বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ এম
ছাতক থেকে সিলেটে পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও, কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রেলপথ দিয়ে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য সারা দেশে পাঠানো হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন।
২০২২ সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে সব ধরনের রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় রেলপথের মূল্যবান স্লিপার ও লোহার পাত (রেললাইন) চুরি হয়েছে।
এরপর ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন।
জানা যায়, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন পুণর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটির নাম ২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুণর্বাসন প্রকল্প।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জিওবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগেজ রেলপথ সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ রেলপথ সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়।
রেলপথ পুণর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রদূত গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, "এখনো কোনো বাংলাদেশির নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা খোঁজ খবর রাখছি।"
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ফলে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। বাংলাদেশ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে নেপালকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৪৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, রমনা বিভাগ থেকে ৪৫ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩০ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৪ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯২ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪৬ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৭৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৬৭৮ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ২১ লিটার দেশীয় মদ, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৭৯ সালের শেষের দিকে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটে। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে অনেকেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, নতুন এই মতাদর্শিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে, রাষ্ট্র গঠনের তাড়না এবং প্রতিষ্ঠার মাত্র দশ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমণের ফলে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয়। এই আবহে সিরাজ শহরের শাহ চেরাগ নামে পরিচিত স্থান থেকে উঠে আসা আহমদ শাহচেরাগি নতুন গঠিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যোগ দেন।
এই আদর্শিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ওয়াহিদি রাখেন, যার অর্থ এক বা প্রথম। সম্প্রতি, তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এই নিয়োগ এমন এক প্রেক্ষাপটে হয়েছে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ৪৭ বছর আগে শুরু হওয়া ইরাক যুদ্ধের জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনা পুনরায় স্মরণ করতে হচ্ছে। মার্চ মাস থেকে আইআরজিসির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতারোহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে ওয়াহিদি বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিলেন। সামরিক নেতৃত্বের পদে নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়ে, মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা ডেপুটি নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের মধ্যে তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জেরুজালেমকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বাহিনীটি বিদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির (১৯৯৮-২০২০) আমলে বাহিনীটি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছায়, ওয়াহিদিই এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠনমূলক দিনগুলোতে।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, ফলে তিনি ইন্টারপোল রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার প্রথম ব্যক্তিত্ব হন। কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গে তিনি বেশি কাজ করেছেন, আহমাদিনেজাদের প্রথম মেয়াদে প্রধান উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১০ সাল থেকে অস্ত্র প্রসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
আহমদ ওয়াহিদির ক্যারিয়ার শুধুমাত্র সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি নানামুখী জটিলতাও মোকাবিলা করেছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও, বিভিন্ন বিতর্ক থেকে পুনরুত্থানের ঝুঁকি নেওয়া জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইরাক যুদ্ধের ক্ষত মেটানোর সময় ওয়াহিদি যুদ্ধকালীন তৈরি হওয়া বহির্মুখী উদ্যমকে কাজে লাগাতে কুদস ফোর্সকে প্রথম বড় অভিযানে পাঠান; বসনিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের পক্ষে। যদিও বসনিয়াতে আল কায়েদার মতো দলগুলোর আধিপত্য এবং শিয়াদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে হিজবুল্লাহর মতো সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সোলাইমানির অধীনে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে ইরানের কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত গোয়েন্দা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছিল।
বসনিয়া অভিযানে আশানুরূপ ফল না পেলেও ওয়াহিদি লেবানন ফ্রন্টে সক্রিয় থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা ওয়াহিদিকে অভিযুক্ত করে। এই ঘটনা ইরান ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী সংঘাত তৈরি করলেও, ওয়াহিদির অবস্থানকে আইআরজিসির অভ্যন্তরে দুর্বল করেনি বরং আন্তর্জাতিক এই অভিযোগগুলোকে বাহ্যিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে তেহরান তার নেতৃত্বকে আরও সংহত করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার মনে করতেন। ২০১২ সালে তিনি ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারে উন্নীত করার কর্মসূচির তদারকি করেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মুখে তিনি স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশকে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘোষণা করেন যে ইরানে আক্রমণ চালানো হবে ইসরায়েলের জন্য আত্মঘাতী। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন বাভার-৩৭৩) গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতার তদারকি করেন এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গঠিত ওঘাব-২ সংস্থার দায়িত্ব নেন।
ওয়াহিদির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈপরীত্য ছিল তার চরম আদর্শিক অবস্থান সত্ত্বেও কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শন। ১৯৮৫-৮৭ সালের বহুল আলোচিত 'ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ার'-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গোপন অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওয়াহিদির হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাবই তেহরানকে সাহায্য করেছিল লেবাননে জিম্মি আমেরিকানদের মুক্ত করে ইসরায়েলের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করতে। তবে ক্ষমতার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বিপদেও পড়তে হয়েছিল; ১৯৮৮ সালে কেরমানশাহ প্রদেশে ইরাক সমর্থিত কমিউনিস্টদের (এমইকে) আক্রমণের দায় তার ওপর চাপানো হলে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরে আলি আকবর হাশেমি রফসানজানির মধ্যস্থতায় তিনি বড় শাস্তি থেকে রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অতি সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনে নিজের রাজনৈতিক ডেপুটি মোহাম্মদ-রেজা গোলামরেজাকে অপসারণ করার মতো কৌশলগত নমনীয়তাও দেখান।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আহমদ ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অধীনে কাজ করছেন। তার সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দুজনেরই ইতিহাস দীর্ঘ এবং দুজনেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত হলেও তারা আইআরজিসির শক্তি সংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালে এসে তেহরানের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি ওয়াহিদির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাটি একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রশাসনে রিভোলিউশনারি গার্ডসের প্রভাব চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোরমুজ প্রণালীতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন সময়ে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ ভেটেরানের উত্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব শক্তির চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক সফর মস্কো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাশিয়ার রাজধানীতে তাঁর সফরের বিষয়টি আগে থেকে ঘোষণা না দেওয়ার পর বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফরটিকে অনেকটাই নিয়মিত বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি একটি উড়োজাহাজে র্যাটক্লিফ মস্কোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করেন। সিআইএ পরিচালকের এই ধরনের সফর সাধারণত বিরল।
র্যাটক্লিফের সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন এবং মার্কিন বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বুধবার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে র্যাটক্লিফের সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন কিনা, এবং সিআইএ প্রধানের সফরের উদ্দেশ্য হতে পারে কি না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ট্রাম্প এসব সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, "এর কোনোটিই নয়।" গ্লেন বেক এসব জল্পনাকে ‘পাগলামি’ হিসেবে উল্লেখ করলে ট্রাম্প র্যাটক্লিফের সফরকে ‘খুবই সেমি-রুটিন’ বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মানুষকে হতাশ করতে চান না এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়। র্যাটক্লিফের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জন র্যাটক্লিফ একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি সিআইএর প্রধান এবং পূর্বে উল্লিখিত কোনো কারণে তিনি মস্কো যাননি। তবে সফর থেকে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, "এর মধ্য থেকে কিছু একটা বেরিয়ে আসতে পারে।"
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উভয় পক্ষই যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়।
তবে র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি সফরের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানায়, রাশিয়াকে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করাই ছিল র্যাটক্লিফের সফরের মূল উদ্দেশ্য।
র্যাটক্লিফের এই সফর ২০২১ সালের নভেম্বরের পর মস্কোতে কোনো সিআইএ পরিচালকের প্রথম সফর। ওই সময় তাঁর পূর্বসূরি বিল বার্নস মস্কো গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালালে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
পরে অবশ্য পুতিন সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। তবে তাঁর সেই প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, সেই সম্পর্ক এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কার্যকর ফল আনতে পারেনি। এর মধ্যেই র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সফরের সময় র্যাটক্লিফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ