শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৮ পি.এম
এক সময় পাটখড়ি ছিল পাট চাষের পর পড়ে থাকা একটি অবহেলিত উপজাত। গ্রামীণ মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পর এর অর্থনৈতিক মূল্য ছিল খুবই কম। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাটখড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজার তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মেহেরপুরের কৃষকদের জন্য পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্য হয়ে উঠেছে।কৃষকদের পাটের বাজার দর নিয়ে প্রত্যাশা সবসময় পূরণ না হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে তারা উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ তুলে আনতে সক্ষম হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে কৃষকরা পাটের চেয়ে পাটখড়ি বিক্রি করেই বেশি অর্থ উপার্জন করছেন।এর ফলে, গত কয়েক বছরে পাট চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকলেও পাটখড়ির বাড়তি চাহিদা কৃষকদের নতুন করে পাট আবাদে উৎসাহিত করছে।মেহেরপুরে এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে কৃষকের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। গড়ে ওই জমিতে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বিঘা জমির পাট বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, একই জমির পাটখড়ি মানভেদে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে পাট বিক্রি থেকে সীমিত লাভ হলেও পাটখড়ির অর্থমূল্য কৃষকের মোট আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।সদর উপজেলার পাটচাষি মাহাতাব হোসেন বাসস’কে বলেন, "এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে প্রায় ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট বিক্রি করে খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না। কিন্তু পাটখড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায়। এতে পাট চাষের খরচ অনেকটাই উঠে আসে।"পাটখড়ির সবচেয়ে পুরোনো ব্যবহার জ্বালানি হিসেবে। গ্রামীণ জনপদে শুকনো পাটখড়ি মাটির চুলায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি আগে মূলত অন্যান্য জ্বালানির সহযোগী ছিল। এখনো গ্রামের অনেক পরিবার শুকনো পাটখড়ি রান্নার কাজে ব্যবহার করে। তবে এর ব্যবহার এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাড়ির বেড়া, গোয়াল ঘর কিংবা অস্থায়ী ঘের তৈরিতে পাটখড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকরা জমির চারপাশে বেড়া দেয়ার কাজেও এটি ব্যবহার করেন। সবজি বা অন্যান্য ফসলের জমি পশুর হাত থেকে রক্ষা করতে অস্থায়ী বেড়া তৈরিতেও পাটখড়ি কাজে লাগে।সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বাসস’কে বলেন, "পাটখড়ি দিয়ে বাড়ির বেড়া দেয়া যায়। জমির চারপাশেও বেড়া দেয়া হয়। শুকিয়ে রাখলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তাই এখন পাটখড়ি আর ফেলে রাখার জিনিস নয়।"পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করাও সহজ। কৃষকরা মাঠ থেকে পাটখড়ি সংগ্রহের পর রাস্তার পাশে, মাঠে কিংবা বাড়ির উঠানে রোদে শুকিয়ে নেন। ভালোভাবে শুকানোর পর ছোট ছোট আটি করে তা সংরক্ষণ করা হয়। এতে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকলে বিক্রি করার সুযোগও থাকে। গতকাল শুক্রবার কালাচাঁদপুর গ্রামের পিচরাস্তার দু’পাশে পাটখড়ি শুকানোর দৃশ্য দেখা মিলে।পাটখড়ির চাহিদা এখন আর শুধু গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। মেহেরপুর শহরেও ফেরি করে পাটখড়ি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এরফলে কৃষকের উৎপাদিত পাটখড়ি সরাসরি গ্রামীণ বাজার ছাড়িয়ে শহরের ভোক্তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম গত পাঁচ বছর ধরে পাটখড়ির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, "আগে পাটখড়ির ব্যবসা এতটা ছিল না। এখন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে।""কৃষকের কাছ থেকে মানভেদে এক বিঘা জমির পাটখড়ি প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে কিনি। পরে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করি। ছোট ছোট আটি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা করা যায়।"তার মতে, পাটখড়ির ব্যবসা ছোট হলেও এর সঙ্গে কৃষক, সংগ্রহকারী ও বিক্রেতা- একাধিক মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।কৃষকের ব্যবহারের বাইরে পাটখড়ির আরও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে পাটখড়ি থেকে পার্টিকেল বোর্ড ও ফাইবারবোর্ডের মতো পণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। কাগজ তৈরিতেও এর ব্যবহার সম্ভব। এছাড়া হস্তশিল্প ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে পাটখড়িকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পাটখড়ি শুধু কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস নয়, গ্রামীণ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে পাটখড়ির বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার নতুন সুযোগ পাবেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সনজীব মৃধা বাসস’কে জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ তুলে নিতে পারছেন। পাটখড়ির চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে পাটখড়িকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার ‘টাইগার গার্ডেন হোটেল’-এর ৫০২ নম্বর কক্ষের এসি বিস্ফোরণের ফলে আগুনের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে কক্ষটি এবং এর অভ্যন্তরের সমস্ত মালামাল পুড়ে যায়। আজ নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থিত হোটেলের পঞ্চম তলায় ৫০২ নম্বর কক্ষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে, এই ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর নেই। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে দায়িত্ব পালনকারী মৃদুল বাসস’কে জানান, শনিবার হোটেলটির পঞ্চম তলায় ৫০২ নম্বর কক্ষের এসি বিস্ফোরণ ঘটে এবং এর ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই কক্ষে দুইজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তারা দ্রুত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে তারা নিরাপদ থাকলেও আগুনের কারণে কক্ষের সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের খুলনা বিভাগীয় উপ পরিচালক মাসুদ সরদার বাসস’কে জানান, খবর পেয়ে সকাল ৯টা ৯ মিনিটে আমরা গাড়ি নিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব হয়। আগুনের ফলে কক্ষটির সমস্ত মালামাল পুড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬–২৭ মৌসুম শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই লা লিগায় তিনটি ম্যাচ খেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। সামনে রয়েছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগও। নতুন মৌসুমের জন্য পাঁচজন অধিনায়ক নির্বাচন করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছে ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল।হুয়ান গাম্পার ট্রফির আগে, বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ব্যক্তিগতভাবে রাফিনহা, পেদ্রি ও এরিক গার্সিয়াকে অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তখন দলের ভোটাভুটির প্রক্রিয়া এখনও বাকি ছিল। পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়ায় আরও দুইজনকে যুক্ত করে অধিনায়কের তালিকা পাঁচজনের মধ্যে দাঁড়ায়।স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্লিক রাফিনহা ও পেদ্রিকে স্থায়ীভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। বার্সেলোনা কোচ রাফিনহাকে নিজের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করেন।মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দল ও ড্রেসিংরুমে নেতৃত্বের ভূমিকা বিবেচনায় রাফিনহাকে অধিনায়ক করা যৌক্তিক মনে করা হচ্ছে। হুয়ান গাম্পার ট্রফির ম্যাচেও তিনি গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন।এরপর ভোটাভুটির মাধ্যমে এরিক গার্সিয়া, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও লামিনে ইয়ামালকে অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার জন্য এরিক গার্সিয়া বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। গত দুই মৌসুমে ফ্লিকের আস্থায় তার নেতৃত্বের গুণ আরও বিকশিত হয়েছে। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই তাঁকে অধিনায়ক পদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করেন।ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের নির্বাচনও ছিল অনেকটা প্রত্যাশিত। এর আগে তিনি বার্সেলোনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কাছেও তাঁর রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা। আন্দ্রে টের স্টেগানের বিদায়ের পর ডি ইয়ং এখন দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের অন্তর্ভুক্তি দেখা যাচ্ছে। বয়সে তরুণ হলেও মাঠে বার্সেলোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। অধিনায়কের তালিকায় তার অন্তর্ভুক্তি দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকটিও স্পষ্ট করছে।রবিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে বার্সেলোনা। ম্যাচটির আগে অধিনায়কদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে পারেন ফ্লিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শনিবার থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সকাল থেকেই বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গত ৩০ আগস্ট থেকে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ ছিল। এর ফলে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন শ্রমিকসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মচাঞ্চল্যে স্থবিরতা দেখা দেয়।ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে হিলির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়।
এর ফলে আজ থেকে আবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল মন্তব্য করেছেন যে বলিউডে কাস্টিং কাউচের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজে এ ধরনের কোনো অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হননি।
শ্রেয়া বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সময়টা তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল। সম্প্রতি হটারফ্লাই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাস্টিং কাউচ এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করার কারণে তার বাবা-মা সবসময় তার সঙ্গে থাকতেন। ফলে কেউ তার সঙ্গে অস্বস্তিকর আচরণ করার সাহস পেতেন না।
শ্রেয়া বলেন, ‘এখন সময়টা কিছুটা ভালো। সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। আমি খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছিলাম। তাই আমার বাবা-মা সবসময় আমার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন।
ফলে কেউ কিছু বলতে চাইলেও সাহস পেত না।’ শ্রেয়া ঘোষালের ক্যারিয়ার শুরু হয় রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-এর মাধ্যমে। এরপর সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় গান গেয়ে তিনি বলিউডে অভিষেক করেন। সিনেমাটিতে তার কণ্ঠে ‘বৈরি পিয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটিতে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান।
সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নারী-পুরুষের পারিশ্রম্যের ব্যবধান নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র লিঙ্গের ভিত্তিতে পারিশ্রম্য নির্ধারিত হয়—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। শ্রেয়া বলেন, ‘এটা লিঙ্গভিত্তিক বিষয় নয়। ছেলেরাও এর মুখোমুখি হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি বিনা পারিশ্রমিকেও অনেক গান গেয়েছি। এ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অরিজিৎ সিং এত টাকা পারিশ্রমিক পান—এমন কথা বলা হয়, কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির সব ভালো গায়ক-গায়িকাই অনেক কাজ বিনা পারিশ্রমিকে করেন। আবার কোনো কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ পারিশ্রম্য দাবি করার কারণ থাকলে তারা বড় অঙ্কের পারিশ্রমিকও নেন।’
ব্যক্তিজীবনে, শ্রেয়া ঘোষাল ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শৈশবের বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে করেন। মুম্বাইয়ে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০২১ সালে তাদের সংসারে প্রথম সন্তান আসে। ছেলে দেবযানকে নিয়ে বর্তমানে তাদের পরিবার।
এদিকে, সম্প্রতি পরিবারের সদস্য শর্মিষ্ঠা ঘোষাল ও বিশ্বজিৎ ঘোষালের সঙ্গে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজ ওয়েস্টে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন শ্রেয়া। সম্পত্তির নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টটির মূল্য ২০ কোটি ৮৮ লাখ রুপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ