাগত বিস্ফোরণমুখী করে তোলে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে দুর্বল করা; একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পায়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। কিন্তু নেতৃত্বের শীর্ষে আঘাত হানার অর্থ রাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয়। ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং বিভিন্ন আরব দেশের লক্ষ্যবস্তুতে। সংঘাত দ্রুত দুই দেশের সরাসরি লড়াইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হয়।এখানেই ওয়াশিংটনের কৌশলের মৌলিক দুর্বলতা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখন পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে কিন্তু ইরান সহজে তাকে ছেড়ে দেবে বলে মনে হচ্ছে না।
 
যদিও দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে একক কর্তৃত্বে রয়েছে এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের তুলনা হয় না। মার্কিন বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের সক্ষমতা ইরানের তুলনায় অনেক বেশি। 
 
কিন্তু যুদ্ধের ফল নির্ধারিত হয় শুধু কে কত শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তা দিয়ে নয়; বরং কে কত দিন যুদ্ধের ব্যয় বহন করতে পারে, কে প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে পারে এবং কে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বেশি দৃঢ় থাকতে পারে, তা দিয়েও। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে ইরান যে ভয়াবহ প্রতিরোধ ও কৌশলগত শক্তি দেখিয়েছে এবং এখনো দেখিয়ে চলছে তাতেই মোটামুটি বিশ্ব বুঝে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যদি কোন এমন শক্তিশালী রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের করার কিছু অবশিষ্ট থাকে না। 
 
ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালি সেই কৌশলগত চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু তেহরান বা ওয়াশিংটনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বিমা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোও চাপে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও বিশ্ববাজারে সৃষ্ট প্রতিটি ধাক্কা তার প্রতিপক্ষের জন্যই শুধু ক্ষতিকর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের সেপ্টেম্বরের মূল্যায়নে বলা হয়, আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয় আনুমানিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং জুনের সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি; সমঝোতাটি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাত আবারও সীমিত আকারে শুরু হয়। অর্থাৎ বিপুল সামরিক ব্যয়ের পরও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে পারেনি।
 
এই ব্যর্থতাই কি মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা? 
============================
এখনই তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কিন্তু এটুকু বলা যায়, সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়া আর নিজের শর্তে একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এক বিষয় নয়। প্রথমটি সম্ভব হলেও দ্বিতীয়টি যে নিশ্চিত, ইরান যুদ্ধ তার প্রমাণ দিতে পারছে না।
 
ইসরায়েল কি যুক্তরাষ্ট্রকে বৃহত্তর যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে?
=============================
এটি এখন সারা বিশ্বে ওপেন সিক্রেট তথ্য যে, আগে কুকুর লেজ নাড়াতো, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেজ-ই কুকুরকে নাড়াচ্ছে। অর্থাৎ ইসরাইল একটি ক্ষুদ্র এবং পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রের কাছে ঘৃণিত এবং এককালে তারা রিফিউজি হিসেবে ইসরাইলে আসার পর তাদের কুটকৌশলে বিশ্ব রাজনীতি এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এটা বলা বাহুল্য হবে না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব চালাচ্ছে না বরং ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দুক রেখে বিশ্ব চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সত্যটি যত দ্রুত বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল তা না হলে তাদের হাতে বিশ্বশক্তির কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে অচিরেই। এবং তখন পৃথিবী এক মেরু থেকে বহু মেরু ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা তথা নেতৃত্বের অধীনে চলে যাবে। যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আর ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোও ভয় পাবে না। ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়েছে। ইরান, চীন, উত্তর কোরিয়া, কিংবা রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো দূরের কথা অনেক ছোট রাষ্ট্রও আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের মতো বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করবে না, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট হিসাবে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (Luiz Inácio Lula da Silva)। তিনি লুলা নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। লুলা নির্বাচিত হওয়া তারও একটি উদাহরণ। যা মার্কিন ইসরাইলি পরাশক্তির গালে কোষের চপেটাঘাতের সমান। যার পরাজয়ের জন্য ও তার প্রতিপক্ষকে জেতানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিযাহু অর্থ মিডিয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এমন কোন বিষয় নেই যা চেষ্টা করেননি কিন্তু তাদের প্রার্থীকে তারা ব্রাজিলের জেতাতে পারেননি। বরং দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাষ্ট্রের জনগণ সেই মার্কিন ইসরাইলি এজেন্ডা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। এই লুলা দা সিলভা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের বিরোধী শক্তি, পশ্চিমা কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রো ডলারের বিপরীতে ব্রিকস কর্তৃক নতুন অর্থ ব্যবস্থা চালুর পক্ষে শক্তিশালী শক্তি এবং ইজরায়েল কর্তৃক মুসলমান নিধনে ফিলিস্তিনে নির্বিচারে গণহত্যার একজন প্রকাশ্য ও সমালোচক এবং প্রতিবাদকারী। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যের পতনের ইঙ্গিত বহন করে। 
 
 
ইসরায়েলের নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গিতে ইরান একটি কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ককে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রভাব সীমিত রাখাও তার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
 
তাই এই যুদ্ধকে শুধু ইসরায়েলের যুদ্ধ কিংবা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হিসেবে দেখলে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থাকবে। দুই দেশের স্বার্থে মিল রয়েছে, আবার অগ্রাধিকারেও পার্থক্য আছে।
২৩ অক্টোবর হালনাগাদ করা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সংঘাতবিষয়ক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে সংস্থাটি জানায়। এই ঘটনা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে: ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা থাকলেও যুদ্ধের সময় ও মাত্রা নিয়ে তাদের হিসাব সব সময় এক নয়।
ইসরায়েলের কঠোর নিরাপত্তানীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আধিপত্যের স্বার্থ যখন এক বিন্দুতে মিলে যায়, তখন সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু সেই সংঘাতের মানবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য বহন করতে হয় পুরো অঞ্চলকে।
 
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জনের নামে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যাবে না?
 
ইয়েমেন: ছোট ভূখণ্ড, বড় শক্তির দুঃস্বপ্ন
ইয়েমেনের যুদ্ধকে অনেকেই আরব বিশ্বের আরেকটি গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখেন। বাস্তবে এটি বহু বছর ধরেই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
 
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন জানিয়ে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। ইরানের সঙ্গে হুথিদের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়ায়। দীর্ঘ যুদ্ধের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি কার্যত সংঘাতের তীব্রতা কমিয়েছিল, ২০২৬ সালে ইয়েমেনের হুতিরা কিছু না বললেও সৌদি আরব আগ বাড়িয়ে উস্কানি দিয়ে তৈরি করা নতুন লড়াই সেই আপেক্ষিক স্থিতিশীলতাকেও ভেঙে দিয়েছে।
 
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইয়েমেনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে দুটি কারণে।
প্রথমত, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের গভীরে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্বিতীয়ত, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
 
২৬ অক্টোবরের রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনে হামলার দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট একই দিনে ইয়েমেনে পাঁচটি সুড়ঙ্গ, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করার কথা জানায়। এসব বিবরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো যে সংঘাতের কেন্দ্রীয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।
 
এখানে হুথিদের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। কিন্তু তাদের সামরিক সক্ষমতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করাও ভুল হবে, যেন তারা একাই সৌদি রাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করে ফেলেছে। হুথিদের শক্তির উৎস শুধু অস্ত্র নয়; ইয়েমেনের ভূগোল, দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর ক্ষমতাও এর অংশ।
 
সৌদি আরবের সামনে তাই একটি কঠিন সমীকরণ: বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা দিয়ে হুমকি কমানো সম্ভব, কিন্তু তাতে কি ইয়েমেনের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে? দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের সামরিক হস্তক্ষেপের পরও যদি সীমান্ত, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোকে নিরাপদ রাখতে নতুন করে যুদ্ধ করতে হয়, তাহলে সেই যুদ্ধনীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
২৬ অক্টোবর: রাজতন্ত্রের জন্য নতুন সতর্কবার্তা
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধ এখন সৌদি আরবের সীমানার বাইরে থাকা কোনো সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশটির রাজধানী, বিমান চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থা সরাসরি নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছে।
 
রয়টার্সের ২৬ অক্টোবরের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি বাতিল হয়েছিল—অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে সৌদি আরবজুড়ে ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়। এসব বিঘ্নের পেছনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও হুথি হামলার হুমকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
 
এটি কেবল বিমানবন্দরের সংকট নয়। এটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্যও সতর্কবার্তা।
সৌদি আরব নিজেকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ, পর্যটন, ক্রীড়া, প্রযুক্তি ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যখন নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন করেন, তখন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা দেখেন না; তারা দেখেন বিমান চলাচল কতটা নির্ভরযোগ্য, তেল পরিবহন কতটা নিরাপদ এবং আঞ্চলিক সংঘাত কত দিন স্থায়ী হতে পারে।
 
রাজতন্ত্রের সংকট এখানেই। তাদের রাজনৈতিক বৈধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি। যুদ্ধ যদি সেই প্রতিশ্রুতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাহলে সামরিক সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিক সংকটও যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান সৌদি রাষ্ট্র পরিবারের মুহাম্মদ বিন সালমান এর ক্ষমতা নেওয়ার সময়কার রাজতান্ত্রিক পরিবারের ভয়াবহ বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে রাজতন্ত্রে কে রাজা হবে এই পরিবারের ভেতরেও রয়েছে ব্যাপক দ্বন্দ্ব যে কারণে ও তার রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এক প্রকার অন্ধকার বলা যায়। অর্থাৎ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাথে নতুন করে উস্কানি দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব এর শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান শুধু নিজেই বিপদে পড়েননি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিপদ ঘনিয়ে নিয়ে এসেছেন যার কারণে এক আরবে নতুন করে বসন্ত শুরু হলে সেই আরব বসন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে অন্যান্য প্রতিবেশী আরব রাজতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থায়। যাতে নড়ে যেতে পারে সৌদি সহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক সরকার গুলোর ক্ষমতা। ফিরে আসতে পারে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। 
 
তবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেই রাজতন্ত্রের পতন ঘটবে—এমন সিদ্ধান্ত টানা হবে অতি সরলীকরণ। সৌদি আরবের হাতে বিপুল আর্থিক সম্পদ, নিরাপত্তা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনার শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এসব সম্পদ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের খরচ কমাতে পারলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।
 
সৌদি আরবের পাশে মিসর, মক্কা জোট সহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ: যুদ্ধ কি আরও ছড়াবে?
================================
 
২৬ অক্টোবর মিসরের পার্লামেন্ট সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সহায়তার লক্ষ্য সৌদি ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষা করা; ইয়েমেনে সরাসরি আক্রমণ চালানো নয়। একই সঙ্গে কায়রো কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য গভীর। সৌদি আরবকে সমর্থন করার অর্থ শুধু একটি মিত্র রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরব উপসাগরীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের বাণিজ্যিক গুরুত্ব।
কিন্তু এখানেই বিপদ। একটি দেশের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখন বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার দরজা খুলে দেয়, তার কোনো নির্ভুল সীমারেখা নেই।
মিসর যদি সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে ইয়েমেনের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা তখন নতুন সামরিক প্রতিশ্রুতি, নতুন ব্যয় এবং নতুন প্রতিশোধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনটি জানায়। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রের নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে চায়, কিন্তু ইয়েমেনে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের মূল্য কত হবে, সে হিসাবও তাকে করতে হচ্ছে।
এটি মার্কিন আধিপত্যের আরেকটি বাস্তবতা: মিত্রদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিটি আঞ্চলিক যুদ্ধে কত দূর যেতে হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন।
 
যুদ্ধের নেপথ্যে কারা? ষড়যন্ত্র নয়, স্বার্থের রাজনীতি
============================
যুদ্ধের নেপথ্যে কারা—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেক সময় একটি গোপন শক্তিকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখানো হয়। বাস্তবতা তার চেয়ে জটিল।
 
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখা ওয়াশিংটনের ঘোষিত ও কৌশলগত স্বার্থের অংশ। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে সামরিক হামলাই একমাত্র পথ ছিল—এমন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত নয়।
 
দ্বিতীয়ত, ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাহুমকি হিসেবে দেখে। এই হুমকি কমাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে ইসরায়েলি নেতৃত্বের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ইসরায়েলের সব কৌশলগত লক্ষ্য যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন, তা-ও নয়।
 
তৃতীয়ত, ইরান। তেহরান তার রাষ্ট্রব্যবস্থা, সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব রক্ষা করতে চায়। হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র অংশীদারদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা তার কৌশলের অংশ হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বেসামরিক অবকাঠামো বা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের ওপর হামলার ঝুঁকি ইরানের জন্যও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করে।
 
চতুর্থত, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো। তাদের লক্ষ্য শুধু ইরানকে ঠেকানো নয়; নিজেদের ভূখণ্ড নিরাপদ রাখা, তেল-গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও জরুরি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-সহযোগিতা চায়, কিন্তু একই সঙ্গে এমন যুদ্ধও চায় না, যা তাদের শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে বিপদের মুখে ফেলে।
 
পঞ্চমত, হুথি আন্দোলন। ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই, স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থ এবং নিজেদের শাসনক্ষমতা রক্ষার হিসাবও তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপকে তেহরানের সরাসরি নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো পর্যাপ্ত প্রকাশ্য প্রমাণ সব ক্ষেত্রে নেই।
 
এর পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক উদ্যোগ, চীনের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের প্রতিক্রিয়াও সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
 
অতএব, যুদ্ধের পেছনে একটি মাত্র অদৃশ্য হাত খোঁজার চেয়ে রাষ্ট্রগুলোর ঘোষিত লক্ষ্য, সামরিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কূটনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণ করাই বেশি কার্যকর।
 
মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র কি সত্যিই ধ্বংসের মুখে?
==============================
প্রশ্নটি সাহসী, কিন্তু উত্তরটি হতে হবে বাস্তববাদী।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে সামরিক উপস্থিতি, আঞ্চলিক অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ও ইয়েমেনের নতুন সংঘাত এই ব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতা সামনে এনেছে: যে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাইরের শক্তির প্রতিরোধক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল, সেই শক্তি নিজেই যখন আঞ্চলিক যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তার মিত্ররাও প্রতিপক্ষের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।
তবে রাজতন্ত্রগুলোর পতন অবশ্যম্ভাবী—এমন দাবি করার মতো প্রমাণ না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাগুলোর প্রকৃত আয়ের উৎসই হচ্ছে তেল বাণিজ্য আর তাতে ক্রমানুযায়ী মিসাইল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালালে একসময় এসব দেশে সরকার বিরোধী গণবিক্ষোভ তৈরি হতে পারে । ফলে ফলে ২০১৪ সালের মত আরব বসন্তের মতো আরেকটি বসন্ত তৈরি হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাগুলো। তাদের অর্থনৈতিক সম্পদ, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী। বরং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তারা যুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা নেয় তার ওপর।
তারা কি আরও বেশি সামরিক নির্ভরতা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের পথে হাঁটবে? নাকি আঞ্চলিক কূটনীতি, পারস্পরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে বিরোধ ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো তৈরির চেষ্টা করবে?
২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের বৈঠকের উদ্যোগ এবং কাতারের মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা দেখায়, সংঘাতের মধ্যেও কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এসব উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, সমঝোতার প্রয়োজনও তত বাড়বে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার: মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলোর ভবিষ্যৎ শুধু ইরানকে দুর্বল করা বা হুথিদের পরাজিত করার ওপর নির্ভর করছে না। নির্ভর করছে তারা এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়তে পারে কি না, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সংকটে নতুন যুদ্ধ শুরু করতে হবে না।
 
মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন, নাকি আধিপত্যের সীমা প্রকাশ?
=============================
সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন সাধারণত এক দিনে ঘটে না। সামরিক পরাজয়, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক বিভাজন, মিত্রদের আস্থাহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রভাব কমে যাওয়া—এসব বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে একত্রে কাজ করে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি। তার মিত্রজোট, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তাই কয়েকটি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যর্থতা বা জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন ঘোষণা করা বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ বেশি হবে।
কিন্তু উল্টো কথাটিও সমান সত্য: মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব মানেই যে সে নিজের শর্তে প্রতিটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে, ইরান ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইরানের পাল্টা হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্ব পরাশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে হামলার ভয় দেখিয়ে সরিয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় বাধ্য করে কিংবা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্ব ব্যবস্থায় এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে যারা এতদিন একটি পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ব শাসনকারী রাষ্ট্র ভাবত তারাও এখন তাকে সন্দেহের চোখে দেখবে। এমনকি হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেকটি কথা কিংবা আদেশ কোন ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও শিরোধার্য বলে মেনে নাও নিতে পারে -এটি একটি পরাশক্তির সাম্রাজ্য পতনের প্রথম ইঙ্গিত। 
 
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা, সৌদি আরবের বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন এবং ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া—এসব ঘটনা দেখায়, সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা গেলেও পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন।
 
এটাই মার্কিন আধিপত্যের সীমা। এর অর্থ পতন নিশ্চিত নয়; বরং এর অর্থ, আধিপত্য বজায় রাখার মূল্য বাড়ছে এবং সেই মূল্য শুধু ওয়াশিংটনকে নয়, তার মিত্রদেরও দিতে হচ্ছে।
শেষ কথা: আগুনের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই রেহাই দেয় না যা এক সময় একমুখী বিশ্বব্যবস্থা থেকে বহুমুখী শাসন ক্ষমতার বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি করার ভীত তৈরি করে দিতে পারে।
ইরানে হামলা করে যদি একটি স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠা করা না যায়, ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়েও যদি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এই যুদ্ধনীতির সাফল্য কোথায়?
 
ওয়াশিংটনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হবে: সামরিক শক্তির প্রদর্শন কি রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে? তেল আবিবকে ভাবতে হবে: প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার প্রতিটি অভিযান কি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা বাড়ায়, নাকি নতুন প্রতিশোধের চক্র তৈরি করে?
 
তেহরানকেও হিসাব করতে হবে: প্রতিপক্ষের আলোচনার নামে কৌশলগত সময় ক্ষেপণ এবং তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশলগুলো কি কি হতে পারে। আর অবিশ্বাসীদের আলোচনার নামে কালক্ষেপণ যদি ইরান ক্রমানুযায়ী মেনে নিতে থাকে তাহলে তারা ভবিষ্যতে বিপদেও পড়তে পারে। পরাশক্তির বিরুদ্ধে যে শক্তি দেখিয়ে ইরান এখনো টিকে আছে এই যুদ্ধের সমাধান মনে হচ্ছে না কোন আলোচনা বা সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পন্ন হবে বরং ইরানকে মাথায় রাখতে হবে তাদের এই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিরাপত্তার বিষয়টি হয়তো যুদ্ধের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
 
 
আর সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সামনে প্রশ্ন—অন্যের সামরিক ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে কত দিন নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব?
 
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে কি না, হুথিরা পরাজিত হবে কি না, সৌদি রাজতন্ত্র দুর্বল হবে কি না কিংবা মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটবে কি না—কোনোটিই নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়।
 
তবে একটি বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে: মধ্যপ্রাচ্য আর এমন কোনো দাবার বোর্ড নয়, যেখানে দূর থেকে চাল দিয়ে প্রতিপক্ষকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে যেখানে ইরান নতুন করে একটি পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে যার পাশে আছে ছোট বড় অনেক মিত্রশক্তি বা এক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স। এখানে ভূগোল আছে, ইতিহাস আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে, প্রতিরোধের সক্ষমতা আছে এবং আছে যুদ্ধের সীমাহীন অর্থনৈতিক মূল্য।
 
আজ ইরানের আকাশে আগুন, ইয়েমেনের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র, সৌদি আরবের আকাশে নিরাপত্তা-সতর্কতা। আগামীকাল এই আগুন কোথায় ছড়াবে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না কারণ ইয়েমেন বাসীদের পক্ষে রয়েছে ধর্মতত্ত্ব তথা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ দোয়া এবং আধ্যাত্মিক শক্তি।
 
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ একটি নির্মম শিক্ষা দিচ্ছে: যে শক্তি অস্ত্রের জোরে পুরো অঞ্চলকে নিজের শর্তে চালাতে চায়, সে-ও একসময় সেই অঞ্চলের অস্থিরতার কাছে জবাব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নরসিংদী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক

নরসিংদীর রায়পুরায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ স্বপ্না আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করছিলেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মাহমুদাবাদ এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক স্বপ্না আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকার দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৫

বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে অপসারণের দাবি এনসিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে অপসারণের দাবি এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

দলটির মতে, পুলিশের প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনশাসন ও সংবিধানের পরিপন্থী নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক পরিকল্পনা।

সম্প্রতি আইজিপি মন্তব্য করেছেন, “সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে”। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি স্পষ্টভাবে জানায়—সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে”। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের একটি নজির।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শত শত নেতাকর্মীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস এখনো দেশবাসীর চোখের সামনে স্পষ্ট। বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে, বর্তমান সময়ে এসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা দেবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিষ্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, যারা ক্ষমতায় না গিয়েই ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। সুতরাং, দেশের সুরক্ষার জন্য জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থেকে সবাইকে রক্ষা করা উচিত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদী বলেছেন, "আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই!" তবে, প্রশ্ন উঠছে, সেই ইনসাফ কি মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া?

তিনি আরও জানান, জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামী মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি। এমনকি দুই মেয়ে ও এক বোন মোবাইলের আলোতে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। এই ঘটনাই জামায়াত-শিবিরের বর্বরতার উদাহরণ। যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। তাই, জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব সবার।

রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। ফলে, নতুন এই প্রক্সি দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের মতো বর্বর। এই দলের সৃষ্টি জামায়াত-শিবিরের বিপদে পড়লে তাদের রক্ষা করার জন্য। তারা প্রতিনিয়ত সেটিই করে যাচ্ছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে আগামীতে জামায়াতের আসন ছাড় পাওয়ার জন্য এনসিপি নেতাদের মধ্যে জামায়াতি বর্বরতাকে তোষামোদি করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নতুন বন্দোবস্তের নামে এনসিপি জামায়াতি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "এটাই কি তরুণদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল?" তিনি আরও বলেন, ছাগল চোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিতদের থেকে এর বেশি কিছু কিভাবে প্রত্যাশা করা যায়!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%