প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের আলোচিত ধর্মীয় প্রচারক ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, সম্প্রতি হিন্দু দেবতা রাম এবং কৃষ্ণকে তুলনা করার পর ক্ষমা চেয়েছেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি দাবি করেছেন যে, তার বক্তব্যের একটি অংশ প্রচার করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এলাকায় রামকথা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ৩০ বছর বয়সী এই ধর্মীয় প্রচারক রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করেন। সেখানে তিনি রামকে ‘সোজা’ এবং কৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার এই বক্তব্যের কারণে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে।
সমালোচনার মুখে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, তিনি কখনোই রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাননি। তিনি জানান, ভক্তিমূলক একটি পদ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে পুরো বক্তব্য না শুনে ভিডিওর একটি অংশ দেখে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি নিজেও ঠাকুরজির (কৃষ্ণ) ভক্ত। ব্রজভূমির প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। প্রার্থনার সময় আমি ঠাকুরজির কাছে ব্রজে জীবন কাটানোর সুযোগ চাই।’
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী আরও দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রচলিত ভক্তিমূলক পদের ভাব ব্যাখ্যা করা। ওই পদে বাঁশি বাজানোকে খেলা এবং ধনুক চালানোকে গুরুতর বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তার কথায়, কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
এর আগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, রাম সোজাসাপটা, তার নাম, চেহারা ও চলাফেরাও সোজা। অন্যদিকে কৃষ্ণকে বাঁকা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও কটাক্ষ করেন। মঞ্চে একজন বাঁশিবাদককে দেখিয়ে তিনি বলেন, বাঁশি বাজানো কোনো বড় বিষয় নয়; কিন্তু ধনুক চালানো আলাদা ব্যাপার।
এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি জানান, হিন্দু দেবতাদের নিয়ে এ ধরনের অবমাননাকর তুলনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও আপত্তিকর।
বিতর্কের জবাবে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, তিনি কৃষ্ণের বিরোধী নন। বরং কৃষ্ণের জন্মভূমির দাবির পক্ষে বারবার কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, কৃষ্ণের প্রতি তার নিজেরও ভক্তি রয়েছে। বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন