ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টাঙ্গাইল সদরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে ১৪ বছরের বাল্যবিবাহ বন্ধ


টাঙ্গাইল সদরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে ১৪ বছরের বাল্যবিবাহ বন্ধ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের আউলটিয়া ঋষিপাড়া কালী মন্দির এলাকায় ১৪ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বাল্যবিবাহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়ার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের লগ্ন সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নির্ধারিত ছিল। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক ইউএনও শাহীন মিয়াকে অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পর ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার শাম্মীকে দায়িত্ব দিয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা

এ সময় কিশোরীর বাবা লিখিত মুচলেকা প্রদান করে অঙ্গীকার করেন যে, তিনি মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেবেন না।

বাল্যবিবাহ বন্ধের সময় টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মাহবুব এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সুজন উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে: হুইপ নিজান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে: হুইপ নিজান

॥ মোশতাক আহমদ ॥

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্তব্য করেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। এই সাফল্য কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়; এটি সরকারের, বিরোধী দলের এবং জনগণের সম্মিলিত অর্জন। সুতরাং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হলে সকলেরই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

হুইপ বলেন, সরকারকে তার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং বিরোধী দলকেও চেষ্টা করতে হবে।

"আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যাতে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।"

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। তবে যদি কোনো কর্মসূচি দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। যদি সরকারের পদক্ষেপ মাত্রাতিরিক্ত দমনমূলক হয়ে ওঠে, তাহলেও গণতন্ত্রের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাই উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, গণতন্ত্রের বর্তমান যাত্রাকে একটি নবজাতক শিশুর সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই শিশুকে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই এমনভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষের আচরণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান, সেগুলো একদিনে কিংবা একটি সংসদের মেয়াদে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তবে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়ন করা গেলে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং জুলাই চার্টারের বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যেখানে ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব, সেখানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অক্ষরে অক্ষরে সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও বড় বড় জায়গাগুলোতে ঐকমত্য তৈরি করে এগিয়ে যেতে হবে।

হুইপ বলেন, জুলাই চার্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেসব মতামত দিয়েছে বা যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছে, সেগুলোকে সম্মান করেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার কারণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র স্লোগান বা বক্তৃতার বিষয় নয়; একজন রাজনৈতিক কর্মীর চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এর প্রতিফলন ঘটতে হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে মিল সম্পর্কে তিনি জাতীয়তাবাদ, দেশের স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক সততার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, তা হলো দেশের স্বার্থ ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে দৃঢ়তা। একই ধরনের দৃঢ়তা তিনি তারেক রহমানের মধ্যেও দেখতে পান বলে জানান।

হুইপ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অন্ধ আনুগত্য পছন্দ করতেন না। একজন রাজনৈতিক কর্মীর নিজের নেতার ভুল ধরিয়ে দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার কর্মী, আমার কলিগ আমাকে বলবে- আপনার এই বিষয়টি মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। যদি ঠিক না হয়, আমি সংশোধন করে নেব। একজন নেতা তার কর্মীদের এ ধরনের মতামত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করবেন-এটাই নেতৃত্বের শক্তি।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে হুইপ বলেন, অল্প সময়ের পর্যবেক্ষণেই তিনি তাঁর মধ্যে সংসদের প্রতি আগ্রহ, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ লক্ষ্য করেছেন।

তিনি বলেন, সংসদে একজন নেতার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও অন্যরা নানা সমস্যা নিয়ে দেখা করতে আসেন। ব্যস্ততার মধ্যেও সংসদ নেতা বিরক্তি প্রকাশ করেন না, এটি একটি অসাধারণ গুণ।

হুইপ নিজান বলেন, সংসদ সদস্যদেরও সময় ও পরিস্থিতি বুঝে নেতার সঙ্গে দেখা করা উচিত। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, স্পিকার বা বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা করতে না যাওয়াই সংসদীয় শিষ্টাচারের অংশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে শুধু নিয়ম রক্ষা করাই যথেষ্ট নয়; সংসদের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রয়োজন। সংসদ নেতা তারেক রহমান পার্লামেন্টকে ভালোবেসে ফেলেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি শুভ যাত্রা।

রাজনৈতিক নৈতিকতা প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় অনেক রাজনৈতিক কর্মী ত্যাগ শিকার করেন। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সেখানেই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হয়।

তিনি বলেন, কেউ যদি ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব আচরণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। দখল, কালোবাজারি, মাদক বা মানব পাচারের মতো কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দলের ঘোষিত আদর্শের অংশ হতে পারে না। দলের নেতাকর্মীদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে।

হুইপ নিজান বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেই হবে না; পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক।

কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, নির্বাচন হবে, সরকার ও বিরোধী দল থাকবে-এটাই গণতন্ত্র। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে সততা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন রাজনৈতিক নেতা অন্যদের সৎ থাকার নির্দেশ দিয়ে নিজে অনৈতিক সুবিধা নিলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের স্বার্থে পরিচালনা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজ—সবাইকে নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যেহেতু স্টিয়ারিং সিটে আছি, আমরা যেহেতু সরকারে আছি, কমান্ডে আছি, পাইলট হিসেবে আছি, আমাদের কোরবানি এখানে সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে।

হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব শুধু সরকার বা সংসদের নয়। বিরোধী দল, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা রয়েছে। সরকারকে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, সংসদীয় শিষ্টাচার, রাজনৈতিক সংযম এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বর্তমান সংসদের সামনে বড় দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে হুইপ নিজান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু একবারে হবে না। কিন্তু এবার যদি আমরা বড় বড় জায়গায় অগ্রগতি করতে পারি, যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে সেটিই হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান আন্তর্জাতিক সকল ধরনের বাধ্যবাধকতা ও নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে তার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে বারবার অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ তেহরানের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেন।

বৈঠকে মাইক ওয়াল্টজ স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, ইরান নিয়ম ভঙ্গ করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, তেহরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতে, কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক বা শান্তিকামী উদ্দেশ্য’ নেই। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ এবং তাদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতিও বারবার নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই মার্কিন কূটনীতিক।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ধারাবাহিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরস বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ইরানের আলোচকেরা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি ইরান বরাবরের মতো এক বাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর শর্তাবলী অনুসারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের নিজস্ব ও বৈধ অধিকার।

একই সাথে, আইএইএ-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের এই পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সাম্প্রতিক গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাবকে তারা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে সরকারি আবাসনের লিফট ছিঁড়ে ৬ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


রাজধানীতে সরকারি আবাসনের লিফট ছিঁড়ে ৬ জন আহত

রাজধানীর মিরপুর-১ এ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সকাল ৬ টার দিকে পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্প পশ্চিমের সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় অ‘র্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের সঙ্গে কাজের সম্পৃক্ততাই আমাকে ক্লান্ত হতে দেয়: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


মানুষের সঙ্গে কাজের সম্পৃক্ততাই আমাকে ক্লান্ত হতে দেয়: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

লালমনিরহাট, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের সঙ্গে কাজের সম্পৃক্ততা এবং তাদের ভালোবাসা অনুপ্রেরণা দেয় উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেছেন, "যখন মানুষের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকি, তখন নিজের মধ্যে কোনো ক্লান্তি আসে না।"

তিনি বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

‘খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ স্লোগানে তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী ‘আলোকিত লালমনিরহাট’কে একটি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জেলার উন্নয়ন এবং মাদক, অনলাইন জুয়া ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।

তিনি এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে আরও জানান, আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগ পরিদর্শনে লালমনিরহাট আসবেন এবং এর সফলতার ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য স্থানে এমন মডেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

মাদক নির্মূলে নিজেদের সফলতার চিত্র তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কার্যক্রম শুরুর তিন মাসেরও কম সময়ে জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, "তরুণ সমাজ মাদকে ধ্বংস হয়ে গেলে রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।" তাই তরুণদের বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনাকে তিনি নিজের অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করেন।

মন্ত্রী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা তরুণদের মাঠমুখী করে মাদক থেকে দূরে রাখে বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে হা-ডু-ডু ফাইনাল খেলায় বড়বাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড দল ২ নম্বর ওয়ার্ড দলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%