ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধকে গুলি


হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধকে গুলি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কালো পোশাক ও হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সাখায়েত উল্যার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল উদ্দিন একসময় প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করেন। বর্তমানে তার একাধিক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়ির পাশে বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। তার বাম পা ও রানে বুলেটের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই বৃদ্ধ একটি দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

॥ এস এম আশিকুজ্জামান ॥

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

সম্প্রতি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের মতে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সংখ্যা বর্তমানে ৭০টি। এর মধ্যে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ৪৪টি মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৭টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে মোট দণ্ডিত আসামির সংখ্যা ৬৮ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৩ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন এবং একজন আসামি খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার আসামির সংখ্যা ২০৩ এবং পলাতক আসামির সংখ্যা ৩৫২।

গত দুই বছরে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৭টি রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, আমাদের দুটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এবং সত্যতার সাথে এই বিচারগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে শেষ হবে এবং রায় কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পলাতক আসামিদের সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন, আমরা তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি না হোক, আবার কোনো দোষী ব্যক্তি যেন ছাড় না পায়।’

প্রথম রায়ে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসাথে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আসামি থেকে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শহীদদের পরিবারকে ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও ট্রাইব্যুনাল প্রদান করেছে।

চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ডে ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অপর পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দ্বারা।

২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। এছাড়া, এই রায়ে পলাতক আসামি সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দ্বারা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ছয় মৃত্যুদণ্ড

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ অপর একজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সাথে আরো সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

এই রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

এছাড়া, এই রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসান। এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করে দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আবু সাঈদ হত্যায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে এই মামলার অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া রায়ে সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরোবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরোবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরোবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরোবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরোবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমুকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাবাস হিসেবে রায় দেওয়া হয়।

কার্নিশে ঝুলা তরুণকে গুলির মামলায় তিন মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন ও অপর আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৮ জুন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া রায়ে পলাতক চার আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর এ মামলার গ্রেফতার একমাত্র আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর কারাদণ্ড

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে আশুলিয়ায় কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। সেই সাথে এই মামলার দু’টি চার্জে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে আসামির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ও কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুনসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৮ লাখ মানুষ, সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৮ লাখ মানুষ, সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

ফ্রান্সজুড়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। শনিবার দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভের অধিকাংশই ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এদিন দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী ছিলেন। গত সপ্তাহান্তেও রাজধানীতে প্রায় একই সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা দেশের শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নগুলোর হিসাব অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। এবার আটক করা হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষকে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "প্যারিসে বড় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ছিল। দেশের অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিত অধিকাংশ মিছিলও শান্তিপূর্ণ ছিল।"

তবে, বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান নুনেজ। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মিছিল নিয়ে যাওয়া কিংবা শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিক্ষোভকারীদের বিরত রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, কিছু শহরে সীমিত পরিসরে ভাঙচুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এসব ঘটনা অনেক কম ছিল। গত সপ্তাহান্তে পৌরসভা কার্যালয় ও থানার মতো সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলেও এবার এ ধরনের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়নি বলে তিনি জানান।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন নুনেজ। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা ক্রমাগত বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছেন এবং আতশবাজি নিক্ষেপ করেছেন। লুটপাট ঠেকাতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখার কথাও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার এই বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার ফ্রান্সের রাজপথে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নেমেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, পুলিশ কুকুর ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।

প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, মার্সেইয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সিএনএনের ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষ হওয়ার পর কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মিছিলটির শেষ গন্তব্য ছিল পোর্ত দে ভিনসেন। সেখানেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সিএনএনের ফরাসি সহযোগী সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একটি গয়নার দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়। একটি সুপারমার্কেটেও লুটপাট চালানো হয়েছে।

দেশটির আটলান্টিক উপকূলীয় শহর বোর্দোতেও বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের চিত্র দেখা গেছে। শহরের বিখ্যাত প্লাস দে লা বুর্স চত্বরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। ছড়িয়ে পড়া কাঁদানে গ্যাসের মধ্যে মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়।

এদিকে নিস শহরে শনিবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর উগ্র ডানপন্থী কয়েক ডজন কর্মী হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএফএমটিভি।

৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো সাড়া না দিলে আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে শিল্প খাতে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিএফএমটিভিকে তিনি বলেন, "সিজিটি ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট আগামী ৫ নভেম্বর সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।"

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল, তখন ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও একই ধরনের আন্দোলন হয়েছে।

ইতালির নেপলস, রোম ও মিলান শহরে বিক্ষোভের আগে দোকানপাটের জানালা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করা হয়। আগের বিক্ষোভগুলোতে লুটপাটের ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন।

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীরা ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পাথর ও কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করেন।

অন্যদিকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিআরটি।

সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১৭ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের অনুভূতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১৭ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের অনুভূতি

পঞ্চগড়, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এই তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়।

এর আগে, গতকাল শনিবার একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। ওইদিন পঞ্চগড়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ভোরের দিকে সড়ক-মহাসড়ক ও খোলা মাঠ কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। কুয়াশার কারণে সকালে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়দের মতে, সন্ধ্যার পর থেকেই ঠান্ডার অনুভূতি বাড়তে থাকে। ভোরে কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের আবহ আরও স্পষ্ট করে তুলছে। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে শীতের অনুভূতি কমে যাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। রাত ও ভোরে কুয়াশার প্রবণতাও বাড়ছে।

তবে দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে এবং রাতে ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের স্নাতক ২০১৯-২০ ও স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার স্বামীর বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পুলিশ কর্তৃক। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।

নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে তিনি স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এই ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন তিনি। পরে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। দুই পক্ষের পারিবারিক সমঝোতার পর মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারজানাকে নির্যাতন করা হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরিফুলের ভাষ্য, নাজমুল প্রথমে বেকার ছিলেন। পরে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফারজানার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল বলে জানান আরিফুল। তখন তাঁর কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। রাতে খাওয়ার জন্য ফারজানা চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন। তবে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

আরিফুল আরও বলেন, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই তাঁকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছি। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%