শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ পি.এম
ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মিছিল সমাবেশে শহরটি মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়ে ওঠে। পরে, দলিল লেখকরা একটি বিশাল মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ফরিদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় জেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১ টার দিকে, বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দাবি আদায়ের এই মিছিলটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো শহরকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করে। পরে, প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এ বি মুস্তাফিজুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চললেও, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে এই পেশা বন্ধের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, এর সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।
বক্তারা অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এই মিছিলে ফরিদপুর জেলার নয়টি উপজেলার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রায় তিনশত নেতা ও দলিল লেখক সমাগম ঘটে।
দলিল লেখক সমিতির মূল দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও তৈরি দলিল দাখিলের সুযোগ বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি, বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স না দেওয়া, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে বসার ব্যবস্থা ও প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ, পেশাগত কাজের কারণে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দ্রুত 'দলিল লেখক কাউন্সিল' গঠনের অনুমতি প্রদান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ১২ টন ইউরিয়া সার, রসুন ও পেঁয়াজসহ ১০ পাচারকারীকে আটক করেছে। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই তথ্য জানান।
সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্ট মার্টিন স্টেশনের কোস্ট গার্ড সদস্যরা দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
এই অভিযানে ২৪০ বস্তা (১২ হাজার কেজি) ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা রসুন ও ৯০ বস্তা পেঁয়াজ জব্দ করা হয়। অভিযানে বোটে থাকা এক রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, "জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় একটি নবনির্মিত ৭ তলা ভবনে প্লাস্টারের কাজ করার সময় নিচে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আল আমিন (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রির।
এটি ঘটেছে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। মৃত আল আমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের দারিয়াপুরের মো. মকুলের পুত্র। তিনি কাজলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বাড়ির মালিক বাছির উদ্দিন জানান, আল আমিন দুপুরের দিকে ৭ তলা ভবনের মাচাংয়ে দাঁড়িয়ে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতার কারণে তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বাঞ্ছারামপুর আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি মন্তব্য করেছেন যে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শীঘ্রই একটি শিল্পনগরীতে পরিণত হবে। তিনি জানান, "আজ বাঞ্ছারামপুর হতে নবীনগর পর্যন্ত যে সড়ক নির্মাণের প্রকল্পকাজ চালু হলো, এটি শেষ হলে এবং ৩য় মেঘনা সেতু বাস্তবায়ন হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা একটি শিল্পনগরীতে পরিণত হবে।" তিনি আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ রাজধানীতে মাত্র ১ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারবে। বর্তমান সরকার ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে এই অঞ্চলের মানুষের কথা ভাবছে এবং যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে ৩২ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করেছে, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দিতে সড়ক নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সড়কটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এই সময় নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক একে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলী উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি নবীনগর উপজেলার সাংসদ এম এ মান্নান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-বাঞ্ছারামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আসছে। আমরা বহু বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। এটি বাস্তবায়িত হবার পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ আরো সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নাম ‘ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩, কড়ইকান্দি হতে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০, সরাইল হতে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’।
প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলাকে সরাসরি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করা। পাশাপাশি নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো।
প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট ও ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি ছয়টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং আটটি বাস-বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের তথ্য দেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে ৪৯৫৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৬১ দশমিক ০৩ লাখ টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩৯৬৫ দশমিক ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য প্রকল্প বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।
সড়কটি চালু হলে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের মানুষের ঢাকামুখী যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর, কসবা, আখাউড়া ও কুমিল্লা জেলার হোমনা, মুরাদনগর, তিতাস উপজেলার ২০ লাখ মানুষ এই সড়ক চালু হলে সরাসরি উপকৃত হবেন বলে অভিজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ