ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশের জন্য ৫,৮৩০ যানবাহন ক্রয়ে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়


পুলিশের জন্য ৫,৮৩০ যানবাহন ক্রয়ে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ের জন্য ৬,৬০৮.১৪ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবটি পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।

এই বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।

আরও পড়ুন: পানিসম্পদমন্ত্রী: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়

পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতি এবং কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে ১,২৩৭টি যানবাহন রয়েছে, যা প্রায় ১,৪৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন রয়েছে এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো। এর ফলে পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মী মোতায়েন করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারবে।

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাড়াবাড়ি করলে পুরো নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকব: জামায়াত আমির

এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে। আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে, ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত সম্মিলিত ব্যয় ২,০৮০.৯৪ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,৮৬৭.৫৫ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১,৬৬০.৫৮ কোটি টাকা। উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। এর প্রতিটি অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১.০৫ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ব্যবহৃত অনুমান অনুযায়ী প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা আনুমানিক ব্যয়কে সামান্যভাবে ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ‘পাহাড়ে অস্থিতিশীলতার চক্রান্ত ব্যর্থ হবে, দলছুটদের সুর রুমিন ফারহানার’

কার্যকরী যানবাহন প্রকল্পের জন্য আনুমানিক নীট বর্তমান মূল্য ১৯.২২ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের জন্য ১৭৬.০৯৬ কোটি টাকা, যেখানে দ্বিতীয়টি ১২ শতাংশ বাট্টার হার ব্যবহার করে গণনা করা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেওয়া হয় এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়। এটি নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ বিনিয়োগের ফলে জননিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে, তা নির্ভর করবে কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজনভিত্তিক যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাড়তি চলাচল সক্ষমতাকে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও আরও কার্যকর পুলিশি কার্যক্রমে রূপান্তরের ওপর।

আরও পড়ুন: রিয়াদে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর নির্দেশে পশ্চিম তীরে হামলার পর লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


নেতানিয়াহুর নির্দেশে পশ্চিম তীরে হামলার পর লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দল লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ নির্দেশনা দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক দিন আগে প্রদান করা হলো।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, লিকুদ পার্টির এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুদিয়া জংশনে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর নেতানিয়াহু শুক্রবার সকালে লিকুদের পূর্বনির্ধারিত সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলবেনিয়ায় মুসলিমপ্রধান দেশে বিক্ষোভের আগুন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


আলবেনিয়ায় মুসলিমপ্রধান দেশে বিক্ষোভের আগুন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তিরানায় টানা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলন রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই আন্দোলন কি শেষ পর্যন্ত রামা সরকারের পতন ঘটাতে পারবে? আর এর পেছনে বিদেশি শক্তির হাত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তি কী?

এক নজরে আলবেনিয়া:

আলবেনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের একটি ছোট দেশ। দেশটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী, দীর্ঘ কমিউনিস্ট শাসনের ইতিহাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রচেষ্টার কারণে বিশেষভাবে পরিচিত। বর্তমানে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদপ্রার্থী এবং ন্যাটোর সদস্য।

রাজধানী: তিরানা।

সরকারব্যবস্থা: সংসদীয় প্রজাতন্ত্র।

রাষ্ট্রভাষা: আলবেনীয়।

জনসংখ্যা: প্রায় ২৬ লাখ।

আয়তন: প্রায় ২৮,৭৪৮ বর্গকিলোমিটার।

স্বাধীনতা: ২৮ নভেম্বর ১৯১২।

আন্তর্জাতিক অবস্থান: ন্যাটোর সদস্য; ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদপ্রার্থী।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পঞ্চদশ শতকে আলবেনিয়ার বড় অংশ অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে। কয়েক শতকের শাসনামলে দেশটিতে ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। তবে মুসলিম, ক্যাথলিক ও অর্থোডক্স খ্রিষ্টান—বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে বসবাস করে আসছেন।

১৯১২ সালের ২৮ নভেম্বর অটোমান সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে আলবেনিয়া। এরপর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ১৯২৮ সালে আহমেত জোগু নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন। তার রাজত্বের অবসান ঘটে ১৯৩৯ সালে, যখন ইতালি আলবেনিয়া দখল করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালির পর জার্মানি আলবেনিয়া দখল করে। ১৯৪৪ সালে কমিউনিস্ট গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরে এনভার হোজার নেতৃত্বে দেশটি কঠোর একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পড়ে। বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করা হয়, আর ১৯৬৭ সালে আলবেনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাস্তিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মচর্চার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

১৯৯০ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বহুদলীয় রাজনীতির পথ খুলে যায় এবং ১৯৯১ সালে প্রথম বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিজমের পতনের পর আলবেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। ২০০৯ সালে দেশটি ন্যাটোর সদস্য হয়। একই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার আবেদন করে এবং ২০১৪ সালে সদস্যপদপ্রার্থী দেশের মর্যাদা পায়। বর্তমানে ইইউতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আলোচনা চলছে।

আলবেনিয়ায় কেন বিক্ষোভ হচ্ছে?

আলবেনিয়ায় চলমান বিক্ষোভের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর এই বিক্ষোভ নিয়ে একটি প্রতিবেদন করে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পড়াশোনা শেষ করেও অনেকে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন।

‘ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব’ থেকে শুরু

বর্তমান আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প।

আলবেনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভিয়োসা-নার্তা জলাভূমি পরিযায়ী ফ্ল্যামিঙ্গোসহ বহু প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। ওই সংবেদনশীল উপকূলীয় এলাকায় বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয় গত অক্টোবরে। প্রতিবাদকারীরা গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গোর ছবি, প্রতিকৃতি ও বেলুন ব্যবহার করতে থাকেন। সেখান থেকেই আন্দোলনটির নাম হয় ‘ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব’।

পরিবেশ রক্ষার দাবি থেকে শুরু হলেও আন্দোলনটি পরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়। শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী, তরুণ ও সরকারবিরোধী নাগরিকেরা এতে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা এখন কী চান?

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ। এর পাশাপাশি তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিতর্কিত উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দাবি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। তারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা বা শিক্ষা ব্যয় নিয়ে কথা বলছেন না; সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, চাকরির সুযোগ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের পেছনে কি বিদেশি ষড়যন্ত্র?

প্রধানমন্ত্রী রামা ‘ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব’কে বিদেশি হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় রামা বলেছিলেন, আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কিছু শক্তি আন্দোলনকে কাজে লাগাতে পারে।

এবারও টানা এক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর বিদেশি শক্তির দিকে নতুন করে আঙুল তোলেন প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। এই বিক্ষোভের পেছনে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তার মতে, মানুষের বাস্তব সমস্যাকে কাজে লাগিয়েই এই অস্থিরতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, আবাসন কেনা বা ভাড়া নেওয়ার অসুবিধা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, সেটি নিছক কল্পনা নয়। বরং মানুষের এই বাস্তব অসন্তোষের সুযোগ নিয়েই ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বলতে সাধারণত প্রচলিত সামরিক যুদ্ধের বাইরে তথ্যপ্রচার, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, সাইবার কার্যক্রম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো নানা কৌশলের সমন্বয়কে বোঝানো হয়।

এদি রামার ইসরাইলপন্থী অবস্থান ও বিদেশি সম্পর্ক

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা ইসরাইলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জেরুজালেমে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি হামাসকে নির্মূল করার পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি সমর্থন জানান।

ইসরাইলের সঙ্গে আলবেনিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও রয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা'আর আলবেনিয়া সফরে রামার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি রামার সমর্থনের প্রশংসা করেন তিনি। রামা গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকেও সমর্থন জানিয়েছেন।

আলবেনিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের বৈরিতা রয়েছে। ২০২২ সালে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাইবার হামলার অভিযোগ তুলে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তিরানা। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরেও রামা রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘এদি রামা, আপনার দেশের নাগরিকেরাই প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদের দোষারোপ না করে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করুন।’

আন্তর্জাতিক জটিল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আলবেনিয়ার বর্তমান সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কও জড়িয়ে রয়েছে।

এদি রামা কি ক্ষমতা হারাতে পারেন?

২০১৩ সাল থেকে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এদি রামা। ২০২৫ সালের নির্বাচনে তার সোশ্যালিস্ট পার্টি টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসে। ফলে রাজপথের আন্দোলন তীব্র হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পতন ঘটবে—এমন সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, নির্বাচনে পাওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নে আলবেনিয়ার সদস্যপদ অর্জনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের বিরোধিতা করেছেন।

তবে আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্বও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামার দলের এক তরুণ সংসদ সদস্য মারজানা কোচেকু তার প্রশাসনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেও সমালোচনার এমন প্রকাশ রাজনৈতিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তারপরও সরকার পতন নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর— আন্দোলন কত দিন স্থায়ী হয়, আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠী এতে যুক্ত হয় কি না, ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় ঐক্য অটুট থাকে কি না এবং সরকার সংলাপ বা সংস্কারের মাধ্যমে অসন্তোষ কমাতে পারে কি না।

অর্থাৎ, রামার সরকার নিশ্চিতভাবেই চাপে রয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভের জেরে তিনি ক্ষমতা হারাবেন, এমন পূর্বাভাস এখনই দেয়া যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির একটি আদালত। দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর এ রায় দেয়।

বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আদালতের প্রধান বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটনকারীদের কাছে নির্দেশ প্রদান এবং সামরিক ও প্রশাসনিক কমান্ড কাঠামোর মধ্যে আসাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার মতো প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় প্রদান করেছে। আদালত মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটনকারীদের কাছে সরাসরি নির্দেশ পাঠানোর সঙ্গে আসাদের সম্পৃক্ততার নথিও পর্যালোচনা করেছে।

বিচারক আল-আরিয়ান বলেন, আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণ কেবল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন নয়।

এর আগে, গত ১১ আগস্ট, চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং পলাতক আরও সাত কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান আতেফ নাজিবকে আদালতে উপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১১ সালে সিরিয়ার দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক রাখা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ।

আদালতের আগস্টের ওই রায়টি ৩৯৬ পৃষ্ঠার একটি বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এতে অপরাধের বিবরণ, বিভিন্ন প্রমাণ এবং সিরিয়ার বিপ্লবের শুরুর দিকে দারায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেবরনে বন্দুকযুদ্ধের পর পশ্চিম তীরে লকডাউন ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


হেবরনে বন্দুকযুদ্ধের পর পশ্চিম তীরে লকডাউন ঘোষণা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের নিকটবর্তী এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ২ জন নিহত হওয়ার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফুল লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে ওই দুই ব্যক্তি হেবরন শহরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং তাদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের কাছে একটি এম-১৬ রাইফেল ও একটি পিস্তল ছিল।

ঘটনার পর হেবরন এবং আশপাশের ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে সড়ক অবরোধ এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার থেকেই হেবরন শহর অবিলম্বে ঘিরে ফেলা এবং পুরো পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%