বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৮ পি.এম
ইবাদত কখনোই মানুষের প্রশংসা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা উচিত নয়; বরং এটি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের অন্তরের প্রকৃতি অত্যন্ত বিচিত্র—অনেক সময় দেখা যায়, আল্লাহর জন্য শুরু করা একটি আমলে ধীরে ধীরে মানুষের প্রশংসার আকাঙ্ক্ষা প্রবেশ করে। নামাজে কি মানুষ দেখছে, দান করার সময় অন্যরা জানল কি না, কোরআন তিলাওয়াত শুনে মানুষ কী বলবে, দ্বীনি কাজ দেখে কে প্রশংসা করবে—এসব চিন্তা যখন ইবাদতের উদ্দেশ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন সেখানে প্রবেশ করে রিয়া বা লোক-দেখানো।
বাহ্যিকভাবে আমলটি যতই সুন্দর হোক, আল্লাহর কাছে এর মূল্য নির্ভর করে অন্তরের নিয়তের উপর। সুতরাং একজন মুমিনের জন্য এটি অপরিহার্য যে, তিনি শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করবেন। কারণ লোক দেখানো ইবাদতের বিষয়ে কোরআনে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘আর যখন তারা নামাজের জন্য দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা মানুষকে দেখায় এবং আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)
অন্যদিকে সুরা আল-মাউনেও আল্লাহ বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোক দেখায়।’ (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৬)
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ শুধুমাত্র নামাজ না পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেননি; বরং এমন লোকদের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন, যারা নামাজ পড়ে কিন্তু মানুষের দেখানোর উদ্দেশ্যকে ইবাদতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়।
লোক-দেখানো দানও আমলকে নষ্ট করে দিতে পারে। শুধুমাত্র নামাজ নয়—দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি শিক্ষা, মানুষের সেবা—সব ধরনের নেক আমলে নিয়তের বিশুদ্ধতা অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দানকে নষ্ট করো না—সে ব্যক্তির মতো, যে লোক দেখানোর জন্য তার সম্পদ ব্যয় করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)
এরপর আল্লাহ এমন ব্যক্তির আমলের উদাহরণ দিয়েছেন, যে একটি মসৃণ পাথরের ওপর সামান্য মাটি ছিল; প্রবল বৃষ্টি এসে সেই মাটি ধুয়ে পাথরটিকে পরিষ্কার করে দেয়। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে আমল থাকলেও রিয়ার কারণে তার প্রতিদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রিয়াকে ভয় করতে বলেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তার লোক দেখানো প্রকাশ করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি মানুষের কাছে নিজের আমলের কথা প্রচার করে বেড়ায়, আল্লাহ তার বিষয়টি প্রকাশ করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ মানুষের সন্তুষ্টির জন্য যে আমল করা হয়, তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ায় মানুষ হয়তো প্রশংসা করবে, কিন্তু আখিরাতে সেই প্রশংসা কোনো উপকারে আসবে না।
আমল অনেক হলেও নিয়ত ভুল হলে পরিণতি ভয়াবহ। সহিহ মুসলিমের একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন, যাদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন প্রথমে ফয়সালা করা হবে—শহীদ, আলেম/কোরআন পাঠকারী এবং দানশীল ব্যক্তি। এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে নিহত হয়েছিল। সে বলবে, ‘হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি যুদ্ধ করেছি।’ কিন্তু আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি যুদ্ধ করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে সাহসী বলে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এক ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছিল, তা শিক্ষা দিয়েছিল এবং কোরআন পড়েছিল। কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন তাকে আলেম ও কোরআন পাঠকারী বলে। আরেক ব্যক্তি প্রচুর সম্পদ দান করেছিল, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন তাকে দানশীল বলে। তাদের প্রত্যেকের বাহ্যিক আমল বড় হলেও নিয়ত ছিল মানুষের প্রশংসা অর্জন করা। হাদিসে তাদের কঠিন পরিণতির কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯০৫)
লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায়
লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচতে হলে নিজের অন্তরকে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—‘আমি যদি এই আমলটি করি এবং কেউ তা না জানে, তবুও কি আমি তা করব?’ কিছু আমল গোপনে করার অভ্যাস করা যেতে পারে। যেমন—গোপনে সদকা করা, নির্জনে তাহাজ্জুদ পড়া, একান্তে দীর্ঘ সিজদা করা, কাউকে না জানিয়ে কারও উপকার করা। এতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের লোক দেখানো ইবাদত করা থেকে বিরত রাখুন এবং আমাদের সব নেক-আমল আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার একটি উন্নত ২৪০ মিমি ‘গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমে’র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
কেসিএনএ দাবি করেছে যে, পরীক্ষায় নতুন রকেটগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা প্রমাণিত হয়েছে। এই রকেটগুলিতে স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন অস্ত্রটি দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের রকেটের উন্নয়নের ফলে উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখানে দক্ষিণ সীমান্ত বলতে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তকে বোঝানো হয়েছে।
এই পরীক্ষার তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পাক জং-চন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রয়টার্সের সাথে যোগাযোগ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক এবং শক্তিশালী করে চলেছে, এবং দেশটি এসব অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে মোতায়েন করতে চায়।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন, ‘নতুন রকেটে নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ হলো, উত্তর কোরিয়া সিউল মহানগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মাত্র কয়েক মিটারের ব্যবধানে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।’
লিমের মতে, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী অঞ্চল সম্ভাব্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করাও হতে পারে।
জুন মাসে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেন। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উত্তর কোরিয়া তখন জানিয়েছিল, এসব অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা আর পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি আবারও নিশ্চিত করার পর পিয়ংইয়ং তার অবস্থানে আরো দৃঢ় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফারহান আলী ওয়াহিদ আসিয়ান কাপে স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন তাঁর। ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার হামজা চৌধুরীর সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাদেশকে জেতানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যদি অভিষেকের সুযোগ পান।
গতকাল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ফারহান তাঁর ইচ্ছার কথা জানান। হামজাকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ উইঙ্গার বলেন, “দক্ষিণ এশীয় ফুটবলারদের জন্য তিনি (হামজা) একজন রোল মডেল। আশা করি মাঠে তাঁর সঙ্গে একটা যোগসূত্র তৈরি করতে পারব এবং বাংলাদেশকে জেতাতে পারব।”
ফারহানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও তাঁর পুরো পরিবার বাঙালি। এই পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফারহান বলেন, “আপনি জানেন, আমার পুরো পরিবারই বাঙালি। বলতে গেলে আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছি—এতে তাঁরা খুব খুশি হয়েছেন। তাই আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতেও যেন তাঁদের গর্বিত করতে পারি।”
জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া ফারহান দলের অভিজ্ঞতাও ভিডিও বার্তায় শেয়ার করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম থেকে ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের দল বোরহাম উডে খেলা উইঙ্গার জানান, “এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতাটা খুবই ভালো। বাংলাদেশের হয়ে এটাই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। দলের সবাই আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। আমাকে আপন করে নিয়েছে, সাহায্য করেছে, সমর্থন করেছে। আমার মনে হচ্ছে, এখান থেকে আমরা আরো অনেক দূর এগোতে পারি। এই দলের অংশ হতে পেরে আমার মধ্যে অনেক গর্ব কাজ করছে। জাতীয় দলের হয়ে সত্যিই ভালো করতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা সত্যিই কিছু একটা করতে পারি। দল হিসেবে এখান থেকে আরো অনেক কিছু গড়ে তুলতে পারি।”
বাংলাদেশ আগামীকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু করবে। ডিভিশন ১-য়ের বাকি দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আলমগীর এবং মো. ফরহাদ।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ বর্তমানে রিয়াদের সুমোসি হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।
নিহতদের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানায় অবস্থিত। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চার প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার সময় আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জানা গেছে, ওই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের সবাই সিলেটের বাসিন্দা ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ