প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এশিয়ার জ্বালানি খাতে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এই বিনিয়োগের ফলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। শিল্পায়ন, ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই তথ্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে নিট জ্বালানি চাহিদা যতটা বৃদ্ধি পাবে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এশিয়া থেকে আসবে। ২০৪০ সালে এ অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূর্বাভাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।
যদিও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তর সহজ হবে না। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও শিল্পের চাহিদা পূরণের জন্য কয়লার ব্যবহার দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ম্যাককিনজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারের ৪৭ শতাংশ কয়লা থেকে আসে। তেলের অংশ ২৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১২ শতাংশ। চীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ফলে কয়লার চাহিদা কমার সম্ভাবনা থাকলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়তি চাহিদা আঞ্চলিকভাবে কয়লার ব্যবহারকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে। ম্যাককিনজি আগামী এক দশকে এশিয়ায় কয়লার চাহিদা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৭২৭ টেরাওয়াট-ঘণ্টা হয়েছে। একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৭১১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। এর ফলে সৌরশক্তি এশিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি চীন; ভারত ও পাকিস্তানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ায় সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তুলতে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বিনিয়োগের বড় অংশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিও সস্তা হচ্ছে। ফলে সূর্যালোক বা বাতাস না থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির গতি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে কমতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু দেশ কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প খাতে তেল ও কয়লার বিকল্প হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যাককিনজি।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব জ্বালানির গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে এশিয়ায় জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বছরে ৯০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। ভারত পেট্রলে ইথানল মেশানোর কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ডিজেলের সঙ্গে পাম তেলভিত্তিক জৈব জ্বালানি মেশানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি ৫০ শতাংশ জৈব ডিজেল মিশ্রণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
তবে জৈব জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামালের জোগান, উৎপাদন ব্যয় এবং খাদ্য ও জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
এশিয়ার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমদানিনির্ভরতা কমানো, সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত করা এবং বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানোও এর লক্ষ্য। কয়লা, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তরের গতি।
সূত্র: ম্যাককিনজি, রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন