শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৪ পি.এম
চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় কিছু আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন দূত উইটকফ। এরপর কিয়েভের পক্ষ থেকেও যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা পুনরায় শুরুর আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বৈঠকেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিশাল ভূখণ্ড মস্কোর হাতে ছেড়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো (NATO) জোটে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে রাশিয়া এখনো সরে আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বন্দোবস্ত ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিই তাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বন্দি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ ২৭০ জন করে যুদ্ধবন্দি একে অপরকে হস্তান্তর করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের বন্দি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৩১ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে প্রোটিয়ারা তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা অর্জন করে। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়ী হয়েছিল।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ২৭ অক্টোবর কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে।
গেবেরহাতে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিন জয়ী হতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ছয় উইকেট। অন্যদিকে, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১৭০ রান প্রয়োজন ছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান করার পর অস্ট্রেলিয়া ৯৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলো-অনে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। ট্রাভিস হেড ৮৭ রান এবং স্কট বোল্যান্ড ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
হেড তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৫টি চারে ১৯০ বলে ১২১ রান করেন হেড। দলীয় ২০৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে উইয়ান মুল্ডারের বলে বোল্ড হন তিনি।
আগের দিন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বোল্যান্ড। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে স্টিভেন স্মিথ ৩ রান করতে সক্ষম হননি। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি ৩৭ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বড় পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়া ২৯৫ রানে গুটিয়ে যায়।
বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা ৪টি, উইয়ান মুল্ডার ৩টি এবং সিমোন হার্মার ২ উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ৩৩৪ বলে ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
এই পরাজয়ের কারণে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট হারালেও, অস্ট্রেলিয়া তাদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ১২ ম্যাচে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ ম্যাচে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সমান ম্যাচে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে টাইগারদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আরো এক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। তবে তিনি আশা করেন যে, ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে এলে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে তার আগেই। এই পরিস্থিতিতে, হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে হামলা এবং সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে চলেছে।
একটি সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে যে যুদ্ধকে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার কথা বলেছিলেন, সেটি এখন আরও ১২ মাস পরও চলতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান তার আগেই অর্থবহ আলোচনায় বসবে।
ওয়াল্টজের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার অভিযান এবং চাপ অব্যাহত রাখবে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছানো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নৌ অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধের বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান আশা করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত একটি সরকারি কর্মসফরে জাপান সফর করবেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে একটি বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের এই সফর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ এবং নীতিতে বিশ্বাসী একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। এছাড়া, হালনাগাদকৃত ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ (এফওআইপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিরও আশা করা হচ্ছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রেক্ষিতে ৮টি সমঝোতা স্মারক সই নিয়ে আলোচনা চলছে।
দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা সই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৪-৫টি সমঝোতা সই হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সাতটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে। এই খবরের ফলস্বরূপ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবারও দাম বেড়ে ১১২ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৮ মে-এর পর সর্বোচ্চ স্তর।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানায়, ইরানের নির্ধারিত নৌপথ ও নির্দেশনা অমান্য করা জাহাজগুলোর চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত বিকল্প দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার করে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করার পর সেগুলোতে হামলা করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, কিছু জাহাজ সমুদ্রের মাইনেও আঘাত পেয়েছে।
তবে এসব ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইরান জাহাজে হামলার ঘটনা বানিয়ে বলছে। ইরানের দাবি এবং ট্রাম্পের অভিযোগ উভয়টি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ