বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৯ পি.এম
উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার একটি উন্নত ২৪০ মিমি ‘গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমে’র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
কেসিএনএ দাবি করেছে যে, পরীক্ষায় নতুন রকেটগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা প্রমাণিত হয়েছে। এই রকেটগুলিতে স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন অস্ত্রটি দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের রকেটের উন্নয়নের ফলে উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখানে দক্ষিণ সীমান্ত বলতে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তকে বোঝানো হয়েছে।
এই পরীক্ষার তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পাক জং-চন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রয়টার্সের সাথে যোগাযোগ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক এবং শক্তিশালী করে চলেছে, এবং দেশটি এসব অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে মোতায়েন করতে চায়।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন, ‘নতুন রকেটে নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ হলো, উত্তর কোরিয়া সিউল মহানগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মাত্র কয়েক মিটারের ব্যবধানে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।’
লিমের মতে, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী অঞ্চল সম্ভাব্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করাও হতে পারে।
জুন মাসে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেন। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উত্তর কোরিয়া তখন জানিয়েছিল, এসব অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা আর পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি আবারও নিশ্চিত করার পর পিয়ংইয়ং তার অবস্থানে আরো দৃঢ় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফারহান আলী ওয়াহিদ আসিয়ান কাপে স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন তাঁর। ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার হামজা চৌধুরীর সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাদেশকে জেতানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যদি অভিষেকের সুযোগ পান।
গতকাল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ফারহান তাঁর ইচ্ছার কথা জানান। হামজাকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ উইঙ্গার বলেন, “দক্ষিণ এশীয় ফুটবলারদের জন্য তিনি (হামজা) একজন রোল মডেল। আশা করি মাঠে তাঁর সঙ্গে একটা যোগসূত্র তৈরি করতে পারব এবং বাংলাদেশকে জেতাতে পারব।”
ফারহানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও তাঁর পুরো পরিবার বাঙালি। এই পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফারহান বলেন, “আপনি জানেন, আমার পুরো পরিবারই বাঙালি। বলতে গেলে আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছি—এতে তাঁরা খুব খুশি হয়েছেন। তাই আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতেও যেন তাঁদের গর্বিত করতে পারি।”
জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া ফারহান দলের অভিজ্ঞতাও ভিডিও বার্তায় শেয়ার করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম থেকে ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের দল বোরহাম উডে খেলা উইঙ্গার জানান, “এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতাটা খুবই ভালো। বাংলাদেশের হয়ে এটাই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। দলের সবাই আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। আমাকে আপন করে নিয়েছে, সাহায্য করেছে, সমর্থন করেছে। আমার মনে হচ্ছে, এখান থেকে আমরা আরো অনেক দূর এগোতে পারি। এই দলের অংশ হতে পেরে আমার মধ্যে অনেক গর্ব কাজ করছে। জাতীয় দলের হয়ে সত্যিই ভালো করতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা সত্যিই কিছু একটা করতে পারি। দল হিসেবে এখান থেকে আরো অনেক কিছু গড়ে তুলতে পারি।”
বাংলাদেশ আগামীকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু করবে। ডিভিশন ১-য়ের বাকি দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আলমগীর এবং মো. ফরহাদ।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ বর্তমানে রিয়াদের সুমোসি হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।
নিহতদের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানায় অবস্থিত। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চার প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার সময় আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জানা গেছে, ওই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের সবাই সিলেটের বাসিন্দা ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ নির্দেশনা দিয়েছেন যে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র্যাম্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।
বুধবার সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থায়ন এবং চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
এ সময় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থায়ন, নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেতু সচিব বৈঠকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র্যাম্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি চীনা প্রতিনিধিদলসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেন যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।
এছাড়া আবদুর রউফ প্রকল্পের অন্যান্য অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল ঢাকাবাসীর কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হলে নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়াতে হবে।" এই লক্ষ্যে তিনি প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, তারা অর্থায়ন কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এ প্রক্রিয়া বেগবান করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তারা আরও জানায়, বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আরএফআইডি-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। এ ব্যবস্থা দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানানো হয়।
সেতু সচিব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও পরিচালনাগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে একটি সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পিপিপি প্রকল্প। এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কাওলা) থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এবং ওঠানামার সংযোগকারী র্যাম্পসহ প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এই প্রকল্পটি রাজধানীর সড়কপথের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও এফডিইইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ