শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৮ পি.এম
বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিতর্কিত সাইবার আইন বাতিল ও সংস্কারের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হয়েছে—এখন সেই প্রশ্নই জোরদার হয়ে উঠেছে। আইন বাতিলের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতের মামলায় জড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের আইনি জটিলতা, হয়রানি ও আদালতে হাজিরার ভোগান্তি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমাজে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এসব আইনের একাধিক দমনমূলক ধারার কারণে সাংবাদিকদের স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, সংবাদ উপস্থাপন কিংবা সাধারণ মতপ্রকাশের জের ধরে অসংখ্য সাংবাদিককে মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও দীর্ঘদিন ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, সাইবার অপরাধ দমনের দোহাই দিয়ে এসব আইন করা হলেও বাস্তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সাংবাদিকের কাছেই আইনগুলো চরম আতঙ্ক ও হয়রানির সমার্থক হয়ে উঠেছিল।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ধারা রহিত করার উদ্যোগ নেয়। নতুন অধ্যাদেশে আগের আইনের আলোচিত ৯টি ধারা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজে প্রাথমিকভাবে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে এই আইনি সংস্কার বাস্তবে কতটুকু স্বস্তি আনবে—তা নিয়ে রয়ে গেছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আইন বাতিল বা কয়েকটি ধারা বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। এই আইনের আওতায় দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী, বছরের পর বছর ধরে আদালতে হাজিরা দেওয়া সাংবাদিকরা কবে নাগাদ পুরোপুরি আইনি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো আইনের নামে একই ধরনের অপব্যবহার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।
সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে—এমন প্রচারণার চেয়ে বাস্তবে সাংবাদিকরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন, সেটিই আসল বিষয়। কেবল আনুষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বা ‘ব্র্যান্ডিং’ করার চেষ্টা না করে এমন একটি কার্যকর আইন ও প্রয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে তথ্য প্রকাশ বা মতপ্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে অপরাধী হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইবার অপরাধ দমনে সুনির্দিষ্ট আইন থাকার প্রয়োজনীয়তা সর্বজনস্বীকৃত। তবে সেই আইন যেন কোনোভাবেই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা, সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়—তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
বিতর্কিত আইনে দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাগুলোর দ্রুত ও সম্মানজনক নিষ্পত্তিই এখন বড় পরীক্ষা। অতীতের অশুভ অধ্যায়ের ইতি টেনে একজন সাংবাদিক যখন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সত্য ও জনস্বার্থমূলক সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন এবং তার জন্য তাকে আর আদালতের বারান্দায় বছরের পর বছর ঘুরতে হবে না—ঠিক তখনই বোঝা যাবে, আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করার লক্ষ্যে ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সুবিধাটি কার্যকর করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিগগিরই সারা দেশে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।কারা কর্তৃপক্ষের আধুনিক ও মানবিক এই উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিটের জন্য ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানিয়েছেন, সারা দেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।এদিকে, সরকার কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।মাসুদ হাসান জুয়েল আরও জানান, বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। কারা অধিদপ্তর জানায়, একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য।কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসস’কে জানান, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজি ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি নারীও রয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া থেকে মাওনাগামী আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও একটি কাভার্ডভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে সিএনজির সামনের অংশ সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুজনের মৃত্যু ঘটে। আহত হন আরও চারজন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে গাড়ি সরানোর পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক সময় পাটখড়ি ছিল পাট চাষের পর পড়ে থাকা একটি অবহেলিত উপজাত। গ্রামীণ মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পর এর অর্থনৈতিক মূল্য ছিল খুবই কম। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাটখড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজার তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মেহেরপুরের কৃষকদের জন্য পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্য হয়ে উঠেছে।কৃষকদের পাটের বাজার দর নিয়ে প্রত্যাশা সবসময় পূরণ না হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে তারা উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ তুলে আনতে সক্ষম হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে কৃষকরা পাটের চেয়ে পাটখড়ি বিক্রি করেই বেশি অর্থ উপার্জন করছেন।এর ফলে, গত কয়েক বছরে পাট চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকলেও পাটখড়ির বাড়তি চাহিদা কৃষকদের নতুন করে পাট আবাদে উৎসাহিত করছে।মেহেরপুরে এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে কৃষকের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। গড়ে ওই জমিতে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বিঘা জমির পাট বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, একই জমির পাটখড়ি মানভেদে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে পাট বিক্রি থেকে সীমিত লাভ হলেও পাটখড়ির অর্থমূল্য কৃষকের মোট আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।সদর উপজেলার পাটচাষি মাহাতাব হোসেন বাসস’কে বলেন, "এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে প্রায় ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট বিক্রি করে খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না। কিন্তু পাটখড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায়। এতে পাট চাষের খরচ অনেকটাই উঠে আসে।"পাটখড়ির সবচেয়ে পুরোনো ব্যবহার জ্বালানি হিসেবে। গ্রামীণ জনপদে শুকনো পাটখড়ি মাটির চুলায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি আগে মূলত অন্যান্য জ্বালানির সহযোগী ছিল। এখনো গ্রামের অনেক পরিবার শুকনো পাটখড়ি রান্নার কাজে ব্যবহার করে। তবে এর ব্যবহার এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাড়ির বেড়া, গোয়াল ঘর কিংবা অস্থায়ী ঘের তৈরিতে পাটখড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকরা জমির চারপাশে বেড়া দেয়ার কাজেও এটি ব্যবহার করেন। সবজি বা অন্যান্য ফসলের জমি পশুর হাত থেকে রক্ষা করতে অস্থায়ী বেড়া তৈরিতেও পাটখড়ি কাজে লাগে।সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বাসস’কে বলেন, "পাটখড়ি দিয়ে বাড়ির বেড়া দেয়া যায়। জমির চারপাশেও বেড়া দেয়া হয়। শুকিয়ে রাখলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তাই এখন পাটখড়ি আর ফেলে রাখার জিনিস নয়।"পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করাও সহজ। কৃষকরা মাঠ থেকে পাটখড়ি সংগ্রহের পর রাস্তার পাশে, মাঠে কিংবা বাড়ির উঠানে রোদে শুকিয়ে নেন। ভালোভাবে শুকানোর পর ছোট ছোট আটি করে তা সংরক্ষণ করা হয়। এতে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকলে বিক্রি করার সুযোগও থাকে। গতকাল শুক্রবার কালাচাঁদপুর গ্রামের পিচরাস্তার দু’পাশে পাটখড়ি শুকানোর দৃশ্য দেখা মিলে।পাটখড়ির চাহিদা এখন আর শুধু গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। মেহেরপুর শহরেও ফেরি করে পাটখড়ি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এরফলে কৃষকের উৎপাদিত পাটখড়ি সরাসরি গ্রামীণ বাজার ছাড়িয়ে শহরের ভোক্তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম গত পাঁচ বছর ধরে পাটখড়ির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, "আগে পাটখড়ির ব্যবসা এতটা ছিল না। এখন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে।""কৃষকের কাছ থেকে মানভেদে এক বিঘা জমির পাটখড়ি প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে কিনি। পরে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করি। ছোট ছোট আটি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা করা যায়।"তার মতে, পাটখড়ির ব্যবসা ছোট হলেও এর সঙ্গে কৃষক, সংগ্রহকারী ও বিক্রেতা- একাধিক মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।কৃষকের ব্যবহারের বাইরে পাটখড়ির আরও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে পাটখড়ি থেকে পার্টিকেল বোর্ড ও ফাইবারবোর্ডের মতো পণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। কাগজ তৈরিতেও এর ব্যবহার সম্ভব। এছাড়া হস্তশিল্প ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে পাটখড়িকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পাটখড়ি শুধু কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস নয়, গ্রামীণ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে পাটখড়ির বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার নতুন সুযোগ পাবেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সনজীব মৃধা বাসস’কে জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ তুলে নিতে পারছেন। পাটখড়ির চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে পাটখড়িকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার ‘টাইগার গার্ডেন হোটেল’-এর ৫০২ নম্বর কক্ষের এসি বিস্ফোরণের ফলে আগুনের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে কক্ষটি এবং এর অভ্যন্তরের সমস্ত মালামাল পুড়ে যায়। আজ নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থিত হোটেলের পঞ্চম তলায় ৫০২ নম্বর কক্ষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে, এই ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর নেই। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে দায়িত্ব পালনকারী মৃদুল বাসস’কে জানান, শনিবার হোটেলটির পঞ্চম তলায় ৫০২ নম্বর কক্ষের এসি বিস্ফোরণ ঘটে এবং এর ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই কক্ষে দুইজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তারা দ্রুত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে তারা নিরাপদ থাকলেও আগুনের কারণে কক্ষের সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের খুলনা বিভাগীয় উপ পরিচালক মাসুদ সরদার বাসস’কে জানান, খবর পেয়ে সকাল ৯টা ৯ মিনিটে আমরা গাড়ি নিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব হয়। আগুনের ফলে কক্ষটির সমস্ত মালামাল পুড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ