প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বাঞ্ছারামপুর আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি মন্তব্য করেছেন যে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শীঘ্রই একটি শিল্পনগরীতে পরিণত হবে। তিনি জানান, "আজ বাঞ্ছারামপুর হতে নবীনগর পর্যন্ত যে সড়ক নির্মাণের প্রকল্পকাজ চালু হলো, এটি শেষ হলে এবং ৩য় মেঘনা সেতু বাস্তবায়ন হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা একটি শিল্পনগরীতে পরিণত হবে।" তিনি আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ রাজধানীতে মাত্র ১ ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারবে। বর্তমান সরকার ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে এই অঞ্চলের মানুষের কথা ভাবছে এবং যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে ৩২ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করেছে, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দিতে সড়ক নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সড়কটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এই সময় নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক একে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলী উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি নবীনগর উপজেলার সাংসদ এম এ মান্নান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-বাঞ্ছারামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আসছে। আমরা বহু বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। এটি বাস্তবায়িত হবার পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ আরো সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নাম ‘ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩, কড়ইকান্দি হতে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০, সরাইল হতে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’।
প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলাকে সরাসরি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করা। পাশাপাশি নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো।
প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট ও ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি ছয়টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং আটটি বাস-বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের তথ্য দেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে ৪৯৫৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৬১ দশমিক ০৩ লাখ টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩৯৬৫ দশমিক ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য প্রকল্প বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।
সড়কটি চালু হলে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের মানুষের ঢাকামুখী যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর, কসবা, আখাউড়া ও কুমিল্লা জেলার হোমনা, মুরাদনগর, তিতাস উপজেলার ২০ লাখ মানুষ এই সড়ক চালু হলে সরাসরি উপকৃত হবেন বলে অভিজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন