বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২০ পি.এম
স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফরোয়ার্ড পেদ্রো রদ্রিগেজ তাঁর ২০ বছরের সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। দুই দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে তিনি ২৫টি বড় শিরোপা অর্জন করেছেন।
৩৯ বছর বয়সে বুধবার তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।
গত জুলাইয়ে লাৎসিওর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ছিলেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পেদ্রো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে প্রথম একাদশে খেলেছিলেন। ইউরো ২০১২ জয়ে তাঁর অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি মনে করি সময় এসেছে। নতুন অধ্যায় শুরু করার সময়। আমি গর্বিত যে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি এবং যারা পাশে ছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ ফুটবল, আমাকে এত সুখী করার জন্য।”
২০০৮ সালে বার্সেলোনার প্রথম দলে সুযোগ পান পেদ্রো এবং পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছান। কাতালান ক্লাবের হয়ে তিনি ২০টি বড় শিরোপা জিতেছেন। ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করার ম্যাচে তিনি গোল করেছিলেন।
২০১৫ সালে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর দ্বিতীয় মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা অর্জন করেন। এরপর এক মৌসুম এএস রোমায় কাটিয়ে তিনি লাৎসিওতে যোগ দেন এবং ক্যারিয়ারের শেষ পাঁচ বছর সেখানে কাটান।
ক্লাব পর্যায়ে মোট ৭৯৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে পেদ্রো ১৯৭ গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৬৫ ম্যাচে ১৭ গোল করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই ছাত্রীকে বোমা হামলা করতে পারেন- এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই ছাত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লাসে ওই শিক্ষককে আর না দেওয়ার বিষয়ে বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানান। বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের পাশে বসেছিলেন। কয়েকবার চোখাচোখির পর শিক্ষক তাঁকে নেকাব ও পর্দা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং এভাবে পোশাক পরায় তিনি ‘আনকমফোর্টেবল’ ও ‘আনসেফ’ বোধ করছেন বলে জানান। পরে তাঁকে সামনে থেকে উঠে অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলা হয়। পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে অফিস সময়ে মুখ দেখানো বা পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দিলেও শিক্ষক তা গ্রহণ করেননি। আগের একটি ক্লাসেও তাঁর নেকাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ক্লাসে উপস্থিত আরেক শিক্ষার্থী জানান, নেকাব ও পর্দা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে সমর্থন করলে শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে নেকাব পরা শিক্ষার্থী ‘জঙ্গি’ হলে বা ‘বোমা মারলে’ কীভাবে তাকে সমর্থন করা যায়- এমন প্রশ্ন তোলেন ওই শিক্ষক। প্রতিবাদ করায় শিক্ষক নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠে।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, পর্দা ও ধর্মীয় বিধান নিয়ে ওই শিক্ষক এর আগেও ক্লাসে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালে আছেন জানিয়ে ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার বলেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেকের পছন্দ অনুযায়ী পর্দা করার অধিকার রয়েছে। কোনো শিক্ষক সত্যিই এ ধরনের কথা বলে থাকলে তা উচিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিভাগ থেকে ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে আর ক্লাস করতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাডেমিক কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাত মাসে ৩২টি কূপ খননের কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। এই কূপগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩১-৩৫ মেয়াদে অতিরিক্ত ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানিনির্ভরতার চাপ কমানো সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৩২টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি কূপ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি কূপের মধ্যে রয়েছে— টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ হলো— তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ ও কামতা-২।
পেট্রোবাংলা জানায়, সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা ছিল। তবে হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার রিজার্ভার এন্ড ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এগুলো হলো— রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
খননকাজ সম্পন্ন হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ভিত্তিতে এ গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, "সরকারের দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে আমদানি করা এলএনজির ওপর দেশের নির্ভরতা কমানোর একটি উদ্যোগ।" তিনি আরও বলেন, "নতুন গ্যাস যাতে সময়মতো জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর তা গ্রিডে সরবরাহের অবকাঠামোর অভাবে যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ইতোমধ্যে প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এজন্য বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে। একইসাথে নতুন কূপের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।" তিনি জানান, "ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।"
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং পরবর্তী ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে চায়, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়।" পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, "আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।"
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, "খুব শিগগির এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানিচুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।"
তিনি আরও জানান, ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। হুমায়ুন কবির বলেন, "এখানে কথাবার্তা ও আলোচনা চলছে এবং চলবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকে—সিনিয়র অফিশিয়াল লেভেলে, লিডারশিপ বা নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং পানিবিষয়ক আলোচনায় যারা দুই দিক থেকে কাজ করবেন, তাদের মধ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। যদি নেতৃত্বের মানসিকতা থাকে যে তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করবে, তবে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান পাব।"
পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, "আলোচনা, ডায়ালগ এবং কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনের যে অবস্থানগুলো রয়েছে, সেগুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।"
দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দেশের ভবিষ্যৎ সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবিলায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, "আমরা অতীত বা সাধারণ ধারার মতো কাজ না করে গুণগত উপায়ে দেশের ভবিষ্যতের সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে চাই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শওকত আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন শেলা নদী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি দস্যুদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে গত ৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুদলের সদস্যরা সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৩টি এয়ারগান, ১টি পাইপগানের ট্রিগার এবং ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনা, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অতি দ্রুতই সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে কোস্ট গার্ড আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ