০৫:১২ পি.এম
লন্ডনে বসবাসরত একটি মেয়ের ওপর তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে এবং মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইছেন একটি মা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা রেখা খাতুন চৌধুরী। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার শাপলাবাগ এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেখা খাতুন চৌধুরী জানান, তার মেয়ে আনিকা হক চৌধুরীর বিয়ে আফজালুর রহমান জুলুর ছেলে রোম্মান আলমের সঙ্গে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের কিছুদিন পরে স্বামী রোম্মান আলম লন্ডনে চলে যান। তারপর থেকে দেশে স্বামীর বাসায় থাকার সময় আনিকার ওপর তার ভাসুর রুহুল আমিন এবং শাশুড়ি নাসিমা বেগম রিনু বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
আরও পড়ুন: সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা
বিয়ের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শাশুড়ি তার মেয়েকে বাবার বাসায় আসতে দেননি। তখন আনিকা তার মাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, স্বামী তাকে লন্ডন নিয়ে গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর আনিকাকে লন্ডন নিয়ে যান তার স্বামী রোম্মান আলম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তার ওপর আরও নির্মম নির্যাতন শুরু হয়। রোম্মান আলম এবং তার পরিবারের লোকজনের হুমকি, নির্যাতন এবং আচরণ বোঝাচ্ছে, আনিকা বর্তমানে তাদের কাছে নিরাপদ নয় এবং যেকোনো সময় তারা পরিকল্পনা করে লন্ডনে তাকে হত্যা এবং লাশ গুম করতে পারে। মেয়ের ওপর অকথ্য নির্যাতনের খবর যাতে দেশে জানাতে না পারে, সেজন্য তার স্বামী তার মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নিয়েছেন।
রেখা খাতুন চৌধুরী অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী কোনো কাজ না করে ঘরে বসে থাকেন এবং আনিকাকে দিয়ে চাকরি করিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য করেন। প্রতি সপ্তাহের আয়ের পুরো টাকা রোম্মান নিয়ে নেন। আনিকা যদি টাকা দিতে না চান, তবে তার ওপর তীব্র নির্যাতন চালানো হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় শাহপরাণ থানা এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
নির্যাতিতার মা আরো অভিযোগ করেন, মেয়ের জামাই রোম্মান আলমের আপন চাচা বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশে তার ভাইয়ের বউ (আনিকার শাশুড়ি) এবং ভাতিজার (ভাসুর রুহুল আমিন) সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তিনি লন্ডনে থাকা আনিকা এবং দেশে থাকা তার বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ এবং অশালীন আচরণ করতে সহায়তা করে আসছেন। এমনকি তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মিলে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তে বাধা দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় সার্ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অংশ নেবে ছয় দেশের প্রতিনিধিদল
সংবাদ সম্মেলনে রেখা খাতুন চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি যা বলে বেড়াচ্ছেন এবং থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তার কোনো সত্যতা নেই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, তাই আপনারা কোনো বিচার পাবেন না। আমি নাকি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তাদের সম্মান নষ্ট করছি। অথচ আমি তাকে মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ভাইয়ের বউয়ের অকথ্য গালিগালাজ এবং তার দুই ভাতিজা রোম্মান ও রুহুলের আচরণের ভিডিও ফুটেজও দেখিয়েছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তার চাচা শ্বশুর সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে জানালে তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে গালিগালাজ করেন এবং নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।’
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর মনে করে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের স্বার্থে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে রোম্মান আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি করেছেন অসহায় এই মা।
আরও পড়ুন: তৃতীয় দিনে দুই জাহাজে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন ২ হাজার ১০০ পর্যটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন