মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১১:০৩ এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গোমস্তাপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে গোমস্তাপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. জেনারুল সেখ-এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চাঁড়ালডাঙ্গা গ্রামের কেরাম উদ্দিনের বসতবাড়ির সামনে যাতাহারা বাজার-বংপুরগামী পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে গাঁজাসহ মো. বাবুল (৪৫) নামে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাবুল মৃত আনসার আলীর ছেলে। তিনি চাঁড়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায় যে, উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বংশাল এলাকায় আলু বাজারের একটি সেলুনে এসির বিস্ফোরণে ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে সেলুন কর্মচারী শমসেদ (৩০), কাস্টমার মো. ফারুক (৩৫), কাস্টমার মো. রিংকু (৩০), সেলুন কর্মচারী রাজু (৩৪), সেলুন কর্মচারী পাপ্পু (২৬), কাস্টমার রনি (৩৬), কাস্টমার জসিম (৪০), সেলুন কর্মচারী আরমান (৩৭), কাস্টমার মো. রফিক (২৫) এবং সেলুন কর্মচারী শাকিব (১৭) রয়েছেন।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলু বাজারে বিসমিল্লাহ হেয়ার কাট নামের একটি সেলুনে সাত কর্মচারী কাজ করছিলেন। সেই সময় সেখানে কিছু কাস্টমারও ছিলেন। হঠাৎ করে ভিতরে থাকা দুই টনের এসিটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে রাতের খাবারের পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে ফারুকের শরীরে ৫০ শতাংশ, শমসেদের ১৫ শতাংশ, রিংকুর ২১ শতাংশ, রাজুর ১৮ শতাংশ, পাপ্পুর ১৮ শতাংশ, রনির ১০ শতাংশ, জসিমের ৮ শতাংশ, আরমানের ১৫ শতাংশ, রফিকের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এই নয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শাকিবের শরীরের ১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাকে জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে নিজেদের পক্ষে নিতে চেয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী—নিউইয়র্ক টাইমসের এই দাবিকে তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। মঙ্গলবার আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদের কার্যালয় অভিযোগ করছে, জনমত বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে, তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন—এমন দাবিও নাকচ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গৃহবন্দিত্বের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং পত্রিকাটির অন্যান্য দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এটি সাজানো হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘নিউইয়র্ক টাইমস প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা এসব অভিযোগ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’
এর আগে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছিল। এমনকি তাকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ সফরের জন্য অর্থায়ন করেছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ একাধিকবার তার সঙ্গে বিদেশে ইসরায়েলি এজেন্টদের বৈঠক হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত শুরুর আগে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময়ে ইরান সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তেহরান থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে তাকে নিয়ে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাড়িটি মোসাদের এজেন্টরাই চালাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সপ্তাহে তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেন, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাজ্যের, তিনজন বেলজিয়ামের, একজন ফ্রান্সের এবং একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। বাকী একজন ছিলেন স্পেনের নাগরিক।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজন নারী এবং পাঁচজন পুরুষ। তাদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন বলে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে এই দাবানলের সূত্রপাত ঘটে। মনোরম এই অঞ্চলে বহু বিদেশি নাগরিকের বসবাস আছে।
প্রচণ্ড বাতাসে আগুন দ্রুত বনাঞ্চল ও তীব্র তাপপ্রবাহে শুকিয়ে যাওয়া ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একসময় মনোরম গ্রামীণ জনপদগুলো জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয়।
প্রথম দিকে উদ্ধারকর্মীরা ১২টি মরদেহ উদ্ধার করেন। সেগুলো এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর (১৭ হাজার একরেরও বেশি) জমি পুড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বৈদ্যুতিক তার সড়কের ওপর ছিঁড়ে পড়ার ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত রোববার থেকে বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরে স্পেনে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। প্রায়ই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে ধ্বংস হয়েছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে আট মাসের মিশনে মহাকাশে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী অনিল মেনন। এই মিশনে তিনি মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে মানবদেহের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করবেন।
নাসার এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযানগুলিকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে পেশিশক্তি, হৃদ্যন্ত্র, হাড়ের ঘনত্ব, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করবেন অনিল মেনন ও তার সহকর্মীরা।
অনিল মেননের বাবা শঙ্করন মেনন ভারতের কেরালার পালাক্কড় জেলার ওট্টাপালামের বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ইউক্রেনীয় নাগরিক এলিজাবেথ স্যাময়লেঙ্কোকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান অনিল মহাদেবন স্যাময়লেঙ্কো মেননের জন্ম হতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে।
মহাকাশে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনিল মেনন পেশায় একজন চিকিৎসক। সেখানেই তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইউএস স্পেস ফোর্সের ফ্লাইট সার্জন এবং দক্ষ পাইলট হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে তিনি নাসার মহাকাশচারী হওয়ার জন্য নির্বাচিত হন।
এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তার সঙ্গে একটি রুশ মহাকাশচারী রয়েছেন। আট মাসব্যাপী এই মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানগুলি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আশা করছে নাসা।
অনিল মেননের সাফল্যে গর্বিত কেরালার পালাক্কড় জেলা। এই জেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে। কিংবদন্তি অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. জি. রামচন্দ্রন, কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ শশী থারুরের পারিবারিক শিকড়ও এই জেলায় পাওয়া যায়। এছাড়া প্রখ্যাত কথাকলি শিল্পী রামনকুট্টি নায়ার এবং ভারতের গগনযান কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত মহাকাশচারী প্রশান্ত বালাকৃষ্ণণ নায়ারও পালাক্কড়ের বাসিন্দা।
অনিল মেননের এই মহাকাশ মিশন শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ