১১:১৭ পি.এম
ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আমদানি বিকল্প তৈরির পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তির মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য।
বিজনেস টুডে এবং ডেলয়েট ইন্ডিয়ার একটি জরিপ অনুযায়ী, ভারতের তালিকাভুক্ত ২৬টি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফা ২০২১ অর্থবছরের ৭ হাজার ৫০৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২৩ হাজার ১১১ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। পাঁচ বছরে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
এসিই ইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে জেন টেকনোলজির নিট মুনাফা ৭ হাজার ৭৫৭ শতাংশ বেড়ে ২১৭ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের (এইচএএল) মুনাফা বেড়ে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের মুনাফা ৬ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়, যার ৯৮ শতাংশ সরবরাহের কথা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। ২০২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত অনুমোদিত প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি।
গত এক দশকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ এবং রপ্তানি ৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি, যা ২০২৭ অর্থবছরে বেড়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
২০২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি এবং রপ্তানি হয়েছে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপির সরঞ্জাম। উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচি আইডেক্স ও আদিতির মাধ্যমে স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবকদের যুক্ত করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আইডেক্সের আওতায় ৬৭৬টি স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছেন। স্বাক্ষরিত হয়েছে ৫৫১টি নকশা ও উন্নয়ন চুক্তি।
ডেলয়েট ইন্ডিয়ার অংশীদার আলারিক দিনিজের মতে, পরবর্তী পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, রাডার ও অন্যান্য দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য প্রযুক্তি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের হাতে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের হাতে ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি রুপি ক্রয়াদেশ রয়েছে। তবে দীর্ঘ উৎপাদন সময়, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বড় ক্রয়াদেশ সব সময় দ্রুত মুনাফায় রূপ নেয় না।
অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ভি রেড্ডির মতে, ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণই ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনা ও দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন