ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারাগারে ইমরান খান ‘চরম নির্যাতনের’ শিকার: বোন


কারাগারে ইমরান খান ‘চরম নির্যাতনের’ শিকার: বোন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে গুরুতরভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। তার বোন উজমা খান অভিযোগ করেছেন যে, ইমরানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। উজমা তার ভাইয়ের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করার পর এই অভিযোগগুলো করেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের কে-পি হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে উজমা তার ভাই ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, ইমরানের বন্দিজীবনের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার দেয়া বার্তাও। উজমা বলেন, ইমরান তাকে জানিয়েছেন যে, গত ১০ মাস ধরে তার সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। সবার কাছে গিয়ে এই অন্যায় ও নির্যাতনের কথা জানাতে ইমরান তাকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান উজমা।

তবে, শারীরিকভাবে ইমরানের অবস্থা ভালো বলে দাবি করেছেন তার বোন। তিনি বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইমরান পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন।’ চিকিৎসাকর্মীরা তার রক্তচাপ পরিমাপ করেছেন এবং তা ১২০/৮০ ছিল বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

উজমা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ডেকে পাঠানো হয়। প্রথমে তাকে পুলিশের উপপরিদর্শক সাকলায়েনের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি ছোট গাড়িতে করে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল পৌঁছে ওপরে গিয়ে তিনি ইমরানকে দেখতে পান। উজমার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখিয়েছিলেন এবং বলেছেন যে প্রায় ১০ মাস পর তার বোন তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

উজমা বলেন, সাক্ষাতের সময় কর্মকর্তারা নানা কারণ দেখিয়ে দেরি করছিলেন। তাকে ও অন্যদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে রাখা হচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল, কর্মকর্তারা শুধু সময় পার করছেন। চিকিৎসা পরীক্ষার সময় ইমরানের চোখের চিকিৎসা নিয়েও কথা হয়েছিল। উজমার দাবি, চিকিৎসাকর্মীরা তার চোখের ড্রপ সম্পর্কে জানতে চান। পরে একটি চোখে চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয় এবং সেখানে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর অন্য চোখটি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পুরো সময় তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা কর্মকর্তারা জানাননি বলে উজমা অভিযোগ করেন। তিনি বলেছেন, তিনি বারবার গন্তব্যের সম্পর্কে জানতে চাইলেও কেউ তাকে উত্তর দেননি। তারা শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ প্রশ্নেরও কোনো উত্তর পাননি। পরে আরিফ নামের একজন চিকিৎসক তার সঙ্গে পরিচিত হন বলে উজমা জানান। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান তার বর্তমান বন্দিজীবনকে সাবেক মিসরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বন্দিত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলেও উজমা জানিয়েছেন।

উজমার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান বলেছেন, তাকে যেভাবে একাকী বন্দি করে নির্যাতন করা হচ্ছে, মুরসিকেও একইভাবে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং পরে তিনি মারা যান। ইমরান তাকে জানিয়েছেন, একজন চিকিৎসক বলেছেন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে। ফজরের আজানের সময়ের দিকে ইমরানের সঙ্গে উজমার সাক্ষাৎ শেষ হয়। এরপর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানও আলাদা গাড়িতে করে কারাগারে পৌঁছান।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৮ সেনা নিহত

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে এসব তথ্য প্রকাশের পর খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে পিটিআই আদালত অবমাননার আবেদন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আগে, শুক্রবার দিনের শুরুতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে তাকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ডন এ তথ্য জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশনা মেনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও পরবর্তীতে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। সপ্তাহের শুরুতে আদালত এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছিল।

তোশাখানা মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ইমরান খান। ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি কারাগারের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে তার রক্তচাপ ওঠানামা এবং এ-সংক্রান্ত কিছু শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। এরপর ভোরের আগে তাকে সরাসরি আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে পশ্চিম তীরকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


যেভাবে পশ্চিম তীরকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জায়গাটি আমাদের।’ উক্ত অনুষ্ঠানে জেরুজালেমের পূর্বদিকের ‘ই১’ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের কাজ সামনে এগিয়ে নিতে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন নেতানিয়াহু। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ই১ এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় বড় ধরনের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশের তরফ থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের সংকট’ সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর ফলে পশ্চিম তীরে ভৌগোলিক বিভাজন তৈরি হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পরিকল্পনাটি বন্ধ করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়, ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও গোলান মালভূমি দখল করে। এর পরে থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হলেও, গত কয়েক দশকে পশ্চিম তীরে এসব বসতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি নির্মাণ করেছে। এসব বসতিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বাস করছেন। ২০২২ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ওই বছর, ডানপন্থী ও বসতিপন্থী জোটের নেতৃত্বে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের সময় বসতি নির্মাণের প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হল পশ্চিম তীরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জোফিম বসতি।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে জোফিমে প্রায় ১৮৫টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত বসতিটি হলো আগে উল্লেখ করা ই১ বসতি। এর কারণ বুঝতে হলে, বসতিটি কোথায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই এলাকার মানচিত্র দেখতে হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম বাকি পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রকল্পটির বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে, রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করা একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে।

ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। সংগঠনটি বলছে, সরকার আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের আগেই ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করছে। এতে পরবর্তী সরকার, ক্ষমতায় এসে নির্মাণকাজ বাতিল করতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

শুধু বসতিই সম্প্রসারিত হচ্ছে না। গত কয়েক বছরে, পশ্চিম তীরের প্রশাসনের একটি বৃহৎ অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব রাস্তা অনেক ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোর মধ্যে যোগাযোগও বিভক্ত করছে।

স্মোট্রিচের মতে, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, বসতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে থাকবে না, বরং বাস্তবেও স্থায়ীভাবে গড়ে উঠবে। চলতি বছরের মে মাসে, ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য এক বিলিয়ন শেকেলের বেশি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেয়। সরকারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অর্থায়নের লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ডলার বা ২৪ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বেড়েছে। সম্প্রতি, বসতি স্থাপনকারীরা দুটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘেরাও করে, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনাকে ইসরায়েলি বসতির অন্যতম সমর্থক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ‘অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে নিন্দা করেছেন।

সব মিলিয়ে, এসব ঘটনায় পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, পশ্চিম তীরে চলমান পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বাস্তবে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বক্তব্যেও এমন পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২০২৪ সালে এক ভাষণে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছিলেন, ই১ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায়’, অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েল যে নামে উল্লেখ করে, প্রথমে বাস্তবে এবং পরে আইনের মাধ্যমে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ করে দেওয়া।’

ই১ প্রকল্পের জন্য সাম্প্রতিক দরপত্র আহ্বানের খবর এমন সময় এসেছে, যখন ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


ঝিনাইদহে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরি করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা দুই সন্দেহভাজন চোরের মধ্যে গণপিটুনির ফলে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপরজনকে আজ শনিবার সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে এই তত্ত্বাবধানযোগ্য ঘটনাটি ঘটে।

নিলুফা বেগম নামে এক বিধবা নারী জানান, গভীর রাতে তার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে ওই দুজন। তিনি টের পেয়ে চিৎকার দিলে আশেপাশের গ্রামবাসী ধাওয়া করে তাদের ধরে ফেলে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের দুজনকে গণধোলাই দিতে শুরু করে।

এই ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং অন্যজন মারাত্মকভাবে আহত হন। হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। ঘটনা নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা তিন দফায় স্বর্ণের ভরি বাড়ল ১১ হাজার টাকার বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


টানা তিন দফায় স্বর্ণের ভরি বাড়ল ১১ হাজার টাকার বেশি

দেশের বাজারে সবশেষ ৫ দফা দাম সমন্বয়ের পর ৪ বারই বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে সবশেষ টানা ৩ দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে মোট ১১ হাজার ৪৮৯ টাকা।

সবশেষ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ৩য় দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। এবার সংগঠনটি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, সবশেষ গত ২০ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৫৪ দফা বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৩৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; বাকি ৩০ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হলে JCD লেখা নিয়ে প্রতিবাদ, কুবির শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ মারধরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুবি প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


হলে JCD লেখা নিয়ে প্রতিবাদ, কুবির শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ মারধরের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ কয়েকজন মিলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৫০৮ নম্বর কক্ষে ও বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন একই বিভাগের আকাশ রাজবংশী ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরী এবং আইন বিভাগের ফয়সাল। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সনব দেবনাথ ও মারুফ হোসাইনকেও মারধরে অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামুন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরের দেয়ালে ‘JCD’, ‘407’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা দেখা যায়। এসব লেখা নিয়ে হলের গ্রুপে আলোচনা শুরু হলে মামুনুর রশিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ, ফয়সাল ও আকাশ মামুনের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জুনিয়র শিক্ষার্থী সনব ও মারুফও তাকে মারধর করেন বলে দাবি মামুনের।

মামুনুর রশিদ বলেন, “হল রাজনীতি করার জায়গা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জায়গা। দেয়ালে ছাত্রদল, শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নাম লিখলে হলের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। যার যার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা দেয়ালে লেখার প্রয়োজন নেই। আমি জুলাইয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এমন পরিবেশের জন্য লড়াই করেছি, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেয়ালে রাজনৈতিক লেখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন আমাকে গুপ্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এরপর ফয়সাল আমাকে ম্যাসেন্জারে কল দিয়ে ফোনে হুমকি দেয়। পরে সোহাগ, ফয়সাল, আকাশসহ কয়েকজন আমার রুমে এসে কেন ছাত্রলীগ বলেছি এ নিয়ে আমাকে মারতে আসে। মারামারির একপর্যায়ে জুনিয়র মারুফ এবং সনব আমাকে মারতে আসে, মারুফ আমার নাকে ঘুষি মারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগ চৌধুরী বলেন, তারা মামুনুর রশিদের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে গেলে মামুন তাকে ধাক্কা দেন। পরে ফুলের টব ও দা নিয়ে তাদের মারতে আসলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাদের সঙ্গে কোনো জুনিয়র শিক্ষার্থী ছিল না।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচিং মার্মা বলেন, “আমি গিয়ে দেখি মারামারি শুরু হয়ে গেছে। লাইট বন্ধ থাকায় মুখগুলো ভালোভাবে চেনা যায়নি। মারামারি একপর্যায়ে আমাদের রুমের সামনে চলে আসে। দেখছিলাম মামুন ভাই মার খাচ্ছেন। আমি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি।” এছাড়াও মামুনুর রশিদের হাতে হাতে কোন দা ছিলনা, একটি ফুলের টব ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তিনি তার হাত থেকে সেটা নিয়ে নেন।

এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করতে রাজি থাকলেও মামুন সাংবাদিকদের সামনে বা ভিডিওতে বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তাই দুই পক্ষকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%