ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না


এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা দেওয়ার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আহ্বায়কের ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া, ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে দলের জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও সাংগঠনিক উপকমিটির প্রধান সারজিস আলমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সমতার ভিত্তিতে সদস্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নারী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার অনুপাতে নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

৩১ থেকে ৫১ সদস্যের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে। ৩১ জনের কম সদস্য থাকলে তা আংশিক কমিটি হিসেবে প্রকাশ করতে হবে। তবে আংশিক কমিটিতে অন্তত ১১ জন সদস্য থাকতে হবে। এ ধরনের কমিটি ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করার নির্দেশ রয়েছে।

এনসিপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। তবে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সদস্যসচিবের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ৩০ বছর।

দলের জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের (রানিং স্টুডেন্ট) রাখা যাবে না; তারা ছাত্রশক্তিতে কাজ করবেন। তবে ৩০ বছরের কম বয়সী কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থী নন—এমন ব্যক্তিদের যুবশক্তি, স্বেচ্ছাসেবক শক্তি বা দলের অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

নির্দেশনায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যসংখ্যাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মহানগর ও জেলা কমিটি হবে ১০১ সদস্যের; উপজেলা, পৌরসভা ও থানা কমিটি হবে ৭১ সদস্যের; ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যের এবং ওয়ার্ড কমিটি হবে ৩১ সদস্যের।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা তিন ধাপে

এনসিপি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। জেলা কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে এ তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থী তালিকা পাঠানোর জন্য তিনটি ধাপে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ২০ নভেম্বর এবং তৃতীয় ও শেষ ধাপে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানি কোম্পানিগুলোকে ৫ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


জাপানি কোম্পানিগুলোকে ৫ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি-মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প এই ৫ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিওর জেট্রো হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে প্রধান বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী ২ দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম চলছে। তবে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।’

তিনি আরও জানান, ‘সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।’

উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২ দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি ২ দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একাধিকবার জাপান সফর করেছেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রেখেছেন।

তারেক রহমান চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি।

এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে।

মোটরযান উৎপাদনকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জ্বালানি খাতে তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলো এসব পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।

প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ তার মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।

এছাড়া, আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছি। এসব সমস্যার সমাধান এবং আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন আস্থা। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।’

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যবান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জাপানে আসেন। পরে দেশে ফিরে তাঁরা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা বাংলাদেশ ও জাপান—উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান আমাদের পাশে ছিল। এখন আমরা আপনাদের আমাদের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি। আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি ও উভয় দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করি।’

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) ও জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা।

এ সময় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজতর করতে গৃহীত সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের ঢাকা শাখার শাখা মহাব্যবস্থাপক ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো ‘টুগেদার ফর আ ব্রাইটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন।

এছাড়া, ওয়াইকেকে কপোরেশনের গ্লোবাল সেলস হেডকোয়ার্টার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে : শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামীতে স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষাগুলো একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "মাদরাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া যায়। সবাই আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়?" তিনি আরও বলেন, "আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদরাসা ও স্কুলের পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে, নাকি আলাদা হবে? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গায় একই বিষয়ে ভর্তি হয়, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই আগামীতে স্কুল-মাদরাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর দেখব, মাদরাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়। তারপর পরীক্ষা করে দেখব।"

পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান।

তিনি বলেন, "যেসব পরীক্ষক এই দুষ্টুমি করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনব।"

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা! আমি এনটিআরসিএ করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিএতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবেন, সেখানে তারা নিয়োগ দেবেন। সর্বশেষ সরকার তাদের ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও নিয়োগ দিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় ঢালাও পোস্টিং দিয়েছে!"

তিনি আরও বলেন, "এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকল যে আমাদের বদলি করতে হবে। আমি দেখলাম, কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে, তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি বদলির জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছি।"

শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এখন সবাই বদলি চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মণিপুর, শাহীনের স্কুল! বুঝলেন তো?"

শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেন—৩১ অক্টোবরের মধ্যে যদি বদলি না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদরাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প নেই, এমন মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মতামত সরাসরি শোনা হয়।

সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেও তিনি জানান, কী প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিন হবে— এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠন করতে হবে— এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, সমস্ত প্রস্তাব ও পর্যালোচনা শেষে যখন জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হবে, তখন সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সার্বিকভাবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এর বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো নতুন ভালো প্রস্তাব আসলে তা সহানুভূতির সাথে পরীক্ষা করে দেখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে তাদের জীবনের ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন। ভবিষ্যতে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ও শক্তিশালী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদমানের উপর আস্থা রাখছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


সাদমানের উপর আস্থা রাখছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আশা করছেন যে ওপেনার সাদমান ইসলাম নিয়মিতভাবে নিজের ইনিংসগুলোকে বড় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবেন।

সাদমান এখন পর্যন্ত ৩২ টেস্টের ৬০ ইনিংসে ১০টি অর্ধশতকের বিপরীতে মাত্র দুটি সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩ রানে পৌঁছানোর পর তিনি ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। যদি তিনি দ্বিতীয় দিনে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে এটি হবে তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের প্রথম পছন্দের ওপেনার হিসেবে সাদমানের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স অন্যান্য বিশ্বমানের ওপেনারদের তুলনায় সন্তোষজনক নয়।

সালাহউদ্দিন সাদমানের ধৈর্য এবং উইকেটের অবস্থার প্রতি খেলার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বাঁহাতি এই ব্যাটার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে কঠিন সময় পার করেছেন এবং এরপর নিজের মতো করে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়েছেন।

দিনের খেলা শেষে সালাহউদ্দিন বলেন, “সে উইকেট খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে এবং খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেনি। কঠিন সময়টা পার করে এরপর নিজেকে ধরে রেখে ইনিংস খেলেছে।”

আলোস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায়।

তবে সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করেছেন যে সাম্প্রতিক এই ইনিংস থেকে সাদমান শিক্ষা নেবেন এবং ক্রিজে বেশি সময় কাটিয়ে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, “সে অনেক ভালো ও জোড়ালো কিছু অর্ধশতক করেছে, কিন্তু সেগুলোকে বড় করতে পারেনি। আশা করি, এই ইনিংস থেকে সে অনেক কিছু শিখবে এবং ভবিষ্যতে সেঞ্চুরি করা তার জন্য সহজ হবে।”

সালাহউদ্দিন বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে ৪০০ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারবে। তবে ম্যাচের বাকি চার দিন থাকায় তিনি সতর্ক করেছেন যে লড়াই এখনো সমানে সমান।

তিনি বলেন, “আশা করি, এই উইকেটে আমরা ৪০০ রানের বেশি করতে পারব। তা করতে পারলে আমরা ভালো অবস্থানে থাকব।” পাঁচ দিনের পুরো খেলায় ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছেন বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন। তবে ইনিংসের শুরুতে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারলে স্বাগতিকরা আরও শক্ত অবস্থানে থাকতে পারত বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বৃহস্পতিবারের প্রথম সেশন গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে উল্লেখ করেন এই কোচ। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

এদিকে, পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তাওহীদ হৃদয় বৃহস্পতিবার আবার ব্যাটিং করতে পারবেন বলে আশা করছেন সালাহউদ্দিন।

ব্যাটারদের উন্নতির জন্য সাবেক ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের অবদানের কথাও স্বীকার করেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, গত এক বছরে আশরাফুলের করা কাজের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কোচিংয়ের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার আগে তরুণদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, “বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের যেভাবে কোচিং করিয়েছি, সেখানে কোচ হিসেবে আমাদের ভুল ছিল। জাতীয় দলে আসার আগে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, তা নিয়ে আমাদের আরও সতর্কভাবে ভাবতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%