সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪২ পি.এম
আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এশিয়ার জ্বালানি খাতে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এই বিনিয়োগের ফলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। শিল্পায়ন, ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই তথ্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে নিট জ্বালানি চাহিদা যতটা বৃদ্ধি পাবে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এশিয়া থেকে আসবে। ২০৪০ সালে এ অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূর্বাভাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।
যদিও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তর সহজ হবে না। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও শিল্পের চাহিদা পূরণের জন্য কয়লার ব্যবহার দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ম্যাককিনজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারের ৪৭ শতাংশ কয়লা থেকে আসে। তেলের অংশ ২৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১২ শতাংশ। চীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ফলে কয়লার চাহিদা কমার সম্ভাবনা থাকলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়তি চাহিদা আঞ্চলিকভাবে কয়লার ব্যবহারকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে। ম্যাককিনজি আগামী এক দশকে এশিয়ায় কয়লার চাহিদা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৭২৭ টেরাওয়াট-ঘণ্টা হয়েছে। একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৭১১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। এর ফলে সৌরশক্তি এশিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি চীন; ভারত ও পাকিস্তানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ায় সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তুলতে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বিনিয়োগের বড় অংশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিও সস্তা হচ্ছে। ফলে সূর্যালোক বা বাতাস না থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির গতি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে কমতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু দেশ কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প খাতে তেল ও কয়লার বিকল্প হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যাককিনজি।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব জ্বালানির গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে এশিয়ায় জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বছরে ৯০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। ভারত পেট্রলে ইথানল মেশানোর কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ডিজেলের সঙ্গে পাম তেলভিত্তিক জৈব জ্বালানি মেশানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি ৫০ শতাংশ জৈব ডিজেল মিশ্রণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
তবে জৈব জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামালের জোগান, উৎপাদন ব্যয় এবং খাদ্য ও জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
এশিয়ার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমদানিনির্ভরতা কমানো, সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত করা এবং বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানোও এর লক্ষ্য। কয়লা, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তরের গতি।
সূত্র: ম্যাককিনজি, রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মন্তব্য করেছেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
তিনি এই মন্তব্যটি করেন সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।
নুরুল হক নুর বলেন, "এমন একটা অসভ্য বর্বর সমাজের দিকে এই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এই জাতিকে নিতে চায়, যেখানে একজন মানুষ মারা যাওয়ার পরে তার কবর খুঁড়তে হয় তার স্ত্রী এবং কন্যাকে—এটা জাতির জন্য লজ্জা।"
তিনি আরও বলেন, "আজকে জুলাইয়ের চেতনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে ঘৃণা বিভাজন এবং বিদ্বেষের রাজনীতি করছেন তারা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলে ছয় বছর আগে ঘটে যাওয়া এক বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যার মামলার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন ওই দলের বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। রোববার এই বিষয়টি ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। কৌস্তুভ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার মতো পদক্ষেপ নেবেন তিনি। নিহত বিজেপি নেতার বাবা কৌস্তুভের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
২০২০ সালে টিটাগড়ে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার মামলাকে কেন্দ্র করে কৌস্তুভ হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলাটি এগিয়ে নিতে নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব, সিআইডির মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন।
কৌস্তুভ অভিযোগ করেছেন, মণীশ হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বর্তমানে বিজেপির ছত্রছায়ায় রয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিংহকে নিশানা করেছেন। একই সঙ্গে সাবেক দুই পৌরপ্রধান উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কৌস্তুভ।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কৌস্তুভ বলেন, মণীশ হত্যার সঙ্গে যাদের নাম জড়িয়েছে, দুঃখজনকভাবে তাদের মধ্যে কয়েকজন বিজেপি নেতার সঙ্গে ওঠাবসা রয়েছে। তিনি অর্জুন সিংহসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের একাধিক ছবি প্রদর্শন করেন।
কৌস্তুভ মন্তব্য করেন, ‘আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লর হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভালো লাগছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্জুন সিংহের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো রাগ নেই। তিনি বড় নেতা। আমাদের অভিভাবক। কিন্তু আপনার সঙ্গে এদের ছবি দেখতে ভালো লাগে?’
বিজেপির এই বিধায়ক কেবল অভিযোগ করেই থেমে থাকেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তম ও প্রশান্তকে বিজেপিতে প্রবেশ করতে দেবেন না। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন মাথা কামিয়ে রেখেছিলেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন এবং দরকার হলে বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক মোটরস্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ এর কার্টিং স্লালম ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের ডা. সারওয়ার হুসাইন চৌধুরী।
এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে পদক জয়ের গৌরব লাভ করেছে।
২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর থাইল্যান্ডের পাতায়ায় বিরা আন্তর্জাতিক কার্টিং সার্কিটে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০টি দেশের প্রায় ৩০০ জন রেসিং চালক অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পক্ষ থেকে মোট ৯ জন চালক বিভিন্ন ইভেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আয়াজ, ই-স্পোর্টস বিভাগে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছান।
পেশায় চিকিৎসক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী সারওয়ার হুসাইন চৌধুরী ২০২৪ সালের র্যালিক্রস চ্যাম্পিয়ন। থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে, গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার সেপাং আন্তর্জাতিক সার্কিটে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ফেস্টিভ্যাল অব স্পিডের অটো জিমখানা পুরুষ দ্বৈত বিভাগে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের মনোনয়নে ওই প্রতিযোগিতায় তার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন কাশফিয়া মোতালেব ও অন্তর ভূঁইয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৭ সালেও যুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থায় জ্বালানি বাজার ফিরে যাওয়ার জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য পথ দেখা যাচ্ছে না।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এছাড়া, ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতের দেশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় সম্পর্কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিরল আরও জানান, যুদ্ধের আগে চলতি বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস ছিল।
কিন্তু সংঘাতের কারণে বাজারে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলসহ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব কেবল বর্তমান বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ