ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে উদ্যোগী আইসিসি


আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে উদ্যোগী আইসিসি

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে তালেবানদের শাসন চলছে। দেশের সরকার নারীদের চলাচলের উপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। বাইরের কাজকর্মে নিযুক্ত হওয়াও নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট থমকে গেছে। আফগান নারী ক্রিকেটারদের অনেকেই এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।

এখন আইসিসি আফগান নারী ক্রিকেটারদের খেলায় ফেরানোর জন্য জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য পরিচালিত ডেভেলপমেন্ট পাথওয়ে প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দ্বারা অনুমোদিত।

ইতিমধ্যে আইসিসি একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই দলের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আইসিসির বাছাইপর্বের (কোয়ালিফিকেশন) টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য তৈরি করা হবে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ ময়মনসিংহে শুরু

আইসিসি বোর্ড তাদের স্বাধীন পরিচালক ড. রোজ রিভাজ এবং আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সারা কিনকে স্পেশাল টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। তারা আগের সদস্যদের (বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের) সঙ্গে মিলিত হয়ে এই কর্মসূচির তদারকি করবেন।

এখন তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নারী ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নের মাঝে ভারসাম্য নিশ্চিত করা। আইসিসির পক্ষ থেকে ড. রিভাজ বলেছেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আইসিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। টাস্কফোর্সকে এমন একটি সুস্পষ্ট ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা কাঠামোবদ্ধ কোচিং, অর্থবহ প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্স উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের বিকাশে সহায়তা করবে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘এই কর্মসূচি ক্রিকেটের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আইসিসির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমি টাস্কফোর্সের সহকর্মী, সদস্য বোর্ড ও বাস্তবায়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করতে চাই, যাতে এটি উদ্দেশ্যপূর্ণ, সৎ ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়।’

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের একজন, নাহিদা সাপান বলছেন, ‘এই কর্মসূচি আমাদের কেবল ক্রিকেট চালিয়ে যেতে সাহায্য করেনি, বরং দল হিসেবে একত্রিত হয়ে খেলতে সুযোগ করে দিয়েছে। আইসিসি ও টাস্কফোর্স আমাদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে - এটা জেনে আমরা আশ্বস্ত। অন্য দেশের ক্রিকেটারদের মতো আমাদেরও সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে - এই স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে তপুর চোট, জামাল ভূঁইয়া দলের নতুন অধিনায়ক

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটার ফিরোজা আফগান জানান, ‘গত এক বছরে দল হিসেবে একত্রিত হওয়া এবং ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের সুযোগ আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মানসম্পন্ন কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ আমাদের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আমাদের সামনে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই পথচলায় প্রতিটি সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেল জোন্স এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই অসাধারণ নারীদের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তাদের ভবিষ্যতের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

এটি শক্তিশালী একটি বার্তা দেয় যে প্রতিভা ও দৃঢ়সংকল্প সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। এই ক্রিকেটাররা বিশ্বের নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাদের বিশেষ যাত্রাপথকে স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়ন ও অর্থবহ প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি একটি পথচলা দেখতে পারা সত্যিই আনন্দের।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘গত এক বছরে তারা যে অগ্রগতি করেছে, তা অসাধারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই দল কী অর্জন করে, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শুরু হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রিকেট কোচ, স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের সেবা পেয়ে যাবেন। এছাড়াও ধাপে ধাপে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডাভিত্তিক এই ক্রিকেটাররা স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন এবং সেখানে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

এছাড়াও গত ১২ মাসে ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের মতো ভবিষ্যতেও দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। এসব যৌথ প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজন করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি ও উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ১২ হাজার পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


বান্দরবানে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ১২ হাজার পরিবার

 

জেলা প্রশাসন বান্দরবানে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার সময়ে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। তবে মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৭টি ভূমিধস ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১১টি বড় ধরনের ঘটনা ছিল। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে।

পাহাড় ধস এবং গাছ উপড়ে পড়ার কারণে জেলা ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও চারটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সেতু সচল করা গেলেও বাকী তিনটির সংস্কারকাজ চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লামা পৌর এলাকা, বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও বর্তমানে ৬৭টিতে ২ হাজার ৫৮২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে, ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৪০০ টন চাল এবং ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা করে ৮০ হাজার ৫০০ দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৮ হাজার ৫৬০ ব্যাগ ত্রাণসামগ্রী, ৮৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

বৈরি আবহাওয়ার কারণে থানচিতে ১৬৭ জন, রুমায় ৩৭ জন এবং আমিয়াখুম এলাকায় চারজন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। পরে বিজিবির সহায়তায় তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়।

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুলশিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ, আঙুল বিচ্ছিন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


স্কুলশিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ, আঙুল বিচ্ছিন্ন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি স্কুলশিক্ষিকাকে ধারালো দা দিয়ে গুরুতরভাবে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে প্রিয়া বেগম (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হামলার ফলে শিক্ষিকার মাথায় একাধিক কোপ লাগে, শরীরের নানা স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। গত তিন মাস থেকে তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন এবং মাসে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। পরিবারের দাবি করেছে, সম্প্রতি টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়ার জন্য প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ হন। অন্যদিকে শিক্ষিকার স্বজনদের এক অংশের দাবি, অভিযুক্ত নারী কয়েকদিন আগে সিঁথির কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন এবং সেই টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সিঁথি ছাত্রীর পড়ানো শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় প্রিয়া বেগম দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেছেন, ‘প্রথম কোপটি মাথায় লাগার পর দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করে সিঁথি। কিন্তু দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল, তাই তিনি বের হতে পারেননি। তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। কোপানোর সময়ে প্রিয়া বলছিল, ‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান?’ পরে শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারিক সদস্যরা জানান, সিঁথির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার মাথায় ১০টি গভীর ক্ষত শনাক্ত করেছেন, যেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। হামলার পেছনে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ টিউশনির বকেয়া, ধার-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য—সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দগঞ্জে ৬ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


গোবিন্দগঞ্জে ৬ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকার মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে, এই জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গোলাপবাগ বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল ৫ টার দিকে গোলাপবাগ বাজারের একটি গুদামে অভিযান করা হয়। সেই অভিযানে সেখান থেকে ১০০টি চায়না দুয়ারি জাল এবং ৭০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।

অভিযান শেষে, উপজেলা চত্বরে জব্দ করা এই জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে পাস হলো বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


সংসদে পাস হলো বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল

জাতীয় সংসদে বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল–২০২৬’ সংসদে পাস হয়ে গেছে, যা ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’কে রহিত করে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিলটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন। বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য বিলটি বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।

আলোচনা শেষে তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং পরে বিলটি কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি করা হয়েছিল, তবে সেই আইন কার্যকর হয়নি।

নতুন আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

বাস্তবতার নিরিখে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই আইন করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%