ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্লোরিডায় বাবার পিস্তল দিয়ে খেলতে গিয়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু


ফ্লোরিডায় বাবার পিস্তল দিয়ে খেলতে গিয়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বার্টো শহরে বাবার পিস্তল দিয়ে খেলতে গিয়ে ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

শিশুটি তার বাবার সঙ্গে রাতের খাবার কেনার জন্য বের হয়েছিল। একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ির পেছনের আসনে বসে ছিল সে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার জীবনকে কেড়ে নেয়।

বাবার গাড়িতে রেখে যাওয়া পিস্তল থেকে বেরিয়ে আসা গুলিতে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। তার চতুর্থ জন্মদিন উদযাপনের মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা

দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার বার্টো শহরে এ ঘটনা ঘটে।

পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা ইস্ট ভ্যান ফ্লিট ড্রাইভের একটি বার্গার কিংয়ের ড্রাইভ-থ্রুতে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু খাবারের দাম পরিশোধ করতে গিয়ে তার ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন বাতিল হয়ে যায়।

সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি গাড়িটি পার্ক করেন এবং কোমরে রাখা গ্লক পিস্তলটি বের করে গাড়ির ভেতরে রাখেন।

তদন্তকারীরা মনে করেন, গাড়ির পেছনের আসনে থাকা শিশুটি পিস্তলটি দেখে হাতে তুলে নেয়। খেলতে গিয়ে সেটি থেকে গুলি বেরিয়ে তার মুখে লাগে।

আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন

পোল্ক কাউন্টির শেরিফ গ্রেডি জাড জানান, পিস্তলটি কোমরে রাখা অবস্থায় সামনের দিকে ঝুঁকতে অস্বস্তি হচ্ছিল শিশুটির বাবার। তাই তিনি সেটি বের করে গাড়ির ভেতরে রেখেছিলেন।

শেরিফ বলেন, খাবারের দাম পরিশোধের জন্য ক্রেডিট কার্ডের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত ছিলেন বাবা, আর পেছনের আসনে শিশুটি খেলছিল।

শিশুটি যে পিস্তল হাতে নিয়েছে, তা বাবা বুঝতে পারেননি। গুলির শব্দ শোনার পর তিনি গাড়ি থেকে নেমে ছোটাছুটি শুরু করেন। রেস্তোরাঁর নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পাশের গাড়িতে থাকা এক নারীও নেমে এসে জরুরি সেবার নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গাড়ির ছাদেও গুলির একটি ছিদ্র পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় শিশুটির বাবার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বৈধ অনুমতিপত্র ছিল।

শিশুটির মা-বাবা দুজনই তদন্তে সহযোগিতা করছেন। শেরিফ জানিয়েছেন, তাদের অতীতের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টকমের ইরান হামলার পরিকল্পনা: ট্রাম্পের অনুমোদন অজানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


সেন্টকমের ইরান হামলার পরিকল্পনা: ট্রাম্পের অনুমোদন অজানা

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য হিল-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, প্রায় আট মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধের আরও একটি বড় আকার ধারণ করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হোয়াইট হাউসের অনুমোদন পেলেই হামলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর কাছে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

প্রতিবেদনে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগামীকালই হামলা চালাতে পারে, আবার তেহরানের সঙ্গে একটি ‘বড় ও চমৎকার’ চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন আলোচনা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। তবে তিনি এটাও বলেন যে, চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকির প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি এই সংঘাত আবার একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে? বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করা যাক।

কী রয়েছে এই সামরিক পরিকল্পনায়?

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সামরিক প্রস্তুতি অনেকদূর এগিয়ে গেলেও ট্রাম্প কোন বিকল্পটি বা কখন অনুমোদন করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পেন্টাগন সেন্টকম-কে নির্দেশ দিয়েছিল ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, পরিকাঠামো এবং পারমাণবিক ক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

তবে এসব প্রস্তুতির মানে হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে, যিনি সামরিক হামলা ও কূটনৈতিক আলোচনা—উভয় পথই খোলা রাখছেন।

গত বুধবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে এসব খবর সামনে এসেছে। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জয় ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র কাছে পাঠানো এক গোয়েন্দা স্মারকে জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে এই সংক্রান্ত ঘাতক ষড়যন্ত্র ‘আরও অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে।

এমন সতর্কবার্তার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অঞ্চলটির কয়েকটি বিমানঘাঁটি ও দূতাবাস থেকে কর্মী কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রকাশিত ওই গোয়েন্দা স্মারকে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তু বা আক্রমণের সময়ের উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্প ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছেন। শুক্রবার এক সমাবেশে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন হয়তো আরেকটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ করতে পারে—যার মাধ্যমে তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বিরোধী যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নামের উল্লেখ করেন। আবার শনিবার হামলার নির্দিষ্ট সময়ের কথা এড়িয়ে গেলেও ইঙ্গিত দেন যে হামলা রবিবারের মধ্যেই হতে পারে।

চ্যাথাম হাউসের অ্যাসোসিয়েট ফেলো জুলি নরম্যান আল জাজিরাকে জানান, এই প্রস্তুতি সাময়িক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল, আবার আগামী মাসে হামলা চালানোর বাস্তব সামরিক বিকল্পও বটে। তাঁর মতে, “ট্রাম্প সবসময় সব পথ খোলা রাখতে ভালোবাসেন। আমার মতে এই পরিকল্পনা একদিকে যেমন প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার একটা তাৎক্ষণিক মহড়া, আবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটা বাস্তবিক উপায়ও।”

হামলার গুঞ্জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নভেম্বরের শেষের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের তৃতীয় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’-এর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা ও ১৩তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট মোতায়েন করছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া কেমন?

তেহরান একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে মার্কিন হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। শনিবার সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের মধ্যে তো আলোচনা চলছিলই, কিন্তু কাপুরুষেরা (আমেরিকা) সব ভণ্ডুল করে দিল।” যদিও পরে তিনি যোগ করেন, চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।

ভারতের ইরানি দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১২তম ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এর কারণ হিসেবে কেবল ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’র কথা জানিয়েছে দূতাবাস।

রোববার তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের ওপর একটি মার্কিন প্রযুক্তির ‘লুকাস’ ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার হামলা চালায়, তবে পারস্য উপসাগরের তলদেশের যোগাযোগ কেবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে তেহরান।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দেয় ইরান। পাশাপাশি বুধবার ইরান তাদের সামরিক নীতি বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ রূপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—মার্কিন হামলায় যে সব দেশের ঘাটি ব্যবহার হবে, তারাও তাঁদের নিশানায় আসবে।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র হোসেন মোহেবি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি এতদিন ছিল প্রতিরক্ষামূলক। আমরা বলতাম কেউ আমাদের ওপর আক্রমণ করলে আমরা শুধু পাল্টা জবাব দেব। কিন্তু এখন থেকে আমরা বলব—কেউ আক্রমণ করলে আমরা তো জবাব দেবই, সেই সাথে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানও চালাব।”

ইরানের এই হুমকির ফলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এ অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলো সরাসরি হুমকির মুখে পড়তে পারে। জুলি নরম্যান বলেন, “ইরানও নিজেদের টার্গেট তালিকা তৈরি করছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে দু'পক্ষই বড় ধরনের সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং একে অপরকে নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে। আর এই উত্তেজনার মাঝে কোনো এক পক্ষের ছোট ভুল হিসেব-নিকাশও পুরো পরিস্থিতিকে দ্রুত বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।”

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি অক্টোবর মাসেই জাহাজে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, যার সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১২০টি ছাড়িয়েছে।

নতুন হামলা কি ট্রাম্পের রাজনীতিতে কাজে দেবে?

এই মুহূর্তে রণকৌশল নির্ধারণ করা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর। কারণ একদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি নতুন করে বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না, অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগত আক্রমণের জন্য চাপ দিচ্ছেন—যিনি আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তার ঘাটতি মেটাতে মরিয়া।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন, ইরান সরকারকে উৎখাত করাই নাকি এখন ইসরায়েলের ‘প্রধান লক্ষ্য’।

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী কোনো কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নির্দেশ করছে না, বরং লড়াই বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, “দুপক্ষের হাবভাব ও কৌশল দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আমরা আরেকটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি ও দূতাবাস থেকে মার্কিন কর্মী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলোকে সামনে এনে বলেন, “এসব কিছুই ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুব শিগগির বা দ্রুতই ইরানের ওপর ফের হামলার ছক কষছে। তবে সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এবারের যুদ্ধের ভয়াবহতা হয়তো আগের সব হামলাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

জুলি নরম্যান অবশ্য বলেন যে, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলাই চালাতে পারেন, তবে সামরিক উপদেষ্টাদের কাছে ট্রাম্পের বড় প্রশ্ন হবে—নতুন করে এই যুদ্ধ বাড়ালে এমন কী অর্জন হবে যা আগের হামলাগুলোতে হয়নি?

“ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে এই নীতি আদৌ কতটা কাজ করবে? আর আমার মনে হয় না যে এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর কারও কাছে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে চাড়ালজানী ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের সিজন-২ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


মধুপুরে চাড়ালজানী ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের সিজন-২ অনুষ্ঠিত

খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আয়োজন করা হয়েছে ‘চাড়ালজানী ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট—সিজন ২’।
রোববার (২৫ অক্টোবর) চাড়ালজানী স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব খন্দকার মোতালিব হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুসা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান রবিন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম ও নাজিম উদ্দিন।
টুর্নামেন্টের আয়োজক চাড়ালজানী স্পোর্টিং ক্লাবের মূল লক্ষ্য তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার ঘটবে এবং তরুণ প্রজন্ম মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা—‘খেলাধুলায় গড়ি সুস্থ সমাজ, মাদকমুক্ত তরুণ প্রজন্ম।’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে চাড়ালজানী স্পোর্টিং ক্লাবের এ আয়োজন সফল ও ধারাবাহিক হোক—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার তিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


সরকার তিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে

সরকার তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের। তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা যোগদান না করেন, তাহলে ২৯ অক্টোবর তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা একটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেবরনে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা পুরো পশ্চিম তীরের জন্য অত্যন্ত গুরুতর কেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


হেবরনে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা পুরো পশ্চিম তীরের জন্য অত্যন্ত গুরুতর কেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের শহর হেবরনে ইসরায়েলি হামলা ও অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনিরা লাগাতার তাণ্ডব ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। ফিলিস্তিনি বন্দি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে ইসরায়েল হেবরনের ফিলিস্তিনিদের ওপর অবরুদ্ধ অবস্থা বা লকডাউন আরোপ করেছে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ৪৭ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে।

শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ২,৫০০। কারণ, ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কিছু ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ঘাঁটি ও ব্যারাকে পরিণত করেছে। শুক্রবার সকালে এক বন্দুক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হন।

হেবরনে ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাপক হারে জোরপূর্বক উচ্ছেদ

হেবরনের প্রায় ৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ইসরায়েলি বাহিনীর চরম ‘সম্মিলিত শাস্তি’র মুখোমুখি হয়েছেন। ফারশ আল-হাওয়া এলাকার এক সামরিক তল্লাশি চৌকিতে শুক্রবারের বন্দুক হামলার পরপরই পুরো হেবরনে কঠোর সামরিক লকডাউন শুরু হয়। শহরের সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী ডজন ডজন ফিলিস্তিনি ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে।

ইসরায়েলি সেনারা আইন দির বাহা পাড়ায় তাণ্ডব চালায় এবং গভীর রাতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়াই ডজন ডজন পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। হেবরন পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় এসেছে প্রায় ৩৫০ দুনাম (৮৬ একর) এলাকা এবং প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মানবাধিকার গবেষক হিশাম আল-শারবাতি আল জাজিরাকে জানান, সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ মূলত “ফিলিস্তিনিদের একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকা খালি করার অভিযান।” তাঁর মতে, এখানে যা ঘটছে তা এক ধরনের জাতিগত নিধন এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর এই ধরনের সম্মিলিত শাস্তি দেওয়া একটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।

হেবরন পৌর কাউন্সিলের সদস্য মুয়াম্মার ইউসুফ আল-আবিবি জানান, ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্য নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই সাম্প্রতিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক সমস্ত আইন ও রীতি-নীতির পরিপন্থী একটি অপরাধ এবং সম্মিলিত শাস্তি।”

মানবাধিকার সংস্থাগুলো হেবরনের বর্তমান হামলাকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জেনিন এবং নুর শামস শরণার্থী শিবিরে পরিচালিত "আয়রন ওয়াল" অপারেশনের কৌশলগুলোর সাথে তুলনা করেছে, যা ৩০,০০০ এরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছিল এবং তাদের আবাসিক ভবনগুলোর অর্ধেকেরও বেশি ধ্বংস করেছিল।

২. অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার অপচেষ্টা

ফিলিস্তিনের অর্থনীতির জন্য হেবরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। অথচ গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনের অর্থনীতি এমনিতেই চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৩০ শতাংশই আসে হেবরন থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ও আক্রমণের কারণে এই শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিম তীরের অন্যান্য শহরের তুলনায় হেবরনেই সবচেয়ে বেশি সামরিক বাধা বা চেকপয়েন্ট রয়েছে। পুরো অধিকৃত ভূখণ্ডের ৮৯টি প্রধান চেকপয়েন্টের প্রায় ৪০ শতাংশই এই শহরের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে। অর্থনৈতিক গবেষক আহমেদ আবু কামার বলেন, পশ্চিম তীরের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য হেবরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পুরো অঞ্চলেই অনুভূত হবে।

তিনি বলেন, “শিল্প ও বাণিজ্যের বিশাল ভিত্তির কারণে হেবরন হলো প্রথম সারির একটি শিল্প শহর এবং এটি ফিলিস্তিনি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ফলে এই শহরের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা, পথঘাট বন্ধ করা বা চলাচলে বাধা দেওয়া কিংবা সামরিক অভিযান পুরো পশ্চিম তীরের অর্থনীতিকেই চাপের মুখে ফেলে দেবে।”

বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধার কারণে মালামাল সরবরাহ ও যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারছেন না। আবু কামারের মতে, কারখানা বা উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হবে অথবা কাজের সময়সীমা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনবে।

পুরনো শহরে বসতি স্থাপনকারীদের উপদ্রব

হেবরনের পুরনো শহর বা ওল্ড সিটিতে বসবাসকারী শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর কারণে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

১৯৯৭ সালের ‘হেবরন চুক্তি’ অনুযায়ী শহরটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল: ‘এইচ-১, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকার কথা, এবং ‘এইচ-২, যা শহরের ২০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত। এই এইচ-২ এলাকাটি পুরোপুরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, যেখানে ৭,০০০ ফিলিস্তিনি কঠোর সামরিক বিধিনিষেধের মধ্যে বসবাস করছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে শহরের কেন্দ্রস্থলে এই বসতিগুলোর চারপাশে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ বা ক্লোজড জোন ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে শহরের ঐতিহাসিক বাণিজ্য পথগুলো বন্ধ করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটির ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে তিনটি নতুন লোহার গেট বসায়। এর ফলে ঐতিহাসিক শুহাদা স্ট্রিটের মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে ৫০০টিরও বেশি দোকান জোর করে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

শীতের দিনে সামরিক অবরোধ ও তল্লাশি এড়াতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা স্থানীয় কবরস্থানের অন্ধকার ও বিপজ্জনক পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

৪. ধর্মীয় স্থান নিয়ে উত্তেজনা

এইচ-২ জোনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ, যা মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান (ইহুদিরা একে 'টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস' বলে ডাকে)। চতুর্দশ শতাব্দীর এই স্থানটি ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তবে এটি বারবার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে।

১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী আমেরিকান-ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মসজিদের ভেতরে ঢুকে সিজদায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ২৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পবিত্র এই স্থানটিকে স্থায়ীভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে এবং আশপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়।

সম্প্রতি ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ইব্রাহিমি মসজিদ এবং এর চারপাশের এইচ-২ জোনের পরিকল্পনা ও নির্মাণের সমস্ত ক্ষমতা ইয়েমেনি/ফিলিস্তিনি পৌরসভার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিজেদের দখলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে স্মোটরিচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাতিল করেছেন, যা এই শহরে দখলদারিত্বকে আরও স্থায়ী ও সুদৃঢ় করার একটি বড় পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%