মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কালজয়ী গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু জন্মদিন পালন নয়, আমরা আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব করব। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা গাইবেন।’
তিনি জানান, বাউল উৎসব, লালন উৎসব ও হাসন উৎসবের পাশাপাশি যাত্রা ও সার্কাসকে নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবার নিয়ে দর্শকরা এসব সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে পারেন।
দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
বাংলা লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলার পথিকৃৎ আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম, মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল।
মহাপরিচালক মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা আবেগকে তিনি সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরেছেন।’
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনধারাকে ভাওয়াইয়া সুরের মাধ্যমে আব্বাসউদ্দীন এমন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এছাড়া নজরুলের ইসলামি গান জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আব্বাসউদ্দীন আহমদের সৃষ্টি ও সংগীত-ঐতিহ্যকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় তাঁর জনপ্রিয় গান।
শিল্পী রেজাউল করিম লিমন ‘প্রাণ সখীরে, ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’ এবং ‘পরের অধীনে কইরাছে আমায়’ পরিবেশন করেন।
এরপর নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রাহাত আরা গীতি। শিল্পী নোশীন লায়লা গেয়ে শোনান ‘সে যেন কী করলোরে আমায়’ ও ‘আমায় এত রাত কেন ডাক দিলি প্রাণ কোকিলারে’। শিল্পী সালাউদ্দিন আহমদ পরিবেশন করেন ‘ভুলে যেও ভুলে যেও’ এবং ‘কুঁচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল পরিবেশন করেন আব্বাসউদ্দীনের কালজয়ী গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’। সবশেষে আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমির শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এবং ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’।
বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা এবং দেশের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সবার জন্য ছিল উন্মুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দাপট প্রদর্শন করেছিল। স্কোরবোর্ডে তাদের রান ছিল ৩২৫, হাতে চারটি উইকেট। নতুন বল তখনও প্রায় অব্যবহৃত ছিল। কিন্তু এরপরই ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে দেন মিচেল স্টার্ক। মাত্র পাঁচ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ চার উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায়।
দিনের শেষ ভাগে অসাধারণ বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার ছয় উইকেট দখল করেন। দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো এক ওভারে দুটি উইকেট নেন তিনি। স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
রায়ান রিকেলটন এবং মার্কো ইয়ানসেনের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ভালো অবস্থানে ছিল। এই দুইজন মিলে ৯৫ রান যোগ করেন। ৪২ রান করা রিকেলটনকে এলবিডব্লিউ করে স্টার্ক এই জুটি ভাঙেন। তার বলটি ছিল প্রায় ইয়র্কার। এরপর ৫২ রান করা ইয়ানসেনকে ইনসুইংয়ে বোল্ড করেন তিনি। স্টার্কের সেই ডেলিভারি ২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে বোল্ড করার মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম বলেই বোল্ড হন জেরাল্ড কোয়েটজি। দুই বল পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কাগিসো রাবাদা। সাইমন হার্মার শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া দুই ওপেনারের ১৫৮ রানের জুটি দেখেছিল। অথচ দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে এসেছে। স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ধলপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে, যার নাম মারুফ ওরফে দুখু মিয়া (১৭)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধলপুর ওয়াসার গেট সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি রাখার গ্যারেজের ভেতর এই গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফের খালাতো বোন বিথী আক্তার জানিয়েছেন, সে তার মা সেলিনা বেগম ও স্ত্রী মিমের সঙ্গে ধলপুর সিটি পল্লীতে বসবাস করত। তার বাবা মৃত আব্দুর রশীদ। এক বছর আগে মারুফের বিয়ে হয়েছে। দয়াগঞ্জে অ্যালুমুনিয়াম পাতিল কারখানায় কর্মরত ছিল মারুফ।
বিথী আরও জানান, সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে আসে মারুফ। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীকে জানিয়ে বাসার বাইরে চলে যায় সে। এরপর তারা জানতে পারেন, ওয়াসা গেটে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মারুফের গলার নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মারুফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, এলাকার কারও সঙ্গে মারুফের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কে বা কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে পরিবার কিছু জানাতে পারেনি।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ওই কিশোরের গলার নিচে একটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ৯০ টাকা পাওনা পরিশোধের পর কথোপকথনের এক পর্যায়ে এক ভ্যারাইটিজ ব্যবসায়ীর রডের আঘাতে টেইলার (দর্জি) আলিফ উদ্দিন খুন হয়েছেন।
এ ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর বাজারের সায়পুর রেলক্রসিংয়ের পাশে। নিহত আলিফ উদ্দিন আতুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, টেইলার আলিফ উদ্দিনের পাশের দোকানে ভ্যারাইটিজ ব্যবসা করেন সায়পুর গ্রামের ইমাম উদ্দিন। আলিফের কাছে ইমামের ৯০ টাকা পাওনা ছিল। টাকা চাইলে আলিফ তা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে ফিরে যাওয়ার সময় দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইমাম রড দিয়ে আঘাত করলে আলিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাঠালিয়া উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ সিফাত। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং সময়োপযোগী পরামর্শ দিয়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন।
বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল ও নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে কৃষকদের মাঝে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন মহিবুল্লাহ সিফাত। বিশেষ করে নিরাপদ সবজি চাষ, জৈব সার ও বালাইনাশকের সুষম ব্যবহার, এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকরা জানান, অতীতে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় অনেক সময় উৎপাদন খরচ বেশি হতো এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া যেত না। কিন্তু উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ সিফাতের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ পাওয়ার পর থেকে তাদের ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে এবং ফলনও বেশ ভালো হচ্ছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় তিনি ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ সিফাত বলেন, "বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তিগুলো মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ পান, তবে কম খরচে বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। কাঠালিয়ার প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং কৃষিকে লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
কৃষক"রা" মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে এভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকলে কাঠালিয়া উপজেলা শুধু নিজের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ