শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৬ পি.এম
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শনিবার থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সকাল থেকেই বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গত ৩০ আগস্ট থেকে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ ছিল। এর ফলে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন শ্রমিকসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মচাঞ্চল্যে স্থবিরতা দেখা দেয়।ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে হিলির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়।
এর ফলে আজ থেকে আবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল মন্তব্য করেছেন যে বলিউডে কাস্টিং কাউচের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজে এ ধরনের কোনো অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হননি।
শ্রেয়া বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সময়টা তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল। সম্প্রতি হটারফ্লাই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাস্টিং কাউচ এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করার কারণে তার বাবা-মা সবসময় তার সঙ্গে থাকতেন। ফলে কেউ তার সঙ্গে অস্বস্তিকর আচরণ করার সাহস পেতেন না।
শ্রেয়া বলেন, ‘এখন সময়টা কিছুটা ভালো। সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। আমি খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছিলাম। তাই আমার বাবা-মা সবসময় আমার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন।
ফলে কেউ কিছু বলতে চাইলেও সাহস পেত না।’ শ্রেয়া ঘোষালের ক্যারিয়ার শুরু হয় রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-এর মাধ্যমে। এরপর সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় গান গেয়ে তিনি বলিউডে অভিষেক করেন। সিনেমাটিতে তার কণ্ঠে ‘বৈরি পিয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটিতে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান।
সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নারী-পুরুষের পারিশ্রম্যের ব্যবধান নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র লিঙ্গের ভিত্তিতে পারিশ্রম্য নির্ধারিত হয়—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। শ্রেয়া বলেন, ‘এটা লিঙ্গভিত্তিক বিষয় নয়। ছেলেরাও এর মুখোমুখি হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি বিনা পারিশ্রমিকেও অনেক গান গেয়েছি। এ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অরিজিৎ সিং এত টাকা পারিশ্রমিক পান—এমন কথা বলা হয়, কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির সব ভালো গায়ক-গায়িকাই অনেক কাজ বিনা পারিশ্রমিকে করেন। আবার কোনো কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ পারিশ্রম্য দাবি করার কারণ থাকলে তারা বড় অঙ্কের পারিশ্রমিকও নেন।’
ব্যক্তিজীবনে, শ্রেয়া ঘোষাল ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শৈশবের বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে করেন। মুম্বাইয়ে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০২১ সালে তাদের সংসারে প্রথম সন্তান আসে। ছেলে দেবযানকে নিয়ে বর্তমানে তাদের পরিবার।
এদিকে, সম্প্রতি পরিবারের সদস্য শর্মিষ্ঠা ঘোষাল ও বিশ্বজিৎ ঘোষালের সঙ্গে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজ ওয়েস্টে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন শ্রেয়া। সম্পত্তির নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টটির মূল্য ২০ কোটি ৮৮ লাখ রুপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নিউ ফারাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে হাওড়া ও কলকাতাগামী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার, রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করেছে।
ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে, কবে এই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই এলাকায় বারবার ধস নামায় মাটি আলগা হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বালির বস্তা ও পাথরের টুকরো ব্যবহার করা হচ্ছে বলেবলা হয়েছে।
নিউ ফারাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জোরকদমে কাজ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিকেলের মধ্যে ট্রেন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন রেলকর্মীরা।
ধসের কারণে অধিকাংশ ট্রেন নিউ ফারাক্কার কাছ থেকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফরাক্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ চলছে।
ঘুরপথে চলা ট্রেনগুলো ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এভাবে প্রায় ১৬০টি ট্রেন চলাচল করেছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হতে পারে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার দক্ষিণমুখী পদাতিক, কাঞ্চনকন্যা, দার্জিলিং মেলের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলের তালিকায় আছে গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, বামনহাট-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, জলপাইগুড়ি রোড-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, যোগবনী-কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তাতোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি স্পেশ্যাল ট্রেন, সহর্ষ-শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।
বাতিল করা হয়েছে মালদহ-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, মালদহ-সাহিবগঞ্জ মেমু, সাহিবগঞ্জ-আজিমগঞ্জ মেমু, ভাগলপুর-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, সাহিবগঞ্জ-মালদহ মেমু, আজিমগঞ্জ-সাহিবগঞ্জ মেমু, আজিমগঞ্জ-বরহারওয়া প্যাসেঞ্জার, আজিমগঞ্জ-ভাগলপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
ফরাক্কায় মূলত রেললাইনের ভিত শক্ত করার কাজ চলছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বারবার ধস নামছে। বালির বস্তা ও পাথরের টুকরো দিয়ে মাটি শক্ত করার চেষ্টা করছেন রেলের প্রকৌশলীরা। তবে, এ কাজ শেষ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বৃষ্টি না হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলে মেরামতের কাজ ব্যাহত হতে পারে।
ধসের স্থানের পাশেই একটি জলাশয় থাকায় সমস্যা আরো বেড়েছে। জলাশয় থেকে পানি চুঁইয়ে মাটির নিচে ঢুকে পড়ায় মাটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রেললাইনের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিও একদিকে হেলে পড়েছে।
মেরামতের কাজ শেষ হলে প্রথমে ইঞ্জিন চালিয়ে লাইনে পরীক্ষা করা হবে। এরপর দুই কামরার একটি পরিদর্শন ভ্যান চালানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক ঘণ্টা পর এলবিএইচ কামরার ট্রেন চালানো হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
দেশটির পূর্ব রেল শনিবার সকালে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনে সিগন্যালিং ব্যবস্থা মেরামতের কাজ চলছে। নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, মেরামতের কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে কি না নিশ্চিত করেই ওই লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলন আমার শহর চট্টগ্রাম’ ক্যাম্পেইনের মেগা ইভেন্টটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার, জীবনযাপন এবং মানুষের আবেগ ও স্মৃতির উদযাপন হিসেবে ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বন্দরনগরীর পরিচিত ও অচেনা নানা গল্প ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার এবং মানুষের সঙ্গে শহরের একটি বিশেষ আবেগের সম্পর্ক। দেশের বিভিন্ন শহরের এসব গল্পকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সিলন টি ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন শুরু করে। এই যাত্রার প্রথম শহর হিসেবে চট্টগ্রামকে নির্বাচিত করা হয়।ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের জনগণকে এর সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সিলন টি উদ্যোগ গ্রহণ করে।চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং বাজারে আনা হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শহরকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন পরিচালিত হয়। ‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের প্রিয় শহর নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর মধ্যে থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত সাপ্তাহিক বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের মেগা ইভেন্টে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্টে পুরো আয়োজনজুড়ে চট্টগ্রামকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ ছিল। পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, শহরের সংস্কৃতি, সংগীত, জীবনযাপন এবং বৈচিত্র্যময় খাবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।চট্টগ্রামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকে বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়। মেজবান, বেলা বিস্কুট, চায়ের আড্ডা এবং স্থানীয় স্বাদের নানা উপাদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ ফুটে ওঠে।এছাড়া, চট্টগ্রামের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।৫০ এর অধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অংশগ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে “সিলন আমার শহর-চট্টগ্রাম” মেগা ইভেন্ট। সাবিলা নূর, সামিরা মাহি, এস.পি. ক্রিয়েশন, রেজভি আহমেদ, বেংগলি বইন, সম্পদ, জিসান এবং আরও অনেক ক্রিয়েটর নিজেদের কনটেন্ট ও উপস্থিতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন গল্প তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার জন্য ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।চট্টগ্রাম ছিল ‘সিলন আমার শহর’-এর প্রথম গন্তব্য। মেগা ইভেন্টের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অধ্যায়ের উদযাপন সম্পন্ন হলেও ‘আমার শহর’-এর যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের রয়েছে একেকটি নিজস্ব গল্প। চট্টগ্রাম তার গল্প বলেছে। এখন ‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য কোন শহর হবে, সেই অপেক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উগান্ডার রাজা ওয়ো নাইম্বারের মরদেহ শুক্রবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ক্যান্সারের কারণে গত ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
, রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের রুয়েনজোরি পর্বতমালার নিকটে অবস্থিত তোরো রাজ্যের রাজা ছিলেন। তিনি ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।
এভাবে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।
মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। উগান্ডা একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত হয়। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে থাকে।
তবে ঔপনিবেশিক শাসনের পূর্বে দেশটিতে বিদ্যমান বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো টিকে রয়েছে। যদিও এসব রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই, তবুও তাদের সংস্কৃতি ও সমাজে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শৈশবে রাজা ওয়ো নাইম্বার সিংহাসনে বসার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র তিন বছরের একটি শিশু রাজকীয় পোশাক ও মুকুট পরে সিংহাসনে বসে খেলনা নিয়ে খেলছে। এত অল্প বয়সে রাজপরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে তিনি উগান্ডার মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
বিশেষ একটি বিমানে করে তার মরদেহ উগান্ডার এনতেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মরদেহ গ্রহণ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ওয়ো নাইম্বারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হবে।
রাজা ওয়ো নাইম্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে তোরো রাজ্যে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার আইন প্রণেতা জেনিফার মুজুঙ্গু বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না যে মহামান্য আর আমাদের মাঝে নেই। মনে হচ্ছে, আমরা এখনো স্বপ্নের মধ্যে আছি। আমি চাই, এটি যেন সত্যিই একটি স্বপ্ন হয়।’
এনতেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি দেশ ও তোরো রাজ্যের পতাকায় মোড়ানো রাজার কফিনের কাছে যান। তিনি কফিনের ওপর একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান। পরে কফিনটি একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে তোরো রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় শোক পালন করা হবে।
রাজপরিবারের সদস্য ডেভিস মুগেনি বিমানবন্দরে রাজার মরদেহ গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি বেদনাদায়ক মুহূর্ত। এমন একজন মানুষ, যিনি হাসিমুখে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন এবং যার সামনে তখনও পুরো জীবন পড়ে ছিল।’
রাজা ওয়ো নাইম্বা এইচআইভি ও এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘের একজন দূত হিসেবেও কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতিসংঘও শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমিরে আকিকি গত সপ্তাহে জানান, অবিবাহিত রাজা ওয়ো নাইম্বা একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন। ফলে তোরো রাজ্যের রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ