১২:৩৫ পি.এম
॥ এস এম আশিকুজ্জামান ॥
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
সম্প্রতি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রূপপুরের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় রাশিয়ার বিমান
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের মতে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সংখ্যা বর্তমানে ৭০টি। এর মধ্যে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ৪৪টি মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৭টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে মোট দণ্ডিত আসামির সংখ্যা ৬৮ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩৩ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন এবং একজন আসামি খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার আসামির সংখ্যা ২০৩ এবং পলাতক আসামির সংখ্যা ৩৫২।
গত দুই বছরে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৭টি রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, আমাদের দুটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এবং সত্যতার সাথে এই বিচারগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে শেষ হবে এবং রায় কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পলাতক আসামিদের সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন, আমরা তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি না হোক, আবার কোনো দোষী ব্যক্তি যেন ছাড় না পায়।’
আরও পড়ুন: রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন
প্রথম রায়ে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসাথে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আসামি থেকে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শহীদদের পরিবারকে ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও ট্রাইব্যুনাল প্রদান করেছে।
চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ডে ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন: যৌতুকের জন্য স্ত্রী-কন্যা হত্যা মামলায় আবদুর রউফ সরদারের মৃত্যুদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অপর পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দ্বারা।
২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। এছাড়া, এই রায়ে পলাতক আসামি সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দ্বারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ছয় মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন: এনসিপির ডায়াস্পোরা উপকমিটির নেতৃত্বে আসিফ মাহমুদ ও মনিরা শারমিন
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ অপর একজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সাথে আরো সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
এই রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।
এছাড়া, এই রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসান। এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করে দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে মালয়েশিয়ায় প্রস্তুতি সভা
আবু সাঈদ হত্যায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে এই মামলার অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া রায়ে সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরোবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এছাড়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরোবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিজেদের লোক বসানোর পাঁয়তারা করছে: নাহিদ ইসলাম
এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরোবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরোবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরোবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমুকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাবাস হিসেবে রায় দেওয়া হয়।
কার্নিশে ঝুলা তরুণকে গুলির মামলায় তিন মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন ও অপর আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৮ জুন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া রায়ে পলাতক চার আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর এ মামলার গ্রেফতার একমাত্র আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর কারাদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে আশুলিয়ায় কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। সেই সাথে এই মামলার দু’টি চার্জে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে আসামির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ও কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুনসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন