ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গৃহবধূর থানায় অভিযোগ, পোষা বিড়াল উদ্ধার করল পুলিশ


গৃহবধূর থানায় অভিযোগ, পোষা বিড়াল উদ্ধার করল পুলিশ

গৃহবধূ খুশি খাতুন (৪১) তার হারিয়ে যাওয়া পোষা পার্সিয়ান বিড়ালটির জন্য পোস্টার তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ ও খোঁজাখুঁজি করেও বিড়ালটির সন্ধান না পাওয়ার পর তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হারানো সেই প্রিয় পোষা বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সেটি খুশি খাতুনের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

গৃহবধূ খুশি খাতুন পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর কাবলী মওলা রোডের রেজাউল করিমের স্ত্রী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে খুশি খাতুনের পোষা বিড়ালটি নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে বিড়ালটি আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বিড়ালটির সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির পোস্টার টাঙানো হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর ওমা খাতুন নামে এক নারী একটি মোবাইল নম্বর থেকে খুশির মোবাইলে ফোন করেন। তিনি জানান, হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটি তার কাছে রয়েছে এবং বিড়ালটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসাও করিয়েছেন।

খুশি বিড়ালটির অবস্থান ও ঠিকানা জানতে চাইলে ওই নারী সঠিক ঠিকানা না দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন। পরে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ও খোঁজাখুঁজি করেও বিড়ালটির সন্ধান না পাওয়ায় খুশি খাতুন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বিড়ালটি ফিরে পেয়ে খুশি খাতুন বলেন, "অনেক দিন ধরে বিড়ালটিকে খুঁজেছি। বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর যখন জানতে পারলাম এটি একজনের কাছে আছে, তখন আশা জেগেছিল। পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি খুব চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমার বিড়ালটি ফিরে পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।"

খুশি খাতুনের মেয়ে সাদিয়া করিম জানান, এক বছর আগে এক আত্মীয় তাদের পার্সিয়ান বিড়ালের দুটি বাচ্চা উপহার দিয়েছিলেন। তখন থেকে তারা বিড়ালগুলোকে লালন-পালন করে আসছেন। বিড়াল ছানা দুটি তাদের খুব প্রিয় ও আপন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিড়াল গত ৩ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যায়। হারানোর পর তারা খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। অবশেষে বিড়ালটি খুঁজে পেয়ে তারা খুব আনন্দিত।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কাজ শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে বিড়ালটি শহরের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে রেমিট্যান্সে ৫৫ শতাংশ উল্লম্ফন, মালয়েশিয়ায় ২৩ শতাংশ কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


যুক্তরাজ্যে রেমিট্যান্সে ৫৫ শতাংশ উল্লম্ফন, মালয়েশিয়ায় ২৩ শতাংশ কমেছে

বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের উৎসদেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। সৌদি আরব এখনও বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হিসেবে অবস্থান করছে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে এক বছরের মধ্যে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ইতালি থেকেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে মোট ৯৩৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৯৯৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ফলে এক প্রান্তিকের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

শীর্ষে যথারীতি সৌদি আরব

প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান এখনও শীর্ষে রয়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছে ১৬৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। মোট রেমিট্যান্সের ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে।

তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স সামান্য কমেছে। জানুয়ারি-মার্চে দেশটি থেকে এসেছিল ১৬৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে প্রান্তিকভিত্তিক কমেছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। তবে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশের শ্রমবাজার হিসাবেও সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিদেশে যাওয়া মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ২৮৩ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ৭৯ হাজার ৯১৬ জনই সৌদি আরবে গেছেন। অর্থাৎ মোট বিদেশগামী কর্মীর প্রায় অর্ধেকের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব।

যুক্তরাজ্যে বড় উল্লম্ফন

রেমিট্যান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস যুক্তরাজ্য। এপ্রিল-জুনে দেশটি থেকে এসেছে ১৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মোট রেমিট্যান্সের ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল-জুনে দেশটি থেকে এসেছিল ১০০ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এক বছর পর তা বেড়ে ১৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শুধু বার্ষিক হিসাবেই নয়, আগের প্রান্তিকের তুলনাতেও যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় এপ্রিল-জুনে প্রবাহ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল উৎস হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য।

আমিরাত থেকে বেড়েছে ১২ শতাংশ

তৃতীয় বৃহত্তম উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাত। এপ্রিল-জুনে দেশটি থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। মোট রেমিট্যান্সের ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় দেশটি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় প্রবাহ বেড়েছে ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ একদিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, অন্যদিকে সর্বশেষ প্রান্তিকেও দেশটি থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাড়লেও প্রান্তিকে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এপ্রিল-জুনে বাংলাদেশে এসেছে ৮১ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। মোট রেমিট্যান্সের ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুনে প্রবাহ কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বার্ষিক হিসাবে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি থাকলেও সর্বশেষ প্রান্তিকে আগের তিন মাসের তুলনায় কম অর্থ এসেছে।

মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৩ শতাংশ পতন

রেমিট্যান্সের বড় উৎসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে মালয়েশিয়ায়। এপ্রিল-জুনে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৭০ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল ৯১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। শুধু বার্ষিক হিসাবেই নয়, আগের প্রান্তিকের তুলনাতেও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্সের বড় পতন হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চে দেশটি থেকে এসেছিল ৯৫ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সেখান থেকে এপ্রিল-জুনে কমেছে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকেও আসা মোট রেমিট্যান্সে।

এশিয়া-প্যাসিফিকে রেমিট্যান্স কমেছে

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এপ্রিল-জুনে বাংলাদেশে এসেছে ১২০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। মোট রেমিট্যান্সের ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এসেছে এ অঞ্চল থেকে। আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় এ অঞ্চল থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর আগের জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় কমেছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এই অঞ্চলের মধ্যে মালয়েশিয়া সবচেয়ে বড় উৎস হলেও দেশটি থেকে রেমিট্যান্সে বড় পতন হয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর থেকে প্রবাহ বেড়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

সিঙ্গাপুর থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ৪১ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় সিঙ্গাপুর থেকে প্রবাহ সামান্য কমেছে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ইতালি থেকেও রেমিট্যান্স বেড়েছে

ইউরোপের দেশ ইতালি থেকেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। এপ্রিল-জুনে ইতালি থেকে এসেছে ৫১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় দেশটি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায়ও বেড়েছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানি থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় জার্মানি থেকে প্রবাহ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ওমান থেকে বছরে বাড়লেও প্রান্তিকে কমেছে। ওমান থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাহ বেড়েছে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সর্বশেষ প্রান্তিকে দেশটি থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমেছে।

কুয়েত ও কাতারেও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি

কুয়েত থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ৪৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। কাতার থেকে এসেছে ৪০ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

বাহরাইন থেকে কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্সের বার্ষিক প্রবাহে বড় পতন হয়েছে। এপ্রিল-জুনে দেশটি থেকে এসেছে ১৭ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় সামান্য বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

অস্ট্রেলিয়ায় বড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি

অস্ট্রেলিয়া থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ৭ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাহ বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় অস্ট্রেলিয়া থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

জাপান থেকে দুই দিকেই পতন

জাপান থেকে এপ্রিল-জুনে এসেছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় কমেছে ২১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ জাপানের ক্ষেত্রে বার্ষিক ও প্রান্তিক—দুই হিসাবেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমেছে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এ অঞ্চল থেকে এসেছে ৪৩৬ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা মোটের ৪৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে এসেছে ২১১ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসেছে ১২০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা মোটের ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একক দেশ হিসেবে এসেছে ৮১ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলার।

পুরো অর্থবছরে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার

২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৫৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এতে ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পুরো অর্থবছরে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২৪ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। মোট রেমিট্যান্সে এ অঞ্চলের অংশ ৪৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫৮৪ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৪ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার, ওমান থেকে ২০৪ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার, কুয়েত থেকে ১৭৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার এবং কাতার থেকে ১৫৫ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে পুরো অর্থবছরে এসেছে ৭২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকেই এসেছে ৫০৭ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং ইতালি থেকে ২০৫ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পুরো অর্থবছরে এসেছে ৫২৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩৪০ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার এবং সিঙ্গাপুর থেকে ১৪৯ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩০১ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

রেমিট্যান্সের উৎসে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখনও দেশের রেমিট্যান্সের প্রধান ভিত্তি। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্সের বড় পতন এশিয়ার শ্রমবাজারনির্ভর আয়প্রবাহে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। একইভাবে বাহরাইন ও জাপান থেকেও বার্ষিক রেমিট্যান্স কমেছে।

অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও দেশভেদে এর গতি এক নয়। কিছু বাজার থেকে দ্রুত বাড়ছে প্রবাসী আয়, আবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার থেকে কমছে। ফলে মোট রেমিট্যান্সের পাশাপাশি কোন দেশ থেকে কী হারে অর্থ আসছে—সেটিও এখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যোগ্যতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন অনেকে: বরকত উল্যাহ বুলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


যোগ্যতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন অনেকে: বরকত উল্যাহ বুলু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্যাহ বুলু মন্তব্য করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েও অনেকে ভালোভাবে বাংলা লিখতে পারে না। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন।"

এই বক্তব্যগুলো বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী শহীদ আমানউল্যা পাবলিক স্কুল মাঠে ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

বরকত উল্যাহ বুলু খেলাধুলার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজের অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়াম করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে মাদক, ইয়াবা, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং থেকে সমাজকে মুক্ত রাখা যায়।

এছাড়া, ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত লেখাপড়ায় মনোযোগী করার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এবং রাত ৮টার পর ডিজিটাল মোবাইল ব্যবহার না করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান বিএনপির এই নেতা।

বরকত উল্যাহ আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা করায় উপমহাদেশে মেয়েদের শিক্ষার হারে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে স্ত্রীর হত্যার অভিযোগ, ৩ বছরের মেয়ের সামনে স্বামী পলাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


কক্সবাজারে স্ত্রীর হত্যার অভিযোগ, ৩ বছরের মেয়ের সামনে স্বামী পলাতক

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার, যা ঘটেছে তিন বছরের শিশুকন্যার সামনে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

বুধবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত নারী ওই হোটেলে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর পরিণতিতে স্বামী ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তাদের তিন বছরের শিশুকন্যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, এবং মায়ের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য কলহ কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। মাত্র তিন বছরের শিশুর সামনে মাকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বারাক ওবামা গোপনে ডেমোক্র্যাটদের এআই নীতিতে প্রভাব ফেলছেন: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


বারাক ওবামা গোপনে ডেমোক্র্যাটদের এআই নীতিতে প্রভাব ফেলছেন: সিএনএন

মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা বর্তমানে তীব্রভাবে চলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্দার আড়ালে ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি নির্ধারণে এবং এআই সংক্রান্ত বিতর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য এআই নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানাচ্ছেন ওবামা। তবে সিলিকন ভ্যালি এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে পার্টির অনেক শীর্ষ নেতা এখনও কিছুটা সতর্ক ও দ্বিধান্বিত অবস্থানে রয়েছেন।

সম্প্রতি কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে ওবামা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাইভেট টেক জায়ান্টদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, যেভাবে এভিয়েশন বা খাদ্য নিরাপত্তা কেবল বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, তেমনি এআই-এর নিরাপত্তাও কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐচ্ছিক সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই নীতি এবং ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ডেমোক্রেটিক পার্টিকে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাকরি হারানো, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সম্ভাব্য জাতীয় ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%