বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (ওবামাকেয়ার) স্বাস্থ্যবিমা বাজার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ব্যক্তিকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ঘোষণা তিনি গত মঙ্গলবার প্রদান করেন। ভ্যান্সের দাবি, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই এমন প্রিমিয়াম ভর্তুকি গ্রহণ করছিলেন, যা পাওয়ার জন্য তারা আসলে যোগ্য ছিলেন না। এমনকি তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি বাস্তবে অস্তিত্বহীন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যারা ওবামাকেয়ারের ভর্তুকি পাচ্ছেন, তাদের প্রকৃতপক্ষে সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি স্বাস্থ্যবিমা আইনটির প্রচলিত আরেক নাম উল্লেখ করে এ কথা বলেন। ভ্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু করা এসব নিবন্ধন বাতিলের ফলে সরকারের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন জালিয়াতি দমন টাস্কফোর্সের সর্বশেষ উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ওপর কেন্দ্রিত হয়েছে।
গত কয়েক মাসে টাস্কফোর্সটি মিনেসোটা ও ক্যালিফোর্নিয়াকে দেওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। তাদের দাবি, এসব অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে জালিয়াতি প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে, স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চলতি বছর ওবামাকেয়ারে নতুন নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, এটি অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট—যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত—ধীরে ধীরে ভেঙে দেওয়ার একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ন্যান্সি পেলোসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “জালিয়াতি দমনের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা যেমন নিষ্ঠুর, তেমনি নিন্দনীয়।” সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুমকি মোকাবেলায় সংলাপ ও শান্তির বিকল্প কোনো অস্ত্র নেই, এই মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি।
এই তথ্যটি ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ’র মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শান্তি’ কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতিকে বোঝায় না; বরং এর সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সমৃদ্ধিও জড়িত।
বাঘায়ি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডকে অকার্যকর করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংলাপ ও শান্তির মতো কার্যকর কোনো অস্ত্র নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, পলাতক ফ্যাসিস্টরা দেশের বাইরে থেকে অশান্তির চেষ্টা চালাচ্ছে, এবং এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে দেশের ভেতরে অবস্থানরত গুপ্ত ও সুপ্তরা।
তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে এই কথা বলেন।
রিজভী আরো জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ তুলে একটি পক্ষ সড়কে নেমেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংকট চলছে। বিরোধী দলের নেতাদের বড় বড় কথা বলার আগে সংবাদপত্র পড়া উচিত।
জামায়াতের এক হাজার গাড়ি নিয়ে লং মার্চের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এত জ্বালানি অপচয় না করা হতো, তাহলে রাষ্ট্রের সাশ্রয় হতো। জনগণ এসব বিষয় বুঝতে পারছে। সংকট সত্ত্বেও সরকার জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করছে। তারেক রহমানের সরকার অর্থনীতির উন্নতির পথে রয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দল এখন যেভাবে নির্বিঘ্নে কথা বলছে, তা ১৭ বছর আগে সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন যে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবু আলওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার তারা এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, খান ইউনিসে পরিচালিত বিমান হামলায় আবু আলওয়ান নিহত হন। নেতানিয়াহু ও কাটজ এই অভিযানকে ‘নির্ভুল অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রশংসা করেন।
তবে এই হামলা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কাঠামো অনুযায়ী, সামরিক অভিযান বন্ধ থাকার কথা ছিল।
এর আগে নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
তবে নেতানিয়াহু ও কাটজের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হামলা কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি। খান ইউনিসের উত্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরো এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গাজার অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গাজা সিটির উত্তর-পূর্বে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল জানিয়েছে, বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কাটজের যৌথ বিবৃতিতে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব স্ট্যাম্পের একটি নকল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনারি ও কম্পিউটারের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব জাল স্ট্যাম্প। খালি চোখে আসল ও নকলের তফাত সহজে বোঝা না গেলেও এর মাধ্যমে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, চক্রের সদস্যরা আসল রাজস্ব স্ট্যাম্পের হুবহু নকল করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তা কালি, জলছাপ এবং কাগজের মানে সূক্ষ্ম তফাত থাকলেও সাধারণ গ্রাহকরা তা ধরতে পারছেন না। চক্রটি স্থানীয় কিছু কম্পিউটারের দোকান ও স্টেশনারি ব্যবসায়ীকে কম দামে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করে। অধিক লাভের লোভে ব্যবসায়ীরাও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এগুলো বিক্রি করছেন। দলিলপত্র, চুক্তিপত্র এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এই জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটারের দোকানি জানান, ভৈরব উপজেলার সামনে দুলাল মিয়ার ফটোস্টেট দোকান থেকে তারা এই নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। তিনি আরও বলেন, পোস্ট অফিস থেকে রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনে তেমন লাভ হয় না। আমরা ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো দুলাল মিয়ার কাছ থেকে ৭ টাকায় কিনে থাকি এবং পরে তা খুচরা বিক্রি করি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল মিয়া দাবি করেন, এই রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো অন্য কেউ আমাকে দিয়ে যায় না। আমি অনেক সময় পরিচিত বিভিন্ন রিকশাওয়ালাকে বলে দিলে তারা পোস্ট অফিস থেকে এনে দেয় বা নিজে গিয়েও আনি। পোস্ট অফিস থেকে অধিক সংখ্যক রাজস্ব স্ট্যাম্প কেনার সময় কোনো মেমো দেওয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো মেমো দেওয়া হয় না এবং এগুলো আসল নাকি নকল তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, আমরা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থেকে স্ট্যাম্প কিনি। কিন্তু ১০ টাকার এই স্ট্যাম্পগুলোও যে নকল হতে পারে, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা।
তবে পোস্ট অফিস থেকে স্ট্যাম্প বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভৈরব পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে প্রতি মাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয়। হেড অফিস থেকে সরাসরি স্ট্যাম্প এনে আমরা স্লিপ বা মেমোর মাধ্যমে বিক্রি করি। সুতরাং, আমাদের অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প দেওয়া হয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমের কাছে দেখানো স্ট্যাম্পটি দেখে তাঁর কাছে আসল বলে মনে হয়নি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। খুব শীঘ্রই বাজার মনিটরিং ও জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ