১০:৪১ এম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ শিল্পায়ন ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের চাপে দিন দিন বিপজ্জনকভাবে ভারী হয়ে উঠছে। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর থেকে আসা ভারী যান, সীতাকুণ্ডের স্থানীয় শিল্পকারখানার পণ্যবাহী ট্রাক এবং চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ও বন্দর থেকে দেশজুড়ে ছুটে চলা কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহাসড়কের ওপর এই অতিরিক্ত যানবাহন ও একক নির্ভরতার কারণে সামান্য দুর্ঘটনা কিংবা একটিমাত্র যান বিকল হলেই দীর্ঘ পথজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে জরুরি যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর থেকে এই চাপ কমাতে উপকূল ধরে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিকল্প মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন-ড্রয়িংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সওজের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেরিন ড্রাইভটি মিরসরাই থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকা ধরে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ী হয়ে পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। এর মূল লক্ষ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যোগাযোগ করিডর গড়ে তোলা।
আরও পড়ুন: মেঘনায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৩৩ জেলে আটক, ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুল ইসলাম বলেন, "সওজের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।"
বর্তমানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইস্পাত এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করণসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কই একমাত্র ভরসা। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, বেটার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কের ওপর চাপ আরো বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য পরিবহনে বিকল্প রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। মেরিন ড্রাইভটি বাস্তবায়িত হলে পণ্যবাহী যানবাহনের একটি বড় অংশ এই বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। সমুদ্রঘেঁষা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণও একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ।
উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি মোটেও থেমে নেই। কিন্তু সেই তুলনায় থমকে আছে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও নকশা প্রস্তুত থাকার পরও ১৭২ কিলোমিটারের এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি এখন কেবল সরকারের একটি সবুজ সংকেত বা নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর নাজমা খাতুনের আত্মহত্যা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন