প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার একটি উন্নত ২৪০ মিমি ‘গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমে’র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
কেসিএনএ দাবি করেছে যে, পরীক্ষায় নতুন রকেটগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা প্রমাণিত হয়েছে। এই রকেটগুলিতে স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন অস্ত্রটি দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের রকেটের উন্নয়নের ফলে উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখানে দক্ষিণ সীমান্ত বলতে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তকে বোঝানো হয়েছে।
এই পরীক্ষার তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পাক জং-চন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রয়টার্সের সাথে যোগাযোগ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক এবং শক্তিশালী করে চলেছে, এবং দেশটি এসব অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে মোতায়েন করতে চায়।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন, ‘নতুন রকেটে নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ হলো, উত্তর কোরিয়া সিউল মহানগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মাত্র কয়েক মিটারের ব্যবধানে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।’
লিমের মতে, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী অঞ্চল সম্ভাব্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করাও হতে পারে।
জুন মাসে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেন। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উত্তর কোরিয়া তখন জানিয়েছিল, এসব অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা আর পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি আবারও নিশ্চিত করার পর পিয়ংইয়ং তার অবস্থানে আরো দৃঢ় হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন