প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই ছাত্রীকে বোমা হামলা করতে পারেন- এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই ছাত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লাসে ওই শিক্ষককে আর না দেওয়ার বিষয়ে বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানান। বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের পাশে বসেছিলেন। কয়েকবার চোখাচোখির পর শিক্ষক তাঁকে নেকাব ও পর্দা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং এভাবে পোশাক পরায় তিনি ‘আনকমফোর্টেবল’ ও ‘আনসেফ’ বোধ করছেন বলে জানান। পরে তাঁকে সামনে থেকে উঠে অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলা হয়। পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে অফিস সময়ে মুখ দেখানো বা পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দিলেও শিক্ষক তা গ্রহণ করেননি। আগের একটি ক্লাসেও তাঁর নেকাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ক্লাসে উপস্থিত আরেক শিক্ষার্থী জানান, নেকাব ও পর্দা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে সমর্থন করলে শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে নেকাব পরা শিক্ষার্থী ‘জঙ্গি’ হলে বা ‘বোমা মারলে’ কীভাবে তাকে সমর্থন করা যায়- এমন প্রশ্ন তোলেন ওই শিক্ষক। প্রতিবাদ করায় শিক্ষক নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠে।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, পর্দা ও ধর্মীয় বিধান নিয়ে ওই শিক্ষক এর আগেও ক্লাসে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালে আছেন জানিয়ে ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার বলেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেকের পছন্দ অনুযায়ী পর্দা করার অধিকার রয়েছে। কোনো শিক্ষক সত্যিই এ ধরনের কথা বলে থাকলে তা উচিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিভাগ থেকে ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে আর ক্লাস করতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাডেমিক কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন