০৯:৪৪ এম
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতার মাঝখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দাঁড়াতে গিয়ে গত বছর অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এই দাতব্যকর্মীদের একটি বৃহৎ অংশ প্রাণ হারিয়েছে গাজা ও সুদানে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জাতিসংঘ মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছে।
তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রাণহানির সংখ্যা ২০২৪ সালের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) এই তথ্য উপস্থাপন করেছে। গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের বরাত দিয়ে ওসিএইচএ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজা দাতব্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হয়ে উঠেছে; সেখানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১৮৬ জন কর্মী। এর পরের অবস্থান সুদানে, যেখানে ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মাত্র তিন বছরে ১ হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, তবে শুধু নিন্দা করে পরবর্তী ত্রাণকর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও আমাদের সহকর্মীদের সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা এই নিয়ম ভাঙবে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন
এদিকে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। বিবৃতিতে সংঘাত-পীড়িত অঞ্চলে সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওসিএইচএ।
সংস্থাটি বলেছে, অস্ত্রসজ্জিত এই ড্রোনগুলোর কারণে বহু মানুষের হাতে প্রাণঘাতী ক্ষমতা এসে গেছে এবং শহর-নগরগুলোতে ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুদানের পরিস্থিতি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ড্রোন হামলায় দেশটিতে ৮০ শতাংশ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে; যা সেখানকার হাট-বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় প্রাণহানির বিষয়টিও উল্লিখিত হয়েছে।
টম ফ্লেচার বলেন, সশস্ত্র ড্রোন এখন এক পুরোনো বিপদের নতুন রূপ হিসেবে দেখা দিয়েছে; আর সেটি হলো—সাধারণ মানুষের জীবন ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা।
আরও পড়ুন: কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১, আহত ৮
সূত্র: এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন