প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন সাহেদ। ঘরে ফেরার অপেক্ষা, স্বপ্ন এবং ভালোবাসার কথার মাঝে কে জানত, সেই কথোপকথনের কিছু সময় পরেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আছড়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ৩৫ বছরের সাহেদ আহমেদ আশিকের জীবন কেড়ে নেবে। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে যাওয়া সাহেদ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন, কিন্তু জীবিত নয়—নিথর মরদেহ হয়ে। তার ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী কাকলী বেগম এবং দুই সন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুরের মাদলা গ্রামের আকাশ-বাতাস।
মরদেহের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছেন সাহেদের স্ত্রী কাকলী বেগম এবং তাদের দুই সন্তান। স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাহেদের দাফন স্থানীয় গোরস্থানে সম্পন্ন হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাহেদ। বিমানবন্দরে নেমে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি। সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই ওই টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ঘটনায় সাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। মুহূর্তের সেই ভয়াবহ ঘটনায় থেমে যায় সাহেদের জীবনযাত্রা, এবং দেশে অপেক্ষমাণ পরিবারের জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।
সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, বিমানবন্দরে নেমে সাহেদ ভাবির সঙ্গে কথা বলেছিল। তার কিছুক্ষণ পরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সব শেষ হয়ে যায়।
সাহেদের মৃত্যুর শোক যেন আরও গভীর হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরে থাকার কারণে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় সাহেদের মা শাহেরা বেগম পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি চার দিন আগে দেশে ফিরে আসেন। যে মায়ের কাছে ছেলের ফিরে আসার আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, সেই মাকেই এখন সন্তানের চিরবিদায়ের শোক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন সাহেদ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাঁর নিজের ঘরেই নেমে এসেছে শোকের মাতম। বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, এবং স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা কাকলী বেগম।
সাহেদের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখের পানি এবং পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা কান্নার মধ্য দিয়ে এখন পুরো গ্রাম শেষ বিদায়ের অপেক্ষায়। যে সাহেদ একদিন পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে দূর দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফেরা হলো না বাসায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন