সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর রায়পুরায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ স্বপ্না আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করছিলেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মাহমুদাবাদ এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক স্বপ্না আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকার দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
দলটির মতে, পুলিশের প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনশাসন ও সংবিধানের পরিপন্থী নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক পরিকল্পনা।
সম্প্রতি আইজিপি মন্তব্য করেছেন, “সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে”। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি স্পষ্টভাবে জানায়—সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে”। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের একটি নজির।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শত শত নেতাকর্মীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস এখনো দেশবাসীর চোখের সামনে স্পষ্ট। বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে, বর্তমান সময়ে এসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা দেবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিষ্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, যারা ক্ষমতায় না গিয়েই ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। সুতরাং, দেশের সুরক্ষার জন্য জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থেকে সবাইকে রক্ষা করা উচিত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদী বলেছেন, "আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই!" তবে, প্রশ্ন উঠছে, সেই ইনসাফ কি মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া?
তিনি আরও জানান, জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামী মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি। এমনকি দুই মেয়ে ও এক বোন মোবাইলের আলোতে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। এই ঘটনাই জামায়াত-শিবিরের বর্বরতার উদাহরণ। যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। তাই, জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব সবার।
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। ফলে, নতুন এই প্রক্সি দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের মতো বর্বর। এই দলের সৃষ্টি জামায়াত-শিবিরের বিপদে পড়লে তাদের রক্ষা করার জন্য। তারা প্রতিনিয়ত সেটিই করে যাচ্ছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে আগামীতে জামায়াতের আসন ছাড় পাওয়ার জন্য এনসিপি নেতাদের মধ্যে জামায়াতি বর্বরতাকে তোষামোদি করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুন বন্দোবস্তের নামে এনসিপি জামায়াতি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "এটাই কি তরুণদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল?" তিনি আরও বলেন, ছাগল চোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিতদের থেকে এর বেশি কিছু কিভাবে প্রত্যাশা করা যায়!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ