ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রুশ যুদ্ধে ৩০ বাংলাদেশি, উদ্ধার একজন; দেশে ফিরবেন রবিবার


রুশ যুদ্ধে ৩০ বাংলাদেশি, উদ্ধার একজন; দেশে ফিরবেন রবিবার

চাকরির প্রলোভনে প্রতারিত হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে একজন মো. রাজন হোসেনকে অত্যন্ত কৌশলে উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশে তার প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার মস্কোর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় তাকে দেশে ফেরার বিমানে তুলে দেওয়া হয়।

মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, রাজনের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরেই তার প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার-পরবর্তী পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজন হোসেন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আদ্দিস আবাবা হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। আগামীকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, উচ্চ বেতন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে গত ১ জুন আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫) নামে ৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে আমন মৌসুমে সারের তীব্র সংকট: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৫ এম


গোমস্তাপুরে আমন মৌসুমে সারের তীব্র সংকট: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষক

চলতি আমন মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় সারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদামতো সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা। নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার আশায় সকাল থেকে ডিলারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কৃষকেরা।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধানের রাসায়নিক সারের ডিলার পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিন শত শত কৃষক ভিড় করছেন। দীর্ঘ লাইন ঠেলে দোকানে পৌঁছালেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইউরিয়া, ডিএপি বা পটাশ সার। অধিকাংশ সময় ডিলাররা 'স্টক শেষ' বলে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা বাজারে কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া দামে সার কিনছেন, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী এক কৃষক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "সকাল থেকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে পুড়ে শেষ পর্যন্ত সার না পেয়েই ফিরতে হচ্ছে। জমিতে ঠিকমতো সার দিতে না পারলে পুরো মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।"

স্থানীয় কৃষকদের দাবি—
অনতিব্লিমে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করা।খোলা বাজারে সারের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের কাছে সরাসরি সার পৌঁছানোর সঠিক ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা, যাতে সময়মতো সার প্রয়োগ করে আমন মৌসুমের সম্ভাব্য বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরেন্দ্র এক্সপ্রেস বিকল, উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


বরেন্দ্র এক্সপ্রেস বিকল, উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জয়পুরহাটের পুরানাপুল এলাকায় চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’ (৭৩২ নম্বর) ট্রেনের কয়েল স্প্রিং ভেঙে বিকল হয়ে পড়েছে। এর ফলে উত্তর অঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তবে চালক ও পরিচালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বহু যাত্রী রক্ষা পেয়েছেন।

স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি জয়পুরহাটের পুরানাপুল রেলগেট এলাকা পার হওয়ার পর হঠাৎ ট্রেনের একটি বগির কয়েল স্প্রিং ভেঙে নিচে নেমে যায়। এতে ট্রেনটি রেললাইনের ওপর আটকে যায়।

ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী একটি কোচের স্প্রিং ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত টের পাওয়ায় ট্রেন এবং যাত্রীদের ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে আকস্মিক এই বিকলের কারণে পার্বতীপুর, সান্তাহার, রাজশাহী ও ঢাকাগামী রুটসহ উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সাময়িক এই স্থবিরতায় আশেপাশের বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগচেই পড়তে হচ্ছে।

উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে বরেন্দ্র ট্রেনের পরিচালক জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই পার্বতীপুর ও সান্তাহার জংশন স্টেশনে রিলিফ ট্রেনের (উদ্ধারকারী ট্রেন) জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

তবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে কখন নাগাদ ট্রেনটি পুনরায় সচল হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগারে ইমরান খান ‘চরম নির্যাতনের’ শিকার: বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


কারাগারে ইমরান খান ‘চরম নির্যাতনের’ শিকার: বোন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে গুরুতরভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। তার বোন উজমা খান অভিযোগ করেছেন যে, ইমরানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। উজমা তার ভাইয়ের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করার পর এই অভিযোগগুলো করেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের কে-পি হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে উজমা তার ভাই ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, ইমরানের বন্দিজীবনের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার দেয়া বার্তাও। উজমা বলেন, ইমরান তাকে জানিয়েছেন যে, গত ১০ মাস ধরে তার সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। সবার কাছে গিয়ে এই অন্যায় ও নির্যাতনের কথা জানাতে ইমরান তাকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান উজমা।

তবে, শারীরিকভাবে ইমরানের অবস্থা ভালো বলে দাবি করেছেন তার বোন। তিনি বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইমরান পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন।’ চিকিৎসাকর্মীরা তার রক্তচাপ পরিমাপ করেছেন এবং তা ১২০/৮০ ছিল বলে তিনি জানান।

উজমা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ডেকে পাঠানো হয়। প্রথমে তাকে পুলিশের উপপরিদর্শক সাকলায়েনের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি ছোট গাড়িতে করে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল পৌঁছে ওপরে গিয়ে তিনি ইমরানকে দেখতে পান। উজমার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখিয়েছিলেন এবং বলেছেন যে প্রায় ১০ মাস পর তার বোন তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

উজমা বলেন, সাক্ষাতের সময় কর্মকর্তারা নানা কারণ দেখিয়ে দেরি করছিলেন। তাকে ও অন্যদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে রাখা হচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল, কর্মকর্তারা শুধু সময় পার করছেন। চিকিৎসা পরীক্ষার সময় ইমরানের চোখের চিকিৎসা নিয়েও কথা হয়েছিল। উজমার দাবি, চিকিৎসাকর্মীরা তার চোখের ড্রপ সম্পর্কে জানতে চান। পরে একটি চোখে চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয় এবং সেখানে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর অন্য চোখটি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পুরো সময় তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা কর্মকর্তারা জানাননি বলে উজমা অভিযোগ করেন। তিনি বলেছেন, তিনি বারবার গন্তব্যের সম্পর্কে জানতে চাইলেও কেউ তাকে উত্তর দেননি। তারা শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ প্রশ্নেরও কোনো উত্তর পাননি। পরে আরিফ নামের একজন চিকিৎসক তার সঙ্গে পরিচিত হন বলে উজমা জানান। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান তার বর্তমান বন্দিজীবনকে সাবেক মিসরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বন্দিত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলেও উজমা জানিয়েছেন।

উজমার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান বলেছেন, তাকে যেভাবে একাকী বন্দি করে নির্যাতন করা হচ্ছে, মুরসিকেও একইভাবে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং পরে তিনি মারা যান। ইমরান তাকে জানিয়েছেন, একজন চিকিৎসক বলেছেন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে। ফজরের আজানের সময়ের দিকে ইমরানের সঙ্গে উজমার সাক্ষাৎ শেষ হয়। এরপর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানও আলাদা গাড়িতে করে কারাগারে পৌঁছান।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে এসব তথ্য প্রকাশের পর খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে পিটিআই আদালত অবমাননার আবেদন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আগে, শুক্রবার দিনের শুরুতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে তাকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ডন এ তথ্য জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশনা মেনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও পরবর্তীতে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। সপ্তাহের শুরুতে আদালত এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছিল।

তোশাখানা মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ইমরান খান। ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি কারাগারের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে তার রক্তচাপ ওঠানামা এবং এ-সংক্রান্ত কিছু শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। এরপর ভোরের আগে তাকে সরাসরি আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে পশ্চিম তীরকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


যেভাবে পশ্চিম তীরকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জায়গাটি আমাদের।’ উক্ত অনুষ্ঠানে জেরুজালেমের পূর্বদিকের ‘ই১’ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের কাজ সামনে এগিয়ে নিতে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন নেতানিয়াহু। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ই১ এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় বড় ধরনের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশের তরফ থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের সংকট’ সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর ফলে পশ্চিম তীরে ভৌগোলিক বিভাজন তৈরি হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পরিকল্পনাটি বন্ধ করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়, ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও গোলান মালভূমি দখল করে। এর পরে থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হলেও, গত কয়েক দশকে পশ্চিম তীরে এসব বসতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি নির্মাণ করেছে। এসব বসতিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বাস করছেন। ২০২২ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ওই বছর, ডানপন্থী ও বসতিপন্থী জোটের নেতৃত্বে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের সময় বসতি নির্মাণের প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হল পশ্চিম তীরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জোফিম বসতি।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে জোফিমে প্রায় ১৮৫টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত বসতিটি হলো আগে উল্লেখ করা ই১ বসতি। এর কারণ বুঝতে হলে, বসতিটি কোথায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই এলাকার মানচিত্র দেখতে হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম বাকি পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রকল্পটির বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে, রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করা একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে।

ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। সংগঠনটি বলছে, সরকার আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের আগেই ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করছে। এতে পরবর্তী সরকার, ক্ষমতায় এসে নির্মাণকাজ বাতিল করতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

শুধু বসতিই সম্প্রসারিত হচ্ছে না। গত কয়েক বছরে, পশ্চিম তীরের প্রশাসনের একটি বৃহৎ অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব রাস্তা অনেক ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোর মধ্যে যোগাযোগও বিভক্ত করছে।

স্মোট্রিচের মতে, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, বসতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে থাকবে না, বরং বাস্তবেও স্থায়ীভাবে গড়ে উঠবে। চলতি বছরের মে মাসে, ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য এক বিলিয়ন শেকেলের বেশি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেয়। সরকারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অর্থায়নের লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ডলার বা ২৪ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বেড়েছে। সম্প্রতি, বসতি স্থাপনকারীরা দুটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘেরাও করে, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনাকে ইসরায়েলি বসতির অন্যতম সমর্থক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ‘অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে নিন্দা করেছেন।

সব মিলিয়ে, এসব ঘটনায় পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, পশ্চিম তীরে চলমান পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বাস্তবে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বক্তব্যেও এমন পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২০২৪ সালে এক ভাষণে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছিলেন, ই১ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায়’, অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েল যে নামে উল্লেখ করে, প্রথমে বাস্তবে এবং পরে আইনের মাধ্যমে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ করে দেওয়া।’

ই১ প্রকল্পের জন্য সাম্প্রতিক দরপত্র আহ্বানের খবর এমন সময় এসেছে, যখন ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%