সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৫ পি.এম
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ইজারা বা ভাড়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য এই রিটটি করা হয়েছে।
এছাড়া, বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত সকল বিআরটিসি বাস সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে চালানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই রিটটি দায়ের করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন, ২০২০ অনুযায়ী বিআরটিসির বাস জনস্বার্থে সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহন হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য এসব বাস ইজারা দেওয়া হচ্ছে, যা আইনটির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা, ২০০৭ অনুযায়ী কেবল অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাস ইজারা নিতে পারেন এবং ইজারা নেওয়া বাস তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরও নিষিদ্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস দেওয়ার মাধ্যমে এসব বিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটকারীর দাবি, জনগণের করের টাকায় কেনা বিআরটিসির বাস সাধারণ যাত্রীদের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা সংবিধানের সমতা ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া নিলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে।
এসব বিবেচনায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমেই, চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান।
এরপর, আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।" তিনি দুই দেশের সম্পর্কের আরও দৃঢ় হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের পরাজয়ের পর, বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি একাদশে চারটি পরিবর্তন করেছেন। বাদ পড়েছেন তপু ও সোহেল রানা। নতুন খেলোয়াড় হিসেবে দলে যুক্ত হয়েছেন জিদান, জামাল, শুকি ও মোরসালিন।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারের পর, সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচে মূল একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। মিডফিল্ডার সোহেল রানা এবং ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু মূল একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন।
মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তিন গোলের ক্ষেত্রে তপুর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। সোহেল রানার পারফরম্যান্স নিয়েও কোচ ডুলির অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল।
দলীয় ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তপুর জায়গায় রক্ষণে সুযোগ পেয়েছেন জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। সোহেল রানার পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন জামাল ভূঁইয়া।
এছাড়া, ফারহান আলী ওয়াহিদের জায়গায় খেলছেন শুকি ইতোফুসা এবং ফাহামেদুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে এসেছেন শেখ মোরসালিন।
অর্থাৎ, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন চারজন: তপু, সোহেল, ফারহান ও ফাহামেদুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন যে, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের উদ্দেশ্য গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়, বরং সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করা। এই আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, কুমিল্লায় অপ্রতিমের ঘটনার মতো দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে জড়িত যে সকল অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেগুলো প্রতিরোধ করাই সাইবার সুরক্ষা আইনের মূল লক্ষ্য। সরকার চায় না যে, কোনো সাংবাদিক এই আইনের অপব্যবহারের শিকার হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে। তবুও, এখন থেকেই মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
দেশের অন্যান্য স্থানের মতো যশোরের কেশবপুরেও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উৎসবের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। গতবছর এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯১টি মণ্ডপে, আর এবার হচ্ছে ১০১টি মণ্ডপে। পূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য আয়োজন।
এদিকে, দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পী, কারিগর এবং পূজা উৎযাপন কমিটির সদস্যরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করে দেখা যায়, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের মাটির কাজ এবং লেপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন রং-তুলির সাহায্যে প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে।
এ বছর কেশবপুরে দুর্গাপূজার জন্য প্রস্তুত ১০১টি মণ্ডপের মধ্যে কেশবপুর পৌরসভায় আটটি, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে একটি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৬টি, মজিদপুর ইউনিয়নে সাতটি, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে চারটি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ছয়টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে সাতটি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৯টি, সুফলাকাটি ইউনিয়নে ১১টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ১২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং হাসানপুর ইউনিয়নে আটটি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মণ্ডপ প্রস্তুত হয়েছে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের মালোপাড়ার পূজামণ্ডপে এবার প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
দেবীর আগমনের মাহিন্দ্রক্ষণে অপেক্ষা করে দিন-রাত প্রতিমার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত শিল্পীরা।
কেশবপুর কালীবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন খুলনা জেলার কপিলমনির শিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস। তিনি জানান, এবছর যশোরের কেশবপুর, খুলনার কপিলমনি এবং সাতক্ষীরাসহ সাতটি স্থানে প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন। তার সঙ্গে পাঁচজন সহযোগী রয়েছেন। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়ে রং-তুলির কাজ শুরু করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে রং-তুলির কাজও সম্পন্ন হবে।
প্রহ্লাদ জানান, তার সঙ্গে থাকা ভাস্কর্য শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার পর যা থাকে, তাতে কোনোরকমে দিন পার হয় তার।
সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মালোপাড়া মণ্ডপে এবার প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন হওয়ায় এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে বলে জানান মণ্ডপ কমিটির সভাপতি অসীম বিশ্বাস।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা জানান, এ বছর কেশবপুরে ১০১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা গড়ার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রং-তুলির কাজ শেষ হলে প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। গতবছর এ উপজেলায় ৯১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেশবপুর কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি পঙ্কজ দাস জানান, মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে এবছর তাদের খরচ হচ্ছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। পূজা শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে সাড়ম্বরে পূজার অনুষ্ঠান শেষ করা যাবে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি, আনসার এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সুষ্ঠুভাবে পূজা উৎযাপনের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা বলায় গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক মণ্ডপে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাও থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ