প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক সফর মস্কো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাশিয়ার রাজধানীতে তাঁর সফরের বিষয়টি আগে থেকে ঘোষণা না দেওয়ার পর বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফরটিকে অনেকটাই নিয়মিত বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি একটি উড়োজাহাজে র্যাটক্লিফ মস্কোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করেন। সিআইএ পরিচালকের এই ধরনের সফর সাধারণত বিরল।
র্যাটক্লিফের সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন এবং মার্কিন বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বুধবার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে র্যাটক্লিফের সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন কিনা, এবং সিআইএ প্রধানের সফরের উদ্দেশ্য হতে পারে কি না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ট্রাম্প এসব সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, "এর কোনোটিই নয়।" গ্লেন বেক এসব জল্পনাকে ‘পাগলামি’ হিসেবে উল্লেখ করলে ট্রাম্প র্যাটক্লিফের সফরকে ‘খুবই সেমি-রুটিন’ বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মানুষকে হতাশ করতে চান না এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়। র্যাটক্লিফের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জন র্যাটক্লিফ একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি সিআইএর প্রধান এবং পূর্বে উল্লিখিত কোনো কারণে তিনি মস্কো যাননি। তবে সফর থেকে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, "এর মধ্য থেকে কিছু একটা বেরিয়ে আসতে পারে।"
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উভয় পক্ষই যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়।
তবে র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি সফরের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানায়, রাশিয়াকে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করাই ছিল র্যাটক্লিফের সফরের মূল উদ্দেশ্য।
র্যাটক্লিফের এই সফর ২০২১ সালের নভেম্বরের পর মস্কোতে কোনো সিআইএ পরিচালকের প্রথম সফর। ওই সময় তাঁর পূর্বসূরি বিল বার্নস মস্কো গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালালে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
পরে অবশ্য পুতিন সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। তবে তাঁর সেই প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, সেই সম্পর্ক এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কার্যকর ফল আনতে পারেনি। এর মধ্যেই র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সফরের সময় র্যাটক্লিফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন