প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নিউ ফারাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে হাওড়া ও কলকাতাগামী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার, রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করেছে।
ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে, কবে এই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই এলাকায় বারবার ধস নামায় মাটি আলগা হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বালির বস্তা ও পাথরের টুকরো ব্যবহার করা হচ্ছে বলেবলা হয়েছে।
নিউ ফারাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জোরকদমে কাজ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিকেলের মধ্যে ট্রেন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন রেলকর্মীরা।
ধসের কারণে অধিকাংশ ট্রেন নিউ ফারাক্কার কাছ থেকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফরাক্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ চলছে।
ঘুরপথে চলা ট্রেনগুলো ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এভাবে প্রায় ১৬০টি ট্রেন চলাচল করেছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হতে পারে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার দক্ষিণমুখী পদাতিক, কাঞ্চনকন্যা, দার্জিলিং মেলের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলের তালিকায় আছে গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, বামনহাট-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, জলপাইগুড়ি রোড-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, যোগবনী-কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তাতোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি স্পেশ্যাল ট্রেন, সহর্ষ-শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।
বাতিল করা হয়েছে মালদহ-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, মালদহ-সাহিবগঞ্জ মেমু, সাহিবগঞ্জ-আজিমগঞ্জ মেমু, ভাগলপুর-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, সাহিবগঞ্জ-মালদহ মেমু, আজিমগঞ্জ-সাহিবগঞ্জ মেমু, আজিমগঞ্জ-বরহারওয়া প্যাসেঞ্জার, আজিমগঞ্জ-ভাগলপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
ফরাক্কায় মূলত রেললাইনের ভিত শক্ত করার কাজ চলছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বারবার ধস নামছে। বালির বস্তা ও পাথরের টুকরো দিয়ে মাটি শক্ত করার চেষ্টা করছেন রেলের প্রকৌশলীরা। তবে, এ কাজ শেষ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বৃষ্টি না হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলে মেরামতের কাজ ব্যাহত হতে পারে।
ধসের স্থানের পাশেই একটি জলাশয় থাকায় সমস্যা আরো বেড়েছে। জলাশয় থেকে পানি চুঁইয়ে মাটির নিচে ঢুকে পড়ায় মাটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রেললাইনের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিও একদিকে হেলে পড়েছে।
মেরামতের কাজ শেষ হলে প্রথমে ইঞ্জিন চালিয়ে লাইনে পরীক্ষা করা হবে। এরপর দুই কামরার একটি পরিদর্শন ভ্যান চালানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক ঘণ্টা পর এলবিএইচ কামরার ট্রেন চালানো হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
দেশটির পূর্ব রেল শনিবার সকালে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনে সিগন্যালিং ব্যবস্থা মেরামতের কাজ চলছে। নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, মেরামতের কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে কি না নিশ্চিত করেই ওই লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন