ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফেলে যাওয়া মাংস-চামড়া-মাথা-পা জব্দ


বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফেলে যাওয়া মাংস-চামড়া-মাথা-পা জব্দ


কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার ১৩ কেজি মাংস, পালিয়ে গেল চোরা শিকারিরা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য   বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের গোলখালীর সিংয়ের বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৩ কেজি হরিণের মাংস, চারটি পা, একটি মাথা ও একটি আস্ত চামড়া জব্দ করা হয়েছে। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরা শিকারিরা বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের গভীর বন থেকে হরিণ শিকার করে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি চক্র গোলখালীর সিংয়ের বাঁধসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে চারদিক থেকে এলাকা ঘিরে অভিযান চালায়।

অভিযানকারী দল সম্ভাব্য আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে শিকারিরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের ফেলে যাওয়া অবস্থায় হরিণের মাংস, চারটি পা, একটি মাথা ও একটি আস্ত চামড়া উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশে জব্দ করা আলামতগুলো পরবর্তী আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে চিত্রা হরিণ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মোংলা বন্দর ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথ ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী হত্যা, চামড়া পাচার এবং বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়লার ভাগাড় থেকে জ্বালানি তৈরির চেষ্টা, সুজনের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


ময়লার ভাগাড় থেকে জ্বালানি তৈরির চেষ্টা, সুজনের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা


ফুটপাতে জুতা সেলাই করে সংসার চলে; প্রতিদিন ৪০ কেজি পলিথিন প্রক্রিয়াজাতের দাবি, সরকারি সহায়তা চান প্রান্তিক কারিগর

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা হেলিপ্যাডের পাশে ঋষি (দলিত) সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের বসবাস। সেখানেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন সুজন বিশ্বাস (৩৫)। জীবিকার তাগিদে উপজেলা সদর বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা-স্যান্ডেল সেলাই করেন তিনি। দিনে আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য আয়ে কোনো রকমে চলে তাঁর সংসার।

কিন্তু অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াইয়ের বাইরেও সুজনের মনে ছিল আরেকটি উদ্বেগ—বাড়ির সামনের বিশাল ময়লার ভাগাড়। বাজারের বর্জ্যের সঙ্গে জমা হয় বিপুল পরিমাণ পলিথিন। কখনো সেই বর্জ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এই পরিস্থিতি থেকেই পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদনের চেষ্টা শুরু করেন সুজন। ইউটিউব দেখে নিজ উদ্যোগে তৈরি করেন একটি ‘পলিথিন বার্ন ইউনিট’। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থায় পলিথিন প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদিত জ্বালানি দিয়ে শ্যালো ইঞ্জিন ও মোটরসাইকেল চালানোর পরীক্ষাও করছেন তিনি।

সামান্য আয়ের মানুষটির এই উদ্যোগ একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প খোঁজার চেষ্টা, অন্যদিকে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। তবে পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ এবং উৎপাদিত জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা জরুরি।

ইউটিউব দেখে উদ্যোগ

সুজন বিশ্বাস বলেন, “উপজেলার পুরো বাজারের ময়লা-আবর্জনা আমাদের বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয়। খোলা জায়গায় পলিথিনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধোঁয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের দম আটকে আসে। এ কারণে ভাবতে শুরু করি, কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায়। পরে ইউটিউব দেখে পরিবেশ রক্ষার কথা ভেবে এই পলিথিন বার্ন ইউনিট তৈরি করেছি।”

তাঁর ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি ময়লার ভাগাড়ের পলিথিন কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবহৃত পদ্ধতিতে পরিবেশের ক্ষতি কতটা কমছে, তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৪০ কেজি পলিথিনে জ্বালানি উৎপাদনের দাবি

সুজন জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি পলিথিন একটি বড় সিলিন্ডারে প্রক্রিয়াজাত করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পরিমাণ পলিথিন থেকে প্রায় ১৫ লিটার ডিজেল, ৪ লিটার পেট্রোল ও ১ লিটার অকটেন পাওয়া যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে এবং জ্বালানি হিসেবে পাঁচ মণ কাঠ ব্যবহার করেন তিনি। উৎপাদিত ডিজেল ব্যবহারের আগে পরিশোধন করতে হয় বলেও জানান সুজন।

এই হিসাব ও জ্বালানির ধরন স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। পলিথিনকে অক্সিজেনের সীমিত উপস্থিতিতে উত্তপ্ত করে তেলজাতীয় পদার্থ উৎপাদনের প্রযুক্তি বিশ্বে পরিচিত হলেও, উৎপাদিত তরল সরাসরি প্রচলিত ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেনের সমমানের কি না, তা পরীক্ষাগারে যাচাই ছাড়া নিশ্চিত বলা যায় না। প্রক্রিয়াটিতে ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও অন্যান্য দূষক তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

সুজনের আশা, প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে তাঁর উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চান।

স্থানীয়দের আগ্রহ

নসিমনচালক মো. রাসেল মোল্লা জানান, তিনি সুজনের কাছ থেকে জ্বালানি কিনে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর চোখে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবহার থেকে জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কিংবা ইঞ্জিনের ওপর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার বলেন, সুজনের তৈরি জ্বালানি দিয়ে মোটরসাইকেল চলতে দেখেছেন তিনি। তাঁর মতে, উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। তবে জ্বালানির মান ও নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন।

চিতলমারী উপজেলা পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, “পলিথিন পরিবেশের জন্য হুমকি। সুজন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমাদের সবার উচিত সুজনকে সহযোগিতা করা।”

চিতলমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুজনের উদ্যোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে ইতিবাচক মনোভাবের কথা উঠে এসেছে। তবে এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার পরিবেশগত নিরাপত্তা ও জ্বালানির মান যাচাইয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

সম্ভাবনার সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নও

পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাজার ও বসতবাড়ির পাশে বর্জ্য জমে থাকলে দুর্গন্ধ, আগুনের ধোঁয়া এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সুজন বিশ্বাসের উদ্যোগ সেই সংকটের মধ্যে একজন প্রান্তিক মানুষের নিজস্ব সমাধান খোঁজার গল্প। কিন্তু পলিথিন পোড়ানোকে পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে নির্গমন পরীক্ষা, জ্বালানির রাসায়নিক গুণাগুণ যাচাই এবং নিরাপদ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পেলে তাঁর উদ্যোগের বাস্তব সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব হতে পারে।

ফুটপাতে জুতা সেলাই করে সংসার চালানো সুজনের স্বপ্ন—নিজের উদ্যোগটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া। সেই স্বপ্ন সফল করতে প্রয়োজন শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি কারাগারে ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


সৌদি কারাগারে ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে অন্তত সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের লাশ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে একটি তালিকা পাঠায়। আমাদের নাগরিকেরা বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন—এই বিষয়ে তারা আমাদের অবহিত করে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি সেখানে কারাগারে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি মক্কার এক মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যে দুজন বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।

গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সাজা কার্যকরের আগে বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের কপির জন্য চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছি রায়ের কপির জন্য। রায়ের কপি পেলেই আমরা জানতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

স্থানীয় আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাজা হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানো প্রয়োজন। আমরা বিস্তারিত জানতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। এ জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে আমাদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বিদায়ী আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, যাদের দুর্ভাগ্যবশত শিরচ্ছেদ হয়েছে, তাদের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে কারা ক্ষমতায় ছিল? তার পর এল অন্তর্বর্তী সরকার, তাদের সময় গেছে দেড় বছর। আর আমাদের বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে মাত্র ছয় মাস আগে। এই ছয় মাসের মধ্যে এই তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও যোগ করেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখনই বিষয়টি জানতে পেরেছে, তখনই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করব। সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রবাসীদের যেকোনো সেবার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানোর পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। সেবাদানে অবহেলা বা ঘাটতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জনগণ আজ অসহায়’, নাহিদ ইসলামের কাছে ২ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


‘জনগণ আজ অসহায়’, নাহিদ ইসলামের কাছে ২ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির ঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনসংযোগ কর্মসূচির শুরুতে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকা সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির শিকার হয়। তাই এখান থেকেই আমরা এই গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করছি। সারা দেশে যে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে হবে।’

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘দেশে আজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করার উসকানি দেয়া হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করার কারণে ইতোমধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে নাম বদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন বানিয়ে আগের মতোই দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।’

দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট অধিবেশনে বিএনপি সরকার বলেছিল যে পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু বাস্তবে অকটেন ও ডিজেলের দাম পরপর তিনবার বাড়ানো হয়েছে। ‘জনগণ আজ অসহায়’, সরকারের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই পরিস্থিতির পূর্ণ দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতি নিয়ে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এই কারণে আজ থেকে এই লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করেছিল, কিন্তু বাজারে সবজি কিনতে গেলে মাংসের দাম এবং মুরগি কিনতে গেলে গরুর মাংসের দাম দিতে হচ্ছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। জনগণের এ সমস্যা সমাধানে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। রাজপথ এবং সংসদ–দুই জায়গাতেই আমরা জনগণের কথা তুলে ধরব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


ফরিদপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৮

ফরিদপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত দুই জন মা ও ছেলে। নিহতদের বাড়ি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পৌনে ৪টার সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার তেতুলতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক তেতুলতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকে থাকা বালুর নিচে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার। গুরুতর আহত হয় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন এবং প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমী আক্তার (৩২) ও তার ছেলে শাওন (০৭) কে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%