বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৩ পি.এম
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্যাহ বুলু মন্তব্য করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েও অনেকে ভালোভাবে বাংলা লিখতে পারে না। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন।"
এই বক্তব্যগুলো বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী শহীদ আমানউল্যা পাবলিক স্কুল মাঠে ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।
বরকত উল্যাহ বুলু খেলাধুলার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজের অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়াম করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে মাদক, ইয়াবা, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং থেকে সমাজকে মুক্ত রাখা যায়।
এছাড়া, ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত লেখাপড়ায় মনোযোগী করার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এবং রাত ৮টার পর ডিজিটাল মোবাইল ব্যবহার না করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান বিএনপির এই নেতা।
বরকত উল্যাহ আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা করায় উপমহাদেশে মেয়েদের শিক্ষার হারে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার, যা ঘটেছে তিন বছরের শিশুকন্যার সামনে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
বুধবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত নারী ওই হোটেলে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর পরিণতিতে স্বামী ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তাদের তিন বছরের শিশুকন্যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, এবং মায়ের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য কলহ কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। মাত্র তিন বছরের শিশুর সামনে মাকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা বর্তমানে তীব্রভাবে চলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্দার আড়ালে ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি নির্ধারণে এবং এআই সংক্রান্ত বিতর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য এআই নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানাচ্ছেন ওবামা। তবে সিলিকন ভ্যালি এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে পার্টির অনেক শীর্ষ নেতা এখনও কিছুটা সতর্ক ও দ্বিধান্বিত অবস্থানে রয়েছেন।
সম্প্রতি কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে ওবামা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাইভেট টেক জায়ান্টদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, যেভাবে এভিয়েশন বা খাদ্য নিরাপত্তা কেবল বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, তেমনি এআই-এর নিরাপত্তাও কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐচ্ছিক সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই নীতি এবং ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ডেমোক্রেটিক পার্টিকে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাকরি হারানো, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সম্ভাব্য জাতীয় ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসিআই পিএলসি-এর ওয়েলনেস এবং হাইজিন বিজনেসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) পদে নিযুক্ত হয়েছেন খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মদ।
প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন বহুজাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসিআই পিএলসি-এর হাইজিন প্রোডাক্ট বিজনেসের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর, খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মদ এসিআই পিএলসি-এর ওয়েলনেস এবং হাইজিন বিজনেসের পরিধি বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র তিনজন নিয়মিত শিক্ষক দিয়ে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে থাকায় নিয়মিত পাঠদানেও তার উপস্থিতি সীমিত। অনুমোদিত ১২টি শিক্ষক পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৯টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের দক্ষিণ শিবপুর মহল্লায় প্রায় দেড় একর জমির ওপর ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৫ শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করছে। ১৯৮৭ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ছিল ১১টি। পরে আইসিটি বিষয়ের আরও একটি শিক্ষক পদ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ দাঁড়ায় ১২টি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও শরীরচর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষকসহ নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। ইংরেজি বিষয়ের একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত নিয়মিত পাঠদানে শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও ধর্ম বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বাধ্য হয়ে চারজন খণ্ডকালীন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কর্মচারীর সংকটও রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অনুমোদিত চারটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন নৈশপ্রহরী। ২০১৫ সাল থেকে অফিস সহকারী এবং ২০২১ সাল থেকে দপ্তরি পদ শূন্য রয়েছে। নেই কোনো আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
বিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত ছয়তলা ভবনটিতে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। অন্যান্য ভবনগুলো বোর্ড পরীক্ষার সময় ব্যবহার করা হলেও বাকি সময় পরিত্যক্ত থাকে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ভবন ও এর আশপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শৌচাগারের অবস্থাও নাজুক বলে জানায় তারা। একসময় নারী শিক্ষায় সুনাম থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক না থাকায় ক্লাস নিয়মিত হয় না। বিজ্ঞানাগার থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবহারিক কার্যক্রম হচ্ছে না। ঘাটতি পূরণে তাদের বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত চন্দ্র মণ্ডলের ভাষ্য, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানে যোগদানের পরই শিক্ষক-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালককে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মহোদয়কেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’ সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহ করে অতিথি খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সামান্য সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, ‘বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়েছি। শিক্ষক-সংকট নিরসনে আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই শূন্য পদে শিক্ষক দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।’
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের দাবি, মাধ্যমিক নারী শিক্ষার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা ও নারী শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকার দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ