০২:২৫ পি.এম
মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা টেডি মেলেনক্যাম্প ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্যেই নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে তিনি চার মাসের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। প্রেমিক পিজে কনলি নিজেই সম্পর্কটি শেষ করেছেন। সম্প্রতি, ৪৫ বছর বয়সী এই তারকা নিজের পডকাস্টে বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা ও এ নিয়ে মনের কথা তুলে ধরেছেন।
মেলেনক্যাম্প ৩০ অক্টোবর প্রচারিত ‘টু টিস ইন এ পড’ পডকাস্টের এক পর্বে বিষয়টি জানান। অনুষ্ঠানটি তিনি উপস্থাপনা করেন ‘দ্য রিয়েল হাউজওয়াইভস অব অরেঞ্জ কাউন্টি’র তারকা টামরা জাজের সঙ্গে। ওই পর্বে অতিথি হিসেবে ছিলেন ‘দ্য রিয়েল হাউজওয়াইভস অব নিউ জার্সি’র ডলোরেস ক্যাটানিয়া। কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেলেনক্যাম্প। তিনি জানান, আগের রাতে রাতের খাবার খাওয়ার সময় তাদের বিচ্ছেদের কথা হয়।
মেলেনক্যাম্প বলেন, সেদিন তাদের সময় ভালোই কাটছিল। একপর্যায়ে কনলি ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চান। তবে তিনি মনে করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা করার মতো অবস্থায় নিজেকে তিনি মনে করেন না। কারণ, ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিদিনের জীবনকে গুরুত্ব দিতে শিখিয়েছে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে তিনি বেঁচে থাকবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নন। তাই বর্তমানে যে সময়টুকু পাচ্ছেন, সেটি উপভোগ করতে চান।
আরও পড়ুন: অভিনয়ের মাঝেই মঞ্চে ঢলে পড়লেন নাট্যব্যক্তিত্ব সেলিম
২০২২ সালের অক্টোবরে প্রথমবার স্টেজ ২ মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হন মেলেনক্যাম্প। পরে রোগটি স্টেজ ৪-এ পৌঁছে মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক পডকাস্টে তিনি জানান, স্ক্যানে শনাক্তযোগ্য কোনো ক্যান্সার দেখা যায়নি। তবে তখনো তাকে পুরোপুরি রোগমুক্ত বলা হয়নি। চলতি বছরের জুনে চিকিৎসক তাকে রোগমুক্ত ঘোষণা করেন। সেপ্টেম্বরে ‘এক্সট্রা’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আপাতত ক্যান্সারমুক্ত থাকলেও ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার আরো ১০ মাস বাকি।
মেলেনক্যাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র চার মাসের সম্পর্ক হলেও কনলির সঙ্গে তার গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছিল। দুজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও পরিচয় হয়েছিল। ক্যান্সারের অভিজ্ঞতার পর নিজের জীবন ও পরিচয় নতুন করে বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি। এই পরিবর্তনের মধ্যেই কনলিকে ভালোবাসতে চেয়েছিলেন।
সম্পর্কের শুরু থেকেই নিজের অনুভূতি পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেননি বলেও জানান মেলেনক্যাম্প। কনলিকে ভয় পাইয়ে দিতে চাননি তিনি। একপর্যায়ে কনলি তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুর অভাব আছে কি না, তা জানতে চান। মেলেনক্যাম্প জানান, তিনি সম্পর্কে সুখী। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কনলির প্রশ্ন চলতেই থাকে।
একপর্যায়ে মেলেনক্যাম্প জানতে চান, কনলি আসলে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছেন। জবাবে কনলি জানান, মেলেনক্যাম্পকে তার ভালো লাগে, তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে এবং দুজনের মধ্যে আকর্ষণ ও বোঝাপড়াও রয়েছে। একসঙ্গে কাটানো সময়ও ছিল আনন্দের। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবলে সেখানে মেলেনক্যাম্পকে দেখতে পান না তিনি।
আরও পড়ুন: জয়া বচ্চন অমিতাভকে ডাকতেন ‘লম্বুজি’, জানালেন বিগ বি
কনলির এই কথায় ভেঙে পড়েন মেলেনক্যাম্প। একসময় তাকে নিজের জন্য সঠিক মানুষ বলে মনে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। বিচ্ছেদের পর নিজের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে তার মনে। তার কথায়, কনলিই যেন কঠিন সময়ের মধ্যে তাকে নতুন করে বাঁচার অনুভূতি দিচ্ছিলেন।
এ সময় বন্ধুকে সান্ত্বনা দেন ক্যাটানিয়া। তিনি বলেন, কনলি একজন ভালো মানুষ হলেও মেলেনক্যাম্পের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে পারেন—এমন একমাত্র পুরুষ তিনি নন। ভবিষ্যতে আরও কেউ তার প্রতি একই রকম যত্নশীল হতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন