প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সন্ধ্যার আকাশে তারার ফুল ফুটতে শুরু করেছে, নিচে গাছ থেকে তোলা তাজা ফুল। ফুলে ফুলে ঢাকা পড়েছে সমাধিগুলো। প্রত্যেক সমাধিতে রয়েছে মোমবাতির সারি। পরিচ্ছন্ন সমাধিস্থল ঘিরে তখন অপার্থিব আবেশ বিরাজমান।
দিনাজপুরের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে সোমবারের সন্ধ্যা ছিল বিশেষ। এই দিনটি ‘অল সোলস ডে’ নামে পরিচিত। এদিন সন্ধ্যায় প্রয়াতদের আত্মাকে স্মরণ করে তারা। সমাধিস্থল পরিষ্কার করে, ধূপকাঠি জ্বালিয়ে, ফুলে ফুলে ছেয়ে ফেলেন। মোমবাতির সারিতে আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে সমাধিগুলো।
বিভিন্ন সমাধিস্থলে ঘুরে দেখা যায়, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রিয়জনদের সমাধিতে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সমাধিগুলোতে জ্বলছে ধূপকাঠি ও মোমবাতি। এর আগে কয়েকদিন ধরে তারা সমাধি পরিষ্কার করে, কাদা দিয়ে লেপে দিয়েছেন সমাধিগুলো।
সমাধিস্থলে আসা মৃতদের স্বজনরা জানান, প্রতিবছর ২ নভেম্বর ‘অল সোলস ডে’ পালন করেন তারা। স্বজন বা প্রিয়জনের সমাধিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে, ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে, পবিত্র জল ছিটিয়ে অল সোলস ডে বা বিশ্ব আত্মার শান্তি দিবস পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও দিনাজপুরের গির্জাগুলোতে প্রার্থনা করেন শত শত মানুষ।
দিনাজপুর শহরের নিউটাউন মহাজন পাড়াসংলগ্ন খ্রিস্টান সিমেট্রিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সমাধিতে ফুল দিয়ে, ধূপকাঠি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রিয়জনের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এ সময় সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ প্রার্থনা করতেও দেখা যায় তাদের।
খ্রিস্টান সিমেট্রিতে থাকা মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন বিশ্বনাথ লাকরা (৫৫)। তিনি জানান, তিন বছর আগে মারা গেছেন তার মা মিরা দেবী। তার ভাষ্য, “প্রিয়জন পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদের স্মৃতি ও ভালোবাসা যে অমলিন, সেই বার্তাই বহন করে ‘অল সোলস ডে’। প্রয়াতদের স্মরণ, তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং আত্মার শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।”
বিলিন বিলিন কুইয়া নামের একজন বলেন, “মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন