প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সজুড়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। শনিবার দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভের অধিকাংশই ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এদিন দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী ছিলেন। গত সপ্তাহান্তেও রাজধানীতে প্রায় একই সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা দেশের শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নগুলোর হিসাব অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। এবার আটক করা হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষকে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "প্যারিসে বড় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ছিল। দেশের অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিত অধিকাংশ মিছিলও শান্তিপূর্ণ ছিল।"
তবে, বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান নুনেজ। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মিছিল নিয়ে যাওয়া কিংবা শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিক্ষোভকারীদের বিরত রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, কিছু শহরে সীমিত পরিসরে ভাঙচুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এসব ঘটনা অনেক কম ছিল। গত সপ্তাহান্তে পৌরসভা কার্যালয় ও থানার মতো সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলেও এবার এ ধরনের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়নি বলে তিনি জানান।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন নুনেজ। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা ক্রমাগত বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছেন এবং আতশবাজি নিক্ষেপ করেছেন। লুটপাট ঠেকাতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখার কথাও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার এই বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে গত শনিবার ফ্রান্সের রাজপথে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নেমেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, পুলিশ কুকুর ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।
প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, মার্সেইয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সিএনএনের ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষ হওয়ার পর কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মিছিলটির শেষ গন্তব্য ছিল পোর্ত দে ভিনসেন। সেখানেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সিএনএনের ফরাসি সহযোগী সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একটি গয়নার দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়। একটি সুপারমার্কেটেও লুটপাট চালানো হয়েছে।
দেশটির আটলান্টিক উপকূলীয় শহর বোর্দোতেও বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের চিত্র দেখা গেছে। শহরের বিখ্যাত প্লাস দে লা বুর্স চত্বরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। ছড়িয়ে পড়া কাঁদানে গ্যাসের মধ্যে মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়।
এদিকে নিস শহরে শনিবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর উগ্র ডানপন্থী কয়েক ডজন কর্মী হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএফএমটিভি।
৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো সাড়া না দিলে আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে শিল্প খাতে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিএফএমটিভিকে তিনি বলেন, "সিজিটি ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট আগামী ৫ নভেম্বর সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।"
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিক্ষোভ
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল, তখন ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও একই ধরনের আন্দোলন হয়েছে।
ইতালির নেপলস, রোম ও মিলান শহরে বিক্ষোভের আগে দোকানপাটের জানালা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করা হয়। আগের বিক্ষোভগুলোতে লুটপাটের ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন।
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীরা ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পাথর ও কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করেন।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিআরটি।
সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন