০৬:৫৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে সড়কটির সংস্কার তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল, কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে পিচের প্রলেপ উঠে গেছে এবং নতুন বসানো সিমেন্টের অনেক ব্লক ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিক্যাল মোড় পর্যন্ত সড়কটির প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বর্তমানে সেই একই স্থানে আবারো মেরামতের কাজ চলছে।
এদিকে, একই সড়ক পুনরায় তাড়াহুড়ো করে সংস্কার করার ফলে কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বারবার মেরামতের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ হাজার ৬শ’ ৩ পিস ভারতীয় মাদক উদ্ধার
সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, ‘এখানে সড়ক সংস্কার করা হয় আবার নষ্ট হওয়ার জন্য, যাতে সারা বছর মেরামতের কাজ চলে, আর কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের কামাই ভালো থাকে। তা না হলে মাসে ১০ বার গর্ত বন্ধ করা হয় কেন? দুই দিন না যেতেই আবার গর্ত হয় কেন?’
হাজীপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাত দিন আগেই সড়কের এই অংশের ইটের পাটাতন তুলে সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়েছিল। নিম্নমানের কাজের কারণে সেগুলো ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। এখন আবার ঠিক করছে। স্থায়ীভাবে টেকসই সংস্কার কেন করা হয় না, সেটাই বুঝি না।’
বাসচালক মোস্তাক হোসেন জানান, ‘দুই নম্বরি কাজ করলে তো বারবার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাগলাপীর থেকে মেডিক্যাল মোড় পর্যন্ত সড়কের খুবই খারাপ অবস্থা। এই অংশে দুর্ঘটনাও ঘটে। ভালো করে সড়কের কাজ করা দরকার।’
আগেও উঠেছিল অনিয়মের অভিযোগ
আরও পড়ুন: কালকিনিতে আন্তঃ ঠেংগামারা ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন, মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম
সওজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ পায়। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে সংস্কারকাজ করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল সড়কের প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে পাঁচ কেজি পাথর কম ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করে। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়। পরে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ আরো বাড়ে।
ফাউন্ডেশন খারাপ, দাবি সওজের
বারবার সংস্কারের পরও সড়ক টেকসই না হওয়ার বিষয়ে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা বলেন, ‘কাজ করতেছি, উঠে যাচ্ছে। ইট ভেঙে যাচ্ছে, ইট তুলে ব্লক দিচ্ছি, সেটিও ভেঙে যাচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এমন হচ্ছে। নিচের ফাউন্ডেশন খারাপ হলে ওপরে যতই তেল দিই না কেন, কাজ হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, ’প্রধানমন্ত্রী আসার আগমুহূর্তে সময়ের সংকট থাকায় তাড়াহুড়া করে মহাসড়কের কাজটি করা হয়েছে। ফলে কিছু কিছু স্থানে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তবে আবারো সংস্কার করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন