বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব স্ট্যাম্পের একটি নকল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনারি ও কম্পিউটারের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব জাল স্ট্যাম্প। খালি চোখে আসল ও নকলের তফাত সহজে বোঝা না গেলেও এর মাধ্যমে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, চক্রের সদস্যরা আসল রাজস্ব স্ট্যাম্পের হুবহু নকল করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তা কালি, জলছাপ এবং কাগজের মানে সূক্ষ্ম তফাত থাকলেও সাধারণ গ্রাহকরা তা ধরতে পারছেন না। চক্রটি স্থানীয় কিছু কম্পিউটারের দোকান ও স্টেশনারি ব্যবসায়ীকে কম দামে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করে। অধিক লাভের লোভে ব্যবসায়ীরাও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এগুলো বিক্রি করছেন। দলিলপত্র, চুক্তিপত্র এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এই জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটারের দোকানি জানান, ভৈরব উপজেলার সামনে দুলাল মিয়ার ফটোস্টেট দোকান থেকে তারা এই নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। তিনি আরও বলেন, পোস্ট অফিস থেকে রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনে তেমন লাভ হয় না। আমরা ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো দুলাল মিয়ার কাছ থেকে ৭ টাকায় কিনে থাকি এবং পরে তা খুচরা বিক্রি করি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল মিয়া দাবি করেন, এই রাজস্ব স্ট্যাম্পগুলো অন্য কেউ আমাকে দিয়ে যায় না। আমি অনেক সময় পরিচিত বিভিন্ন রিকশাওয়ালাকে বলে দিলে তারা পোস্ট অফিস থেকে এনে দেয় বা নিজে গিয়েও আনি। পোস্ট অফিস থেকে অধিক সংখ্যক রাজস্ব স্ট্যাম্প কেনার সময় কোনো মেমো দেওয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো মেমো দেওয়া হয় না এবং এগুলো আসল নাকি নকল তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, আমরা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থেকে স্ট্যাম্প কিনি। কিন্তু ১০ টাকার এই স্ট্যাম্পগুলোও যে নকল হতে পারে, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা।
তবে পোস্ট অফিস থেকে স্ট্যাম্প বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভৈরব পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে প্রতি মাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয়। হেড অফিস থেকে সরাসরি স্ট্যাম্প এনে আমরা স্লিপ বা মেমোর মাধ্যমে বিক্রি করি। সুতরাং, আমাদের অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প দেওয়া হয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমের কাছে দেখানো স্ট্যাম্পটি দেখে তাঁর কাছে আসল বলে মনে হয়নি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। খুব শীঘ্রই বাজার মনিটরিং ও জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসএসহ সকল অংশীজনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে সকল পক্ষ সমান সুবিধা পায়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার জন্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে অর্থ, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিকাশমান অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্যকে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করা আবশ্যক। এসময় তিনি দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জ্বালানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শিল্প মালিকদের সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।
প্রেসিডেন্ট গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের যেকোনো সমস্যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।
এসময় প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিকেএমইএ-র প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নানা আলোচনা, উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে না। প্রশাসন এবারও ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ সময়সূচি, পরীক্ষা কেন্দ্রের সংকট, ব্যবস্থাপনা জটিলতা ও বাড়তি ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী একাডেমিক কাউন্সিল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম জানান, "আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে অধ্যাপক আলম বলেন, "বর্তমান সময়সূচির কারণে এবার বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও বলেন, "যেসব সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেসব স্পট ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।" বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নিতে হলে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, যা ভর্তি কার্যক্রমের শুরুতে দেরি ঘটাবে। তাই এ বছর বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী বছর থেকে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মো. আলী রেজা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র এবং সময় আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেছে, ফলে জাবির জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্র এবং সময় পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
তিনি বলেন, "দরকারি খরচও বেড়ে যাবে।" বিষয়গুলো জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হবে, যা চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজন করলে শিক্ষক সম্মানী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফি, আবেদন ফি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়বে। এতে ভর্তি পরীক্ষার খরচ বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সভায় আলোচনা হয়েছে যে, ভর্তি পরীক্ষার ফি প্রায় ১ হাজার ৬শ থেকে ১ হাজার ৭শ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে আয়োজনের দাবি নতুন নয়।
২০২২ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে আয়োজনের সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় যানজট, পরিবহণ সংকট, পার্কিং, পানি, খাবার ও পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে নানা ভোগান্তির অভিযোগ ওঠে। এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও জাবির ভর্তি পরীক্ষা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৮ জুলাই বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য চারটি পৃথক উপকমিটি গঠন করে জাবি প্রশাসন। আগস্টেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলার কথা জানানো হয়। তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্র ও সময়সূচি ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং বাড়তি ব্যয়ের কারণে চলতি শিক্ষাবর্ষে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন জানিয়েছেন, বাবার স্বপ্ন পূরণে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এলাকার মানুষের সেবায় উন্নয়নের জন্য আমার বাবা বহু পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। অসুস্থ হলে মানুষ প্রায়ই সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়, তবুও অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পায় না। বাবার এই উপলব্ধি থেকেই তিনি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি এলাকায় বাবার স্বপ্নের হাসপাতাল উদ্বোধন করার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রীর বাবা মরহুম একেএম আবু তাহের ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, শিল্পপতি এবং সমাজসেবক। হাসপাতালটির নামকরণ তার নামেই করা হয়েছে। ২০২৬ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনাইমুড়ি ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘একেএম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’ রাখা হয়।
জাকারিয়া তাহের সুমন উল্লেখ করেন, আমার বাবা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য এই জমিটি প্রদান করেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার হাসপাতালের কাজ সম্পন্ন করতে দেয়নি। তিনি বলেন, "এটা আপনাদের হাসপাতাল, আপনারাই দেখভাল করবেন।"
অবহেলিত এই জনপদের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নামমাত্র খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর।
এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ কায়সার আলম সেলিম, সাবেক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জুনাব আলী এবং সৈয়দ জহিরুল ইসলাম স্বপন, সহ-সভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু এবং পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালটি নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি নিজ নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের ৪৭ জন নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।
বাবরের উদ্যোগ ও অর্থায়নে তাদের ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মির্জা মো. হায়দার আলী।
উদ্যোক্তা জানান, ধর্মীয় অনুশাসনে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৭ সদস্যের এই দল সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে লুৎফুজ্জামান বাবর নিজে এই দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না।
পিএস মির্জা মো. হায়দার আলী বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবরের নিজস্ব অর্থায়নে তার নির্বাচনি এলাকা মোহনগঞ্জের ১৮ জন, মদনের ১৭ জন এবং খালিয়াজুরীর ১১ জন নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও এই দলের সঙ্গে যাচ্ছেন। ধর্মীয় অনুশাসনে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম এরশাদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী পুতুল, সাবেক পৌর মেয়র মাহাবুবুন্নবী শেখ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামিউল ইসলাম রাকিবসহ ১৮ জন এই দলে রয়েছেন।
অন্যদিকে মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরে আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান চন্দন, যুবদলের সভাপতি গোলাম রাসেল রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রদলের সভাপতি শামীম হাসানসহ ১৭ জন যাচ্ছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্ট, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া উদ্দিন, যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ছুটন, সদস্য সচিব রাজিব হোসেন পলাশ, ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল হক পলিন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়সহ ১১ জন রয়েছেন।
এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মদন উপজেলা সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসেনও এই দলে রয়েছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, এতজন নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। এটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ।
মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে আমরা ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছি। এজন্য তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, এলাকার নেতাকর্মীদের ধর্মীয় অনুশাসনে উদ্বুদ্ধ করতেই এ ধরনের চিন্তা করেছি। পর্যায়ক্রমে আরও যারা আছেন তাদের ওমরাহ পালন করানোর জন্য উদ্যোগ নেব আমরা। এতে মানুষজন চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আমি আখিরাতের কথা চিন্তা করেই এ কাজটা করেছি। ভবিষ্যতে আরও পাঠাব ইনশাআল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ